এবার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন কামারুজ্জামান পুত্র

সোহাগপুরের গণহত্যার সঙ্গে কামারুজ্জামানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন তার বড় ছেলে হাসান ইকবাল।

সোমবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ চ্যালেঞ্জ দেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হাসান ইকবাল বলেন, ‘সোহাগপুর গণহত্যার সঙ্গে কামারুজ্জামানকে জড়িয়ে ইতিহাসের কোনো বই বা ডকুমেন্ট নেই। এটা আমরা চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি।’

লিখিত বক্তব্যে হাসান ইকবাল বলেন, ‘আমার বাবা কামারুজ্জামানকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি কখনো সোহাগপুর যাননি। এমনকি রাষ্ট্রপক্ষের দায়ের করা ফরমাল চার্জেও সোহাগপুর গণহত্যার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন, এমন অভিযোগ করা হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘এই মামলার মূল সাক্ষীর তালিকায় ৪৬ জনের নাম ছিল। তাদের মধ্যে ১০ জন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেওয়ার পর নতুন করে তিন মহিলাকে অতিরিক্ত সাক্ষী হিসেবে প্রসিকিউশন আদালতে উপস্থাপন করে। এই সাক্ষীরাও তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে প্রদত্ত জবানবন্দিতে গণহত্যার সময় আমার বাবা উপস্থিত ছিলেন, এমন দাবি করেননি।’

তিনি আরো বলেন, শেরপুরের গণহত্যা নিয়ে সাংবাদিক মামুনুর রশীদের সোহাগপুরের বিধবা কন্যারা, মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহমান তালুকদারের মুক্তিযুদ্ধে নালিতাবাড়ী বইয়ে এবং বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রাক্তন কনসালট্যান্ট এডিটর আফসান চৌধুরীর ‘ইন শ্রাবণ আই রিমেমবার দ্য ম্যাসাকার অব সোহাগপুর ইন ১৯৭১’ প্রবন্ধে কোথাও আমার বাবার নাম নেই।

হাসান ইকবাল আরো বলেন, ‘আমার বাবা কামারুজ্জামান সোহাগপুর কোনো হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কখনোই জড়িত ছিলেন না। রাজনৈতিক কারণে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ। এ মামলায় আনীত অভিযোগের সঙ্গে তার দূরতম সম্পৃক্ততা নেই। আশা করছি, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এই রায় পুনর্বিবিবেচনা করে আমার বাবাকে বেকসুর খালাস দিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন।’

কামারুজ্জামানের স্ত্রী, ভাইসহ সন্তানেরা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, সোহাগপুরের গণহত্যার দায়ে জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।



মন্তব্য চালু নেই