কারাগারেও ম্যাচিং শাড়ি-ব্লাউজ পরবেন শশীকলা

কারাগারে বসে দলীয়, পরিচিত ও কোনো আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ দিচ্ছেন না ভারতের তামিলনাডুর রাজনীতিবিদ শশীকলা। কারাবাসের বয়স মাত্র তিন দিন। এ কয়দিনেই এক রকম হাঁপিয়ে উঠেছেন। বিষণ্নতায় ডুবে থাকছেন তার জন্য বরাদ্দ হওয়া কক্ষে। এর মাঝেও মিডিয়া ক্রেজ এই রাজনীতিবিদ কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে ম্যাচিং করা পোশাক চেয়েছেন।

সেই পোশাকের তালিকায় উল্লেখ করেছেন শাড়ির সঙ্গে ম্যাচ করা ব্লাউজ, সেন্ডেল ও প্রয়োজনীয় ম্যাচিং জিনিসপত্র।

ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ফ্যাশন সচেতন শশীকলাকে রাজনৈতিক অঙ্গনে সবসময়ই দেখা গিয়েছে ম্যাচিং করা পোশাক পরা অবস্থায়। কারাগারে বেশিরভাগ সময়ই মুখ ভার করে রয়েছেন প্রয়াত ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার ছায়াসঙ্গী চিন্নামা খ্যাত শশীকলা নটরাজন। সেল থেকে বেরুচ্ছেন না, এমনকি কারও সঙ্গে কথাও বলছেন না। কেউ দেখা করতে গেলেও তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন।

বেঙ্গালুরুর পারাপ্পানা আগ্রাহারা সেন্ট্রাল জেলের ১০৮ নম্বর সেলে রয়েছেন শশীকলা। সাধারণ মানের সেই সেলের মধ্যে অর্ধেক দেয়ালের আবডাল, তার ওপারে শৌচাগার। জেলের বিভিন্ন নিয়ম মানতে আপত্তি জানাচ্ছেন শশীকলা। কারাগারে ঢোকার সময় তার নামে তিনটি শাড়ি ও ব্লাউজ ইস্যু করা হয়েছে। এখন কয়েদিদের জন্য নির্দিষ্ট সাদা শাড়ি দেয়া হলেও, তার সঙ্গে ম্যাচিং ব্লাউজ না থাকায় সেই শাড়ি পরতে অস্বীকৃতি জানান।

এর আগে ১৫ ফেব্রুয়ারি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আত্মসমর্পণ করে নিজের জন্য প্রথম শ্রেণির সেলের দাবি জানিয়েছিলেন শশীকলা। সেই আবেদন খারিজ করেছে আদালত। কারাগারে শশীকলার জন্য বরাদ্দকৃত সেল জেলের প্রধান ফটক থেকে একটু দূরে। জেলের নিয়ম অনুযায়ী, প্রধান ফটক থেকে সেল পর্যন্ত যাওয়ার জন্য শশীকলাকে জিপে উঠতে বলা হয়। ক্ষিপ্ত হয়ে শশীকলা বলে ওঠেন, আমি কোনও ছিঁচকে চোর নই। ওই জিপে বসে যাব না। জেলের সেলে গিয়ে বসব। কিন্তু এক জন অপরাধীর মতো ওই খোলা জিপে বসে যাব না।

চিকিৎসকদের পরামর্শে তার জন্য সেলের ভিতরে একটি ছোট্ট চৌকির ব্যবস্থা করা হয়েছে। তার আত্মীয়া ইলাভরসিকেও একই সেলে রাখা হয়েছে। রাতে দুই-একবার ইলাভরসির সঙ্গে কথা বললেও আর কারো সঙ্গে কথা বলেননি শশীকলা।

সূত্রমতে, প্রথম রাতটা প্রায় বিনিদ্রই কেটেছে। ভোর পর্যন্ত জেগে ছিলেন চিন্নাম্মা। তারপর অল্প সময়ের জন্য শুয়েছিলেন। কিন্তু ঘণ্টাখানেক ঘুমিয়েই উঠে পড়েন। ঘুম থেকে উঠেও সেল ছেড়ে নড়েননি। কারও সঙ্গে কথা বলেননি, এমনকি তামিলনাড়ুতে কী চলছে, সে খবরও জানতে চাননি।

উল্লেখ্য, হিসাববহির্ভূত সম্পত্তি রাখার মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়েও দোষী সাব্যস্ত হন শশীকলা। সুপ্রিম কোর্ট বাড়তি সময় না দেয়ায় ১৫ ফেব্রুয়ারি চেন্নাই ছেড়ে বেঙ্গালুরু গিয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। তার সঙ্গে আত্মসমর্পণ করেন আত্মীয় সুধাকরণ ও ইলাবরসি।

১৯৯৬ জয়ললিতার বিরুদ্ধে তৎকালীন জনতা দলের নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ, ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন তার হিসাববহির্ভূত সম্পত্তির পরিমাণ ৬৬.৬৫ কোটি টাকা। ২০১৪-র ২৭ সেপ্টেম্বর হিসাব বহির্ভূত সম্পত্তি মামলায় তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা, তার পালিত পুত্র সুধাকরণ, ঘনিষ্ঠ বান্ধবী শশীকলা নটরাজন এবং আত্মীয়া ইলাবরসিকে চার বছরের কারাদণ্ডের সাজা শোনায় আদালত।

পরে কর্নাটক হাইকোর্ট তাদের বেকসুর খালাস করে দেয়। কিন্তু সেই রায়ের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে যান সেই রায় সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। এ দিন বেঙ্গালুরু কোর্টের রায় বজায় রাখল সুপ্রিম কোর্ট। এদিকে গত ডিসেম্বরে মারা যাওয়ায় মামলার রায়ে তামিলনাড়ুর চারবারের মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার ভূমিকার ব্যাপার কিছু বলা হয়নি। তবে জয়ললিলতার সহযোগী হিসেবে শশীকে দণ্ড দেয় আদালত।

ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।



মন্তব্য চালু নেই