গোপন দুর্বলতা যে খাবারে হবে দূর!

দাম্পত্যজীবনে শারীরিক দুর্বলতার কারণে মানসিক অশান্তিতে ভোগেন অনেকে। সংস্কার, অপসংস্কার বা কুসংস্কারের জন্য অনেকেই এ দুর্বলতার চিকিৎসা নেন না। এর বড় কারণ হচ্ছে মনস্তাত্ত্বিক, হরমোনের অভাবে বা মস্তিষ্কের রোগের কারণেও এ সমস্যা হতে পারে।

চিকিৎসকের মতে, পুরুষদের রক্তনালী সরু হয়ে যাওয়া বা শিরায় যথেষ্ট রক্ত ধারণ করতে না পারাটাও এসব সমস্যার জন্ম দেয়।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শারীরবৃত্তীয় ও মানসিক যেসব পরিবর্তন হয় তাতে প্রভাব পড়তে পারে। কিছু রোগ যেমন- ডায়াবেটিস, স্থূলতা, প্রস্টেট গ্রন্থি বড় হওয়া, উচ্চ রক্তচাপ, হরমোনের সমস্যায় দাম্পত্য জীবনে প্রভাব ফেলে। ধূমপানও অঙ্গের উত্থান ব্যাহত করে।

শুধু তাই নয় কিছু ওষুধ পুরুষের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়- যেমন মানসিক রোগের ওষুধ, স্টেরয়েড, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ওষুধ, নেশা উদ্রেককারী ওষুধ ও এলকোহল সেবন পুরুষত্বে সমস্যা হয়। শিরদাঁড়া বা মেরুদণ্ডে আঘাতেও সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়া ডিপ্রেশন, মানসিক চাপ বা উত্তেজনাও লিঙ্গোত্থানে সমস্যা হয়।

আমাদের আশপাশে তথাকথিত হারবাল, কবিরাজ, ভেষজ নামধারী ভুয়া যৌন চিকিৎসকের অভাব নেই। দেখা যায়, সাধারণ মানুষজনই তাদের খপ্পরে বেশি পড়ে থাকে আর যৌন শক্তি আগে যতটুকু ছিল তাদের চিকিৎসা নিতে নিতে একসময় সেটাও হারাতে বসে।

তাই সময়ের আগেই সাবধান হয়ে যান। আর ভূয়া চিকিৎসা নয়, প্রকৃত জটিল কোনও সমস্যা না থাকলে আপনার গোপন শক্তি বৃদ্ধির জন্য কোনও প্রকার ওষুধের প্রয়োজন নেই। এর জন্য দৈনন্দিন পুষ্টিকর খাবারই যথেষ্ট।

তাহলে দেরি কেন? আসুন জেনে নেই, গোপন শক্তি বৃদ্ধিতে কি কি খাবার আপনাকে সাহায্য করবে?

ডিম : ডিম সেদ্ধ হোক কিংবা ভাজি, সব ভাবেই ডিম যৌন স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি খাবার। ডিমে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি-৫ ও বি-৬ আছে যা শরীরের হরমোনের কার্যক্রম ঠিক রাখে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিনের সকালের নাস্তায় একটি করে ডিম রাখুন। এতে আপনার শরীর শক্তি পাবে এবং যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

মধু : সকালে খালি পেটে মধু খেলে পাকস্থলী পরিষ্কার হয়, দেহে অতিরিক্ত দূষিত পদার্থ বের হয়, গ্রন্থ খুলে দেয়, পাকস্থলী স্বাভাবিক হয়ে যায়, মস্তিস্ক শক্তি লাভ করে, স্বাভাবিক তাপে শক্তি আসে, রতি শক্তি বৃদ্ধি হয়। এতে মূত্রথলির পাথর দূর করে, প্রস্রাব স্বাভাবিক হয়, গ্যাস নির্গত হয় ও ক্ষুধা বাড়ায়। প্যারালাইসিসের জন্যও মধু উপকারী।

দুধ : যৌন শক্তি বৃদ্ধি এবং যৌবন ধরে রাখতে দুধের ভূমিকা অতুলনীয়। বিশেষ করে ছাগলের দুধ পুরুষের যৌন শক্তি বৃদ্ধিতে অসাধারণ ভূমিকা রাখে। দুধ রতিশক্তি সৃষ্টি করে দেহের শুষ্কতা দূর করে এবং দ্রুত হজমে সাহায্য করে। এছাড়া বীর্য সৃষ্টি করে, চেহারা লাল বর্ণকরে, দেহের অপ্রয়োজনীয় দূষিত পদার্থ বের করে দেয় এবং মস্তিষ্ক শক্তিশালী করে।

বাদাম ও বিভিন্ন বীজ : কুমড়োর বীজ, সূর্যমূখীর বীজ, চিনা বাদাম, কাজু বাদাম, পেস্তা বাদামে মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট আছে এবং এগুলো শরীরে উপকারী কোলেস্টেরল তৈরি করে। সেক্স হরমোনগুলো ঠিক মতো কাজ করার জন্য এ কোলেস্টেরল অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাই প্রতিদিন অল্প করে হলেও বাদাম খাওয়ার চেষ্টা করুন।

চিনি ছাড়া চা : প্রতিদিন দুধ-চিনি ছাড়া চা পান করলে শরীরে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। চা ব্রেইনকে সচল করে, রক্ত চলাচল বাড়ায় ও স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে। প্রতিদিন অন্তত দিন থেকে ৫ কাপ পর্যন্ত চিনি ছাড়া সবুজ চা বা রঙ চা খেলে যৌন স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং শরীরের ওজন কিছুটা হলেও কমে যায়।

রঙ্গিন ফল : যৌন স্বাস্থ্য ভালো রাখতে চাইলে প্রতিদিন খাবার তালিকায় রঙ্গিন ফলমূল রাখুন। আঙ্গুর, কলা, কমলা লেবু, তরমুজ, পিচ ইত্যাদি ফল যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত উপকারী।

রসুন : রসুনে অনেক উপকারিতা রয়েছে। রসুন ফোঁড়া ভালো করে, ঋতুস্রাব চালু করে, প্রস্রাব স্বাভাবিক করে, পাকস্থলী থেকে গ্যাস নির্গত করে, নিস্তেজ লোকদের মধ্যে যৌন ক্ষমতা সৃষ্টি করে, বীর্য বৃদ্ধি করে।

এছাড়া পাকস্থলী ও গ্রন্থর ব্যথা, এ্যাজমা এবং কাঁপুনি রোগেও উপকার সাধন করে। তবে গর্ভবতী নারীদের জন্য অধীক রসুন ব্যবহার ক্ষতিকর।

তৈলাক্ত মাছ : তৈলাক্ত মাছে রয়েছে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড যা সুস্থ যৌন জীবনের জন্য অত্যন্ত উপকারী। সামুদ্রিক মাছেও প্রচুর পরিমাণে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড থাকে। এটি শরীরে ডোপামিন বাড়িয়ে দেয় এবং মস্তিষ্কে উদ্দীপনা জাগিয়ে তোলে। তৈলাক্ত ও সামুদ্রিক মাছ খেলে শরীরের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় এবং গ্রোথ হরমোনের নিঃসরণ হয়। ফলে যৌন স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

পালংশাক : পালংশাকে আছে প্রচুর পরিমাণ ম্যাগনেসিয়াম। ম্যাগনেসিয়াম শরীরে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে।

জাপানের গবেষকদের মতে শরীরে রক্ত চলাচল বাড়লে যৌন উদ্দীপনাও বাড়ে।



মন্তব্য চালু নেই