মেইন ম্যেনু

ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা

র‌্যাব অধিনায়কসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার নবীনগরের ব্যবসায়ী শাহীনূরকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে র‌্যাব-১৪ এর অধিনায়ক (সিও) এ জেড এম শাকিব সিদ্দিকীসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে।

রোববার দুপুরে নবীনগর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুন নাহারের আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন নিহত ব্যবসায়ীর বড় ভাই মো. মেহেদী।

এতে রাব-১১ এর অধিনায়ক মেজর এ জেড এম শাকিব সিদ্দিকী ছাড়াও উপপরিদর্শক (এসআই) মো. এনামুল হক ও দুইজন সোর্সসহ অজ্ঞাতনামা আরো সাতজনকে বিবাদী করা হয়েছে।

ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগপত্রটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করতে আগামী ৪ জুন অধিকতর শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন। এর আগে বাদী পক্ষে মামলার শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খায়রুল আনাম।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৯ এপ্রিল দুপুরে র‌্যাব-১৪ এর ভৈরব ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর এ জেড এম শাকিব সিদ্দিকীর নেতৃত্বে একটি দল ব্যবসায়ী শাহীনূরকে নবীনগরের বগডহরে তার নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। তাকে নবীনগর থানায় হস্তান্তর না করেই ভৈরব ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শাহীনূরকে নির্মমভাবে পিটিয়ে জখম করা হয়। বেধড়ক পেটানোর কারণে একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরদিন ৩০ এপ্রিল নবীনগর থানায় একটি মামলা দিয়ে ওই ব্যবসায়ীকে কারাগারে পাঠান।

নির্যাতনে আহত শাহীনূর ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ৪ মে কারা কর্তৃপক্ষ প্রথমে তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে সদর হাসপাতাল থেকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। গত ৬ মে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে তার মৃত্যু হয়।

গত ২০ মে এ ঘটনার প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন নিহত ব্যবসায়ী শাহীনূরের বড় ভাই মো. মেহেদী। সেখানে তার ভাইয়ের মৃত্যুর জন্য র‌্যাব-১৪ এর কর্মকর্তাদের দায়ী করে বলা হয়, র‌্যাব ক্যাম্পে নির্মম নির্যাতনের কারণেই শাহীনূরের মৃত্যু হয়েছে।

এর আগে গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাতজনকে অপহরণ করে হত্যার অভিযোগ ওঠে র‌্যাব-১১ এর অধিনায়কসহ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হন র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মাহমুদ, সাবেক অধিনায়ক মেজর আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার এম এম রানা।

এর আগে সাত খুনের সঙ্গে র‌্যাব-১১ এর কয়েকজন কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেন নিহত নজরুলের পরিবারের সদস্যরা। নজরুলের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ৬ কোটি টাকার বিনিময়ে র‌্যাব তাদের হত্যা করেছে। এ অভিযোগের পর গত ৬ মে র‌্যাব-১১ এর অধিনায়কসহ তিন কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।






মন্তব্য চালু নেই