মেইন ম্যেনু

স্ত্রী হাসিনার বক্তব্যে গণমাধ্যমে বিভ্রান্তি

সালাহ উদ্দিনের জামিন আবেদন বাতিল

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমদের জামিনের আবেদন বাতিল করেছে শিলং জেলা জজ আদালত।

আদালতে শুক্রবার দুপুরে জামিন আবেদনের শুনানি হয়। শুনানিতে আইনজীবী এসপি মহান্ত সালাহ উদ্দিনের প্রতিপত্তি ও রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি তার স্বাস্থ্য সমস্যার কথা উল্লেখ করে জামিন প্রার্থনা করেন।

শুনানি শেষে আদালত রায় দেওয়ার জন্য সময় নেন। সন্ধ্যায় আদালত জামিন আবেদন বাতিল করেন।

এর আগে, সালাহ উদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা আহমদ শুনানি শেষে সাংবাদিকদের ফোনে জানান, তার স্বামী জামিন পেয়েছেন। ফলে সালাহ উদ্দিনের জামিন পাওয়ার খবরে গণমাধ্যমে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

সন্ধ্যায় আদালত জামিনের আবেদন বাতিলের রায় ঘোষণার পর কার্যত ভেঙে পড়েন হাসিনা আহমদ।

সালাহ উদ্দিনের আইনজীবী এসপি মোহন্ত জানান, সালাহ উদ্দিন হার্ট ও কিডনি রোগের জন্য সিঙ্গাপুরে প্রায় ২০ বছর ধরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাই তাকে জামিন দিয়ে সিঙ্গাপুর যাওয়ার অনুমতি দিতে আদালতে আবেদন করা হয়।

তিনি আরও জানান, আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সালাহ উদ্দিন স্বেচ্ছায় অনুপ্রবেশ করেননি, তিনি বাংলাদেশের সম্মানিত রাজনীতিক, তাকে অপহরণ করে শিলংয়ে ফেলে যাওয়া হয়েছে।

শিলং জেলা জজ আদালতে সরকার পক্ষের আইনজীবী জ্যোতি মরকা ও কোর্ট ইন্সপেক্টর কেবি প্রসাদ জামিনের বিরোধিতা করেন। জ্যোতি মরকা আদালতে বলেন, ‘সালাহ উদ্দিনকে যে অপহরণ করা হয়েছে, পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে তেমনটা জানায়নি। অপহরণ না অনুপ্রবেশ, আগে সেটা প্রমাণিত হোক। আর সালাহ উদ্দিনকে শিলংয়ের নামী হাসপাতালে ডাক্তারদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা করানো হচ্ছে। চিকিৎসায় সাড়াও মিলছে। এ ছাড়া ভারতের সংবিধানে অনুপ্রবেশ ধারায় আটক বিদেশীদের অন্যদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ নেই।’

দুই পক্ষের আইনজীবীদের কথা শুনে আদালত জামিন আবেদন বাতিল করেন।

এর আগে, বুধবার শিলং জেলা জজ আদালতের নিম্ন এজলাস সালাহ উদ্দিনকে ১৪ দিনের বিচারিক হেফাজতে পাঠান। এরপর অসুস্থ বোধ করায় বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় শিলংয়ের নেগ্রিমস হাসপাতালে নেওয়া হয় সালাহ উদ্দিনকে।

সালাহ উদ্দিনকে নেগ্রিমস (নর্থ ইস্টার্ন ইন্দিরা গান্ধী রিজিওনাল ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্স) হাসপাতাল থেকে মঙ্গলবার থানাহাজতে নেয় শিলং পুলিশ। ১১ মে বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিবকে অনুপ্রবেশের দায়ে আটকের পর প্রথমবারের মতো তাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।

এর আগে, পুলিশি পাহারায় তিনি শিলংয়ের মানসিক হাসপাতাল, সিভিল হাসপাতাল ও নেগ্রিমসে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

বিনা পাসপোর্টে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে শিলংয়ের পুলিশ সালাহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ‘ফরেনার্স অ্যাক্ট-৪৬’-এ মামলা করে। ১১ মে শিলংয়ের গলফ-লিংক এলাকার লোকজন তাকে সেখানে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে পাস্তুর পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। পরে তাকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয় সেখানকার সিভিল হাসপাতালে। এরপর শিলং সদর পুলিশ থানা থেকে নেওয়া হয় মানসিক হাসপাতাল মিমহানসে।

সেখানে এক দিন রাখার পর মিমহানস থেকে আবারও তাকে পাঠানো হয় সিভিল হাসপাতালে। এরপর ২০ মে সিভিল হাসপাতাল থেকে সালাহ উদ্দিনকে স্থানান্তরিত করা হয় নেগ্রিমসে।






মন্তব্য চালু নেই