মেইন ম্যেনু

শ্বশুর বাড়িতেই জামাইকে পিটিয়ে হত্যা, আটক-৩

জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হাসেম আলী বাড়িতে হামলা চালিয়ে ওলি উল্ল্যাহ খোকন (৩৫) নামের ওই বড়ির এক মেয়ের জামাইকে পিটিয়ে হত্যা করেছে শ্বশুরের প্রতিপক্ষ।

এ সময় ওই বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে হামলাকারীরা। এ ঘটনায় পুলিশ নারীসহ ৩ জনকে আটক করেছে।

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ছাদুল্ল্যাপুর গ্রামে বুধবার এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ওলি উল্ল্যাহ খোকন উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের উত্তর নলুয়া গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।

আটকরা হলেন- ইউনিয়নের ছাদুল্ল্যাপুর গ্রামের মৃত সুলতান আহমদের ছেলে আব্দুল হাকিম (৭০), আব্দুল হাকিমের স্ত্রী মানোজা খাতুন (৬০) ও তাদের জামাতা মো. হানিফ (৪০)।

নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বুধবার সকালে আটক আব্দুল হাকিম, তার ছেলে মজিবুর রহমানসহ ১০/১৫জন নিহতের শ্বশুর আবুল খায়েরের বাড়ির পাশের পুকুর পাড় থেকে তাদের বাঁশ কেটে নিয়ে যাচ্ছিল। এসময় আবুল খায়েরের স্ত্রী পুকুরের অপর প্রান্ত থেকে তাদের বাঁশ কাটতে নিষেধ করে।

এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে হাকিম, মজিবসহ তাদের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে খায়েরের বসত ঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে। এসময় বাড়িতে থাকা মহিলা ও শিশুসহ ৫/৬ জনকে পিটিয়ে জখম করে হামলাকারীরা। পরে হামলাকারীরা খায়েরের বাড়ির দরজা অবরোধ করে রাখে।

পরে খায়ের তাদের ভয়ে বাড়ির পিছন দিয়ে পালিয়ে গিয়ে হামলা, ভাংচুর ও মারধরের ঘটনায় ১০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত নামা আরও ১২/১৪ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন।

আবুল খায়ের মামলা করতে থানা গেছে এমন খবর পেয়ে হাকিম ও তার ছেলে মুজিবুর রহমান তাদের লোকজন নিয়ে পুনরায় খায়েরের বাড়িতে হামলা চালায়।

এ সময় তারা খায়েরের মেয়ের কুয়েত প্রবাসী জামাই ওলি উল্ল্যাহ খোকনে ঘরের মধ্যে একা পেয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করে ফেলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন খোকনকে উদ্ধার করে প্রথমে নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, পরে রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও অবস্থার অবনতি ঘটলে বঙ্গবন্ধু মেডকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের শ্বশুর আবুল খায়ের বলেন, ‘১৬ অক্টোবর খোকনের কুয়েত যাওয়ার তারিখ ছিল। তাই সে বুধবার সকাল ৯টার দিকে আমাদের বাড়িতে আসে সবার সাথে দেখা করার জন্য। হাকিম ও তার ছেলে মজিব তাদের লোকজন নিয়ে আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে খোকনকে বেদম পিটিয়ে জখম করে। এ সময় তারা আমাদের ঘর থেকে নগদ ৭০ হাজার টাকা, স্বর্ণসহ প্রয়োজনীয় জিনিস লুট করে নিয়ে যায়।’

এ ব্যাপারে কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিহতের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হামলার ঘটনায় নিহতের শ্বশুর বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত নামা আরও একাধিক ব্যাক্তিকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন।

ওসি আরও জানান, মামলার প্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে মামলার ৯, ১০ নং আসামি মনোজা খাতুন, আব্দুল হাকিম ও ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে তাদের জামাই হানিফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার শ্বশুরের করা হামলার ঘটনায় ওই মামলাটি এখন হত্যা মামলা হিসেবে নেওয়া হবে।






মন্তব্য চালু নেই