মেইন ম্যেনু

লতিফের জামিন ফের নাকচ

হজ ও তাবলীগ জামাত নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর জামিন আবেদন ফের নাকচ করলেন ম্যাজিস্ট্রেট।

রোববার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিম শুনানি শেষে নামঞ্জুরের আদেশ দেন।

আসামিপক্ষে জামিন শুনানী করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। শুনানীতে ব্যারিস্টার বড়ুয়া বলেন, ‘মামলার ধারা জামিনযোগ্য এবং আসামি অসুস্থ, তাই তিনি জামিন পেতে পারেন।’

অপরদিকে বাদিপক্ষে জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন অ্যাডভোকেট এএনএম আবেদ রাজা। তিনি বলেন, ‘এ আসামি বিশ্বের সব মোসলমানের হৃদয়ে আঘাত দিয়েছেন।’

গত ২ অক্টোবর লায়ন আবু বকর সিদ্দিক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুর রহমানের আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের একটি হোটেলে নিউইয়র্কে বসবাসরত টাঙ্গাইলবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন লতিফ সিদ্দিকী।

এসময় তিনি বলেন, ‘আব্দুল্লাহর পুত্র মোহাম্মদ চিন্তা করলো এ জাজিরাতুল আরবের লোকেরা কীভাবে চলবে? তারাতো ছিল ডাকাত। তখন সে একটা ব্যবস্থা করলো যে আমার অনুসারীরা প্রতিবছর একবার একসঙ্গে মিলিত হবে। এর মধ্য দিয়ে একটা আয়-ইনকামের ব্যবস্থা হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি হজ আর তাবলিগ জামাতের ঘোরতর বিরোধী, জামায়াতে ইসলামিরও বিরোধী, তবে তার চেয়েও বেশি হজ ও তাবলিগ জামাতের।’

হজ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের এ প্রবীণ নেতা বলেন, ‘হজের জন্য ২০ লাখ লোক সৌদি আরবে গিয়েছে। এদের কোনো কাম নাই। এদের কোনো প্রডাকশন নাই। শুধু রিডাকশন দিচ্ছে। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা দিয়ে আসছে।’

এ সময় তাবলিগ জামাতের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘তাবলিগ জামায়াত প্রতিবছর ২০ লাখ লোকের জমায়েত করে। নিজেদেরতো কোনো কাজ নেই। সারা দেশের গাড়িঘোড়া তারা বন্ধ করে দেয়।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়েও বিরূপ মন্তব্য করেন মন্ত্রী। এর পরই দেশে-বিদেশে ব্যাপক তোপের মুখে পড়েন তিনি। তাকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

গত ২৩ নভেম্বর রাত ৮টা ৪০ মিনিটে দেশে ফেরেন লতিফ সিদ্দিকী। তার গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠে ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনৈতিক দল।

এরপর গত ২৬ নভেম্বর ধানমন্ডি থানায় আত্মসমর্পণ করলে পুলিশ তাকে আদালতে পাঠিয়ে দেয়। ওইদিন তিনি কোন আইনজীবী নিয়োগ না দেওয়ায় ও জামিন না চাওয়ায় বিচারক লতিফ সিদ্দিকীকে জেলহাজতে পাঠিয়ে দেন।






মন্তব্য চালু নেই