মেইন ম্যেনু

সাবেক এমপির পুত্রবধূ হত্যা, নাকি আত্মহত্যা!

যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনের প্রাক্তন এমপি খান মো. টিপু সুলতানের পুত্রবধূ শামারুখ মেহজাবিন (২৬)এর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রাজধানীর ধানমন্ডি-৬-এর নিজ বাসা থেকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ধানমন্ডি-৬ এর ১৪ নং বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের স্বামীর নাম হুমায়ুন সুলতান। তাদের উভয়ের বাড়ি যশোরের মনিরামপুরে।

ধানমন্ডি থানার এসআই সাজ্জাদ জানান, খবর পেয়ে ওই বাসা থেকে গলায় ফাঁস পরানো অবস্থায় মেহেজাবিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারের পর মেহেজাবিনের লাশ সেন্ট্রাল হাসপাতালে রাখা হয়।

এ ঘটনা হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা তদন্তের পর জানানো হবে বলে জানান পুলিশ। আর জন্য মেহজাবিনের স্বামী হুমায়ুনকে আটক করে ধানমন্ডি থানায় নেওয়া হয়েছে। তবে মৃত্যুর ঘটনাটি রহস্যময় বলে উল্লেখ করেছেন এসআই সাজ্জাদ।

নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মেহজাবিনকে হত্যার অভিযোগ করা হয়েছে। নিহতের মামা ইঞ্জিনিয়ার কাজি ফিরোজ  জানান, মেয়ের বাবা যশোরের প্রাক্তন পিডিবির ইঞ্জিনিয়ার নুরুল ইসলাম তাকে ফোন করে মেয়ের খোঁজ নিতে বলেন। কারণ এর কয়েকঘণ্টা আগে নাকি মেয়ের শ্বশুর বাড়ির লোকজন ফোন করে বলেছে মেহজাবিন আত্মহত্যার হুমকি দিচ্ছে। এর পর তিনি ধানমন্ডিতে গিয়ে ভাগ্নির লাশ দেখতে পান।

তিনি আরো জানান, মেহজাবিনের গলার দুপাশে কালো দাগ দেখা গেছে। দাগটি ফাঁসের দাগ নয়। এটি সম্ভবত দুহাতে গলা চেপে ধরার দাগ। তা ছাড়া লাশের দেহ দেখে মনে হয়েছে আজ তার মৃত্যু হয়নি। একদিন বা দুদিন আগে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। কারণ লাশের শরীর ইতিমধ্যেই নরম হয়ে গেছে। কান্না চাপতে চাপতে এভাবে বর্ণনা করেন কাজি ফিরোজ। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।

মেহজাবিন ২০১৩ সালে হলিফ্যামিলি রেডক্রিসেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হসপিটাল থেকে ডাক্তারি পাশ করেন। তবে পাশের পর কোথাও যোগদান করেননি তিনি।

এদিকে, নিহতের বাবা খবর পেয়ে যশোর থেকে প্লেনযোগে রাত নয়টার দিকে ঢাকায় চলে আসেন। মেয়ের লাশ দেখে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। কাঁদতে কাঁদতেই উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘টিপুর পরিবারের সদস্যরা আমার মেয়েকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রেখেছিল। বিয়ের আগে ছেলে (হুমায়ুন) ব্যারিস্টার বললেও আদতে সে কেবলমাত্র ‘ল’ পাশ করেছে। সে বেকার, সম্পূর্ণ পরিবারের ওপর নির্ভরশীল।

তিনি আরো বলেন, “গত ১১ নভেম্বর আমার মেয়ে ফোন করে বলেছিল, ‘বাবা ওরা আমাকে দিয়ে গৃহকর্মের কাজ করায়। থালাবাটি পরিস্কার করায়। পড়তে দেয় না। বলে, এতো পড়ে কি হবে? আমাকে এফসিপিএস পরীক্ষা দিতে নিষেধ করেছে। বিসিএসের ফরম পূরণ করতে দেয়নি। এতো কিছুর পরেও আমার শ্বশুর বা শ্বাশুড়ি কিছু বলে না।” এই বলে তিনি আবারো কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তিনি থানায় একটি হত্যা মামলা করবেন বলে জানান সাংবাদিকদের।

অন্যদিকে, সাংবাদিকরা নিহতের শ্বশুর-শ্বাশুড়ির বক্তব্য নিতে ধানমন্ডিতে গেলে বাসার দারোয়ান কাউকে বাসায় ঢুকতে দেয়নি। এ ছাড়া রাত সাড়ে নয়টার দিকে নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য সেন্ট্রাল হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই