মেইন ম্যেনু

স্কুল শিক্ষিকার দাফন অনুষ্ঠানে স্বজনদের ক্ষোভ

‘যারা আন্দোলন করে, তারা তো জীবন দেয়নি’

‘শামসুন নাহার ছিলেন সাধারণ পথযাত্রী। কী দোষ তাঁর? তাঁর তো এভাবে জীবন দেওয়ার কথা ছিল না। যারা আন্দোলন করে, তারা তো জীবন দেয়নি, আমাদের বেলায় এ রকম হবে কেন? আমাদের জীবন নিয়ে যারা আন্দোলন জমাতে চায়, তাদের বিচার চাই।’

পিকেটারের ইটের আঘাতে নিহত স্কুলশিক্ষিকা শামসুন নাহারের মরদেহ দাফনের সময় তাঁর ভাশুর মো. ইউসুফ আজ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের কাছে এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আজ সকাল ১০টার দিকে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর পোড়াগাছা ইউনিয়নের চর বেদমা গ্রামে শ্বশুরবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে শামসুন নাহারের মরদেহ দাফন করা হয়।

কুয়াশা আর তীব্র শীত উপেক্ষা করে চর বেদমা গ্রামের হাজারেরও বেশি মানুষ শামসুন নাহারের জানাজায় যোগ দেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় চর পোড়াগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন, চর বাদাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদ মোল্লা, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, রামগতি পৌরসভার সাবেক মেয়র আজাদ উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ।

গতকাল সোমবার ২০-দলীয় জোটের হরতাল চলাকালে নোয়াখালীতে পিকেটারদের ছোড়া ইটের আঘাতে নিহত হন স্কুলশিক্ষিকা শামছুন নাহার। নোয়াখালী শহরের উজ্জ্বলপুর এলাকায় মাইজদী-সোনাপুর সড়কে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তিনি একটি কাভার্ড ভ্যানে চড়ে স্বামী-সন্তানের সঙ্গে ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছিলেন।

শামসুন নাহার লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর পোড়াগাছা ইউনিয়নের চরবেদমা গ্রামের শাহজাহান সিরাজের স্ত্রী ও লক্ষ্মীপুর জেলা সদরের সোনালি কলোনির অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক আলী হোসেনের মেয়ে। তিনি ঢাকার আগারগাঁওয়ে তাওহীদ ল্যাবরেটরি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। তার স্বামী ঢাকায় আলিকো লাইফ ইনস্যুরেন্সের আনোয়ার এজেন্সির ব্যবস্থাপক পদে কাজ করেন। তার দুই ছেলে শাহ মো. সী ম্যান ও শাহনুর আলী প্রিন্স। ঢাকায় শিক্ষকতা ছেড়ে রামগতিতে স্থানীয় হাজীগঞ্জ মডেল একাডেমিতে অধ্যক্ষ হিসেবে আগামী ১ জানুয়ারি যোগদান করার কথা ছিল তাঁর। এ জন্য ঢাকার বাসা ছেড়ে দিয়ে গত রোববার রাতে একটি কাভার্ড ভ্যানে করে বাসার মালামালসহ স্বামী ও সন্তানের সঙ্গে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। গতকাল সকাল পৌনে ১০টায় তাঁদের কাভার্ড ভ্যানটি নোয়াখালী শহরের উজ্জ্বলপুর এলাকায় পৌঁছালে পিকেটারের হামলার শিকার হয়।

কাভার্ড ভ্যানের চালক মো. উজ্জ্বল জানান, পিকেটারের ছোড়া ইটের আঘাতে কাভার্ড ভ্যানের সামনের কাচ ভেঙে শামসুন নাহারের মাথায় লাগে। এতে তাঁর মাথা ফেটে গেলে তিনি সেখানেই জ্ঞান হারান। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎ​সকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।






মন্তব্য চালু নেই