চাষী নজরুল আর নেই

প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলাম ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

রোববার ভোর পাঁচটা ৫১ মিনিটে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন একুশে পদক বিজয়ী এই চলচ্চিত্র নির্মাতা।

শনিবার সকাল থেকে ‘লাইফ সাপোর্টে’ ছিলেন চাষী নজরুল। চিকিৎসক সৈয়দ আকরাম গতকাল জানিয়েছিলেন, সকাল ১০টার দিকে চাষী নজরুলের রক্তচাপ মারাত্মকভাবে কমে যায়। তার শ্বাস-প্রশ্বাস নিতেও খুব কষ্ট হচ্ছিল। এ অবস্থায় কৃত্রিমভাবেই তার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করা হয়।

বেশ কিছুদিন ধরে এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন চাষী নজরুল। গত বুধবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে সাধারণ কেবিন থেকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেয়া হয়।

রোববার সকাল ১০টার দিকে চাষী নজরুল ইসলামের মরদেহ রাজধানীর কমলাপুরে ৯ নম্বর জসীমউদ্দীন রোডে নিজ বাসভবনে নেয়া হয়। দুপুর ১টা পর্যন্ত মরদেহ সেখানে রাখা হবে বলে জানা গেছে। পরে তার মরদেহ নেয়া হবে বারডেমের হিমঘরে। আগামীকাল সোমবার সকাল ১০টায় মরদেহ নেয়া হবে এফডিসিতে। সেখানে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে তার মরদেহ নেয়া হবে। বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম মসজিদে জানাজা হবে। জানাজার পর সেখান থেকে মরদেহ নেয়া হবে গ্রামের বাড়ি বিক্রমপুরে। সেখানে সর্বশেষ জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হবে।

চাষী নজরুল ইসলাম ১৯৪১ সালের ২৩ অক্টোবর মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর থানার সমষপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মোসলেহ উদ্দিন খান। মা শায়েস্তা খানম। চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়।

১৯৫৫ সালে টাটানগরে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্রে প্রথম অভিনয় করেন প্রখ্যাত এই নির্মাতা। ১৯৬০ সালে ফতেহ লোহানীর সঙ্গে ‘আসিয়া’ ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন। এরপর কাজ করেন ওবায়েদ উল হকসহ আরো অনেকের সঙ্গে। অভিনয়ও করেন কিছু ছবিতে। ১৯৭২ সালে পরিচালনা করেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম পূর্ণাঙ্গ ছবি ‘ওরা ১১ জন’। ছবিটি দারুণ প্রশংসিত হয়।

চাষী নজরুল ইসলাম সব মিলিয়ে ৩৫টির মতো ছবি নির্মাণ করেন। এর মধ্যে ছয়টি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক। তার পরিচালিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলো হলো—‘সংগ্রাম’, ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’, ‘মেঘের পরে মেঘ’, ‘ধ্রুবতারা’, ‘শহীদ ক্যাপ্টেন সালাউদ্দীন’, ‘দেবদাস’, ‘শুভদা’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’, ‘হাছন রাজা’, ‘শাস্তি’, ‘সুভা’ ইত্যাদি।



মন্তব্য চালু নেই