মেইন ম্যেনু

সিডরের স্মৃতি আজও কাঁদায়

১৫ নভেম্বর, সেই ভয়াল ঝড়ের রাত। ২০০৭ সালের এদিনে স্মরণকালের ভয়াবহ সামুদ্রিক ঝড় সিডর আঘাত হানে উপকূলে। লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় বরগুনাসহ উপকূলীয় এলাকা।

সাত বছর পেরিয়ে গেলেও কেউ ভোলেনি সে স্মৃতি। ধ্বংসের তাণ্ডবলীলা স্মরণ করে আজও কেঁদে ওঠে ক্ষতিগ্রস্তরা। স্বজন-সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া মানুষগুলো এখনও ফিরে যেতে পারেনি স্বাভাবিক জীবনে। একটুখানি মাথা গোঁজার ঠাঁই আর দুই বেলা দুই মুঠো খাবারের জন্য আজও নিরন্তন চেষ্টা চলছে।

সরেজমিনে সিডরের ক্ষতচিহ্ন বহন করা বরগুনার লতাকাটা, আয়লাপাতাকাটা, ছোনবুনিয়া, কুমিরমারা, পদ্মা, বুড়িরচর, সোনাতলা, নিশানবাড়ীয়া এলাকায় গিয়ে এমনই চিত্র দেখা গেছে।

সিডরের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সেদিন ঘড়ির কাঁটায় ঠিক রাত পৌনে ৮টা। ঘোষণা করা হয়েছে মহাবিপদ সংকেত। এ সংকেত পেয়ে আতঙ্কিত মানুষ দিকবিদিক ছুটোছুটি শুরু করে। শুরু হয় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। সঙ্গে বইতে থাকে দমকা বাতাস।

সচেতন কিছু মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে ছুটতে শুরু করলেও বেশিরভাগ মানুষ আঁকড়ে ধরে থাকতে চায় বসতবাড়ি। ঘড়ির কাঁটা রাত ১০টা স্পর্শ করতেই প্রবল বাতাসের সঙ্গে উঁচু ঢেউ আসতে থাকে। কয়েক মুহূর্ত যেতেই আঘাত হানে প্রলয়ংকরী সিডর।

সিডরের থাবায় কয়েক মিনিটেই উড়ে যায় ঘরবাড়ি, গাছপালা, গবাদী পশুপাখি। বঙ্গোপসাগরের সব পানি যেন যমদুত হয়ে উড়ে এলো উপকূলে। ভাসিয়ে নিয়ে গেল হাজারো মানুষ। মাত্র কয়েক মিনিটে লণ্ডভণ্ড গোটা এলাকা। যে যেভাবে পারল বেঁচে থাকার শেষ লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার চেষ্টা করলো। এরপর নিকষ কালোরাতের যমদূতের তাণ্ডবে আর কিছু চোখে পড়েনি।

পরদিন চারদিকে দিনের আলো। দেখা গেল শুধু ধ্বাংসলীলা। উদ্ধার করা হলো মৃতদেহের পর মৃতদেহ। তবে চারপাশে নেই দাফনের জায়গা। রাস্তার পাশে গণকবরে চাপা দেয়া হলো অসংখ্য হতভাগার লাশ। সিডর তাণ্ডবে গৃহহীন নিঃস্ব হল বরগুনার কয়েক লাখ মানুষ।

সিডরের ক্ষত বহনকরা বরগুনার লতাকাটা গ্রাম। এ গ্রামেরই একজন রহিম মিয়া। সিডরে তার দু’সন্তানসহ মাথা গোঁজার ঠাঁইটি ভেসে যায়। সন্তান হারানোর কষ্ট আজও ভুলতে পারেননি। ঘর-বাড়ি, গরু-ছাগল ও রোজগারের একমাত্র সম্বল মাছধরার জালসহ ছোট নৌকাও কেড়ে নিয়েছে সিডর। এমনি নিঃস্ব হওয়ার গল্প বরগুনার হাজারো রহিম মিয়ার।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস জানান, উপকূলে সিডরের আঘাতে শুধুমাত্র বরগুনা জেলাতেই প্রাণ হারিয়েছেন এক হাজার ৫০১ জন। মারা গেছে ৩০ হাজার ৪৯৯ গবাদীপশু, ছয় লাখ ৫৮ হাজার ২৫৯টি হাঁস-মুরগী। দুই লাখ ১৩ হাজার ৪৬১ টি পরিবারের সবাই কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্পূর্ণভাবে গৃহহীন হয়ে পড়ে ৭৭ হাজার ৭৫৪ টি পরিবার। এছাড়া আংশিক ক্ষতি হয় এক লাখ ১২ হাজার ৩১ টি বসতবাড়ির। এছাড়া রাস্তা ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, বিদ্যুৎসহ সবক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হয়।

বরগুনার কর্মসূচি: জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগ, বরগুনা প্রেসক্লাব, বরগুনা সাংবাদিক ইউনিয়ন সিডর দিবস পালনে পৃথক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

১৫ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৮টায় বরগুনা সদরের গর্জনবুনিয়া গণকবরে শ্রদ্ধা নিবেদন, সকাল সাড়ে ৯টায় শোক র‌্যালি। এরপর বরগুনা প্রেস ক্লাবে স্মরণ সভা হবে।






মন্তব্য চালু নেই