মেইন ম্যেনু

যশোরের খবর (২৫/৭/১৪)

## যশোরে ছাত্রলীগের সংবাদ সম্মেলন-যবিপ্রবি ছাত্র রিয়াদ হত্যা মামলায় দলীয় নেতাকর্মীদের নাম প্রত্যাহারের দাবি
আবিদুর রেজা খান: যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাইমুল ইসলাম রিয়াদ হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুলসহ ছয় নেতাকর্মীর নাম। এ মামলা থেকে তাদের নাম প্রত্যাহারের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোর জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা ছাত্রলীগের একাংশ।
এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি ফয়সাল খান। লিখিত বক্তব্যে ঘোষনা দিয়েছেন মামলা থেকে তাদের নাম বাদ না দিলে হরতাল, অবরোধ, ঘেরাও, কর্মসূচির
পালন করা হবে। নেতারা আরও বলেন রমজান ও ঈদের কথা বিবেচনা করে ধারাবাহিক আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। যথা সময়ের মধ্যে মিথ্যা ও সড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহার না হয় তাহলে ঈদের পর যশোর জেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে লাগাতার হরতাল, অবরোধ, ঘেরাও, সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি দেয়া হবে।

## যশোরে গাঁজাসহ একজন আটক
যশোর অফিস: মঙ্গলবার রাতে যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ চাচড়া এলাকায় অভিযান চালায় । এ সময় গাজাসহ মাদক বিক্রেতা মতলেব খানকে আটক করেছে। সে যশোর সদরের মন্ডলগাতী গ্রামের মৃত জালাল খানের পুত্র।
মঙ্গলবার রাতে যশোর কোতোয়ালি থানার এসআই শোয়েব উদ্দিন আহমেদ শহরের চাঁচড়া চেকপোষ্টের শ্রমিক অফিসের সামনে অভিযান চালায়। এ সময় মাদক বিক্রেতা মতলেব খানকে আটক করে। তার কাছ থেকে এক কেজি গাজা উদ্ধার করে। পুলিশ জানায় মতলেব
বেনাপোল সড়কের পুলেরহাট থেকে সে যশোর আসছিল। এ সময় হানা দিয়ে তাকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে যশোর কোতয়ালি থানায় মাশলা হয়েছে।

## যশোরে ডাকাতির সাথে জড়িত থাকার অপরাধে একজন আটক
যশোর অফিস: যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ শহরে হানা দিয়ে বিপুলকে আটক করেছে। সে মুড়োলী খাঁ পাড়া এলাকার জামাল উদ্দিনের পুত্র।
মঙ্গলবার রাতে যশোর কোতোয়ালি থানার এসআই হেমায়েত হোসেন শহরের মুড়োলী খাঁ পাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় বিপুলকে আটক করে আটক করে। পুলিশ জানায় গত ২০ জুলাই শহরের মুড়লীর মোড়ে র‌্যাংগস মটরস লিমিটেড অফিসে ডাকাতি হয়। এ ডাকাতির সাথে বিপুল জড়িত থাকার অপরাধে তাকে আটক করা হয়েছে।

## যশোরে একছিনতাইকারী আটক
যশোর অফিস: যশোর সদর ফাঁড়ির পুলিশ শহরের আরএনরোড এলাকা অভিযান চালায়। এ সময় বাবু মিয়াকে আটক করেছে। সে শহরের আরএন রোড এলাকার মৃত সুরুজ মিয়ার পুত্র।
মঙ্গলবার রাতে যশোর সদর পুলিশ ফাঁড়ির টিএসআই রফিকুল ইসলাম শহরের আরএনরোড এলাকা থেকে আটক করে। পুলিশ জানায় বাবু একজন ছিনতাইকারী । তার বিরুদ্ধে ছিনতাই এর একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

## যশোরে যোগাযোগ মন্ত্রী-
যথা সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্তি প্রকৌশলীকে শো’কজ
যশোর অফিস: বাংলাদেশ সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরবলেছেন যশোর-খুলনা মহাসড়ককে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের গলার কাঁটা হয়ে পড়েছে। এ কারনে ঈদের আগে এ সড়কের সংস্কার কাজ সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হওয়ায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলীকে শো’কজ করেছেন মন্ত্রী। একইসাথে আগামী তিনদিনের মধ্যে সড়কটির সংস্কার কাজ সম্পন্ন করতে যশোর সওজ’র নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউল হায়দারের সাথে কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদি খান ও সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুদ্দিনকে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করেন। বুধবার দুপুরে যশোর-খুলনা মহাসড়ক পরিদর্শনকালে যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। পরিদর্শনকালে যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ৬০ কিলোমিটার যশোর-খুলনা মহাসড়কের মাত্র ৩ কিলোমিটারের ভাঙ্গাচোরা। এর দেড় কিলোমিটার সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে। বাকী দেড় কিলোমিটারের অবস্থা এখনও খারাপ। মন্ত্রী এ মহাসড়ক ৭ বার পরিদর্শন করেছেন উল্লেখ করে জানান, যশোর-খুলনা মহাসড়ক যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই কাঁটা সরাতে তিনি অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। ইতোপূর্বে ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করে নতুন ঠিকাদারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে বর্ষা শুরু হয়ে যাওয়ায় ঠিকাদার ঠিকমত কাজের সুযোগ পায়নি। যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বেলা ১১টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে যশোর আসেন। পরে তিনি সড়ক পথে যশোর-খুলনা মহাসড়ক ধরে নওয়াপাড়া যান। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী যশোরের মানুষের সহনশীলতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘আমার ভাগ্য ভালো যে, মানুষের তোপের মুখে পড়তে হয়নি।’ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ঈদের দুই সপ্তাহ পর আমি আবার যশোর আসব। তখন মহাসড়কটি স্থায়ীভাবে যান চলাচলের উপযোগী করতে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা নিয়ে আলাপ-আলোচনা হবে।’যশোর-খুলনা মহাসড়কের নওয়াপাড়া তালতলায় দেশের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান আকিজ গ্রুপ সওজের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন ? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যত ক্ষমতাশালীই হোক না কেন, সওজের জায়গা কেউ দখলে রাখতে পারবে না। আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘সারা দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলোর অবস্থা এখন মোটামুটি ভালো। মহাসড়ক পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে যশোরের জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীর, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের খুলনা অঞ্চলের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

## প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ-
যশোর অভয়নগরে ভাই বোনদের ষড়যন্ত্রে পালিয়ে বেড়াচ্ছে একটি পরিবার
যশোর অফিস: ভাই বোনদের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে একটি পরিবারের সদ্যসরা এখন জীবন রক্ষার্থে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। জমি দখলকারী সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে পরিবারের সদস্যদের খুন জখম করবে বলে হুমকি দিচ্ছে। পৈত্রিক ভিটায় বাড়ি-ঘর থাকলেও তারা এখন বসবাস করতে পারছেন না।
বুধবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন যশোরের অভয়নগর উপজেলার একতারপুর গ্রামের আয়ুব আলী। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তেব্যে তিনি বলেন, পৈত্রিক ও ক্রয় সূত্রে আয়ুব আলী ৯৭ দশমিক ৫ শতক জমির মালিক। গত ভুমি রেকর্ডের সময় তিনি বাড়িতে না থাকায় বড় ভাই ইব্রাহিমকে দায়িত্ব দেন রেকর্ডের কাজ করতে। ইব্রাহিম ভাই আয়ুব আলীর নামে জমি রেকর্ড না করে মার নামে রেকর্ড করে দেয়। পরবর্তীতে মার মৃত্যু হলে আয়ৃব আলীর জমির অংশিদার হিসেবে দখল করে নেয় তার ভাই ও বোনেরা। এরমধ্যে তার ভাই বোনেরা আবুল কালাম, আনোয়ার, নুর ইসলাম, আজিজ, মজিদ ও ইন্তাজ আলীর কাছে জমি বিক্রি করে দেয়। এরপর থেকে জমির ক্রেতা হিসেবে জমির ভোগ দখল করছে তারা। জমি উদ্ধারের ব্যাপারে মামলা করায় দখলকারীরা খুন জখমের হুমকি দিচ্ছে। তাদের ভয়ে এখন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে তিনি প্রশাসনের সহয়তা কামনা করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নুর ইসলাম, আব্দুর রহমান, নুরজাহান বেগম প্রমূখ।

## যশোর বড়বাজারে বেপরোয়া চকলেটবাজি দেদাছে বিক্রি অব্যাহত ॥ পুলিশের ব্যাপক চাদাবাজি
আবিদুর রেজা খান: যশোর শহরের বড় বাজারে নিষিদ্ধ চকলেট বাজি ও বিস্ফোরকদ্রব্য বিকিকিনির শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এ সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছে নুর ইসলাম ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। দীর্ঘদিন ধরে সে এ অবৈধ ব্যবসা করে লাখ লাখ টাকার মালিক হয়েছে। আইনশৃংখলাবাহিনীর সদস্যদের মাসিক উৎকোচ দিয়ে প্রতিদিন চোরাকারবারীদের মাধ্যমে নুর ইসলাম সিন্ডিকেট প্রকাশ্যে কয়েকশ কার্টন চকলেট বোমা ও বিস্ফোরক বড় বাজারে নিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকে চোরাকারবারীরা এসে এ সিন্ডিকেটের কাছ থেকে মালামাল পাইকারী কিনে নিয়ে যাচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে এই সিন্ডিকেটের ব্যবসা আরো জমজমাট হয়ে উঠেছে। পুলিশের চোখের সামনে বিস্ফোরক ও চকলেট বোমা আনা নেয়া করা হলেও তা আটক করা হয় না উৎকোচের কারণে।
যশোর শহরের বড় বাজারের একাধিক দোকানদার জানিয়েছেন, নুর ইসলাম সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় চকলেটবাজি ও বিস্ফোরকদ্রব্য ব্যবসার সাথে জড়িত। এক সময় বড় বাজারের ৫ নম্বর মসজিদ গলিতে একটি ছোট টোঙ দোকানে বসে বিভিন্ন বীজ বিক্রি করত। ব্যবসা ভাল না হওয়ায় নুন আনতে পান্তা ফুরাতো। এরপর সে অবৈধ চকলেটবাজি ও বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবসা। আর তার পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। অবৈধ ব্যবসার প্রসার বাড়তে থাকে। বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার ভারতীয় চকলেটবাজি ও বোমা তৈরির মসলা আসতে থাকে। পুলিশকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে এ ব্যবসা করলেও সে থাকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। আর এ ব্যবসা থেকে হয়ে যায় কোটিপতি। বর্তমানে তার অবৈধ কারবার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিস্তার লাভ করেছে। প্রতিদিন তার দোকানে মহিলা পুরুষ চোরাকারবারীদের আনা গোনা থাকে। আর বিভিন্ন পয়েন্টে সাঙ্গপাঙ্গরা ব্যবসা দেখভাল করে। সীমান্তেও নিয়োগ করা আছে লোকজন। যশোরের চৌগাছার মাসিলা, পুড়াপাড়া, শাহাজাদপুর, শার্শা বেনাপোলের শালকোনা, গাতিপাড়া, পুটখালী, সাদীপুর, বড় আচড়া ছোট আচড়া ও সাতক্ষীরার কয়েকটি সীমান্ত দিয়ে নুর ইসলাম সিন্ডিকেটের চকলেট বোমা ও বিস্ফোরক আমদানি হয়ে থাকে। ঈদকে সামনে রেখে তার ব্যবসা আরো জোরদার হয়েছে। গত ১৬ জুলাই চৌগাছা সীমান্ত দিয়ে ৩৭ কার্টন চকলেটবাজি এনে উপজেলা শহরের নিরিবিলি এলাকার একটি বাড়িতে মজুদ করে রাখা হয় । এতে প্রায় ৫হাজার পিস চকলেটবাজি ছিল। গোপনে খবর পেয়ে চৌগাছা থানা পুলিশ ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে চকলেট বাজিসহ হৃদয় নামে এক চোরাকারবারীকে আটক করে। সে ঝিনাইদহের কোটচাদপুর পাশপাতলে গ্রামের আশুতোষ বিশ্বােেসর ছেলে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়। এ চকলেটবাজি নুর ইসলাম সিন্ডিকেটের কাছে নিয়ে আসার জন্য মজুদ করা হয়েছিল। গত ১৮ জুলাই শুক্রবার রাতে যশোর উপশহর খাজুরা বাসস্ট্যান্ড হানিফ পরিবহন কাউন্টারের সামনে থেকে ৩ হাজার ১১৫ পিস চকলেট বোমাসহ জুবায়ের নামে এক চোরাকারবারীকে আটক করে সিআইডি পুলিশের উপ পরিদর্শক তৌহিদুল ইসলাম। সে মাদারীপুর জেলার মুগুরিয়া গ্রামের ওয়াদুদ ব্যাপারীর ছেলে। এসময় একই গ্রামের বারেক হাওলাদারের ছেলে মিঠুন পালিয়ে যায়। এ চকলেটবাজি নুর ইসলাম সিন্ডিকেটের কাছ থেকে কিনে ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছিল জুবায়ের। এঘটনায় কোতোয়ালি থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে। কিন্ত ধরা ছোয়ার বাইরে রয়েছে নুর ইসলাম।
এ সিন্ডিকেটের নির্দ্দিষ্ট কয়েকজন চোরাকারবারী চকলেটবাজি ও বিস্ফোরক আনা নেয়ার সাথে জড়িত রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে, চাচড়া রায়পাড়ার রহিমা, আকলিমা, বুদ্ধি বুড়ি, সেকেন্দার ও সেকেন্দারের মা, রিজিয়া বেগম, আনু বিবি, সাতক্ষীরা তরিকুল, রবিউল, সুলতানসহ অনেকে। মালামাল নুর ইসলামের ডেরায় পৌছানোর পর হাত বদল হয়। এ মালামালের কিছু অংশ চুড়ি পট্টির লাল মিয়া স্টোরের মালিক খাব্বাব বাবু, আরাফাত স্টোরের মালিক বাবু, সর্দার স্টোর, মিকাইল, মিঠু, তারা স্টোর, হাটচান্নির আলু পট্টির রহমান স্টোরে সরবরাহ হয়। আর বাকি মালামাল নড়াইল, লোহাগড়া, ফরিদপুর, টেকেরহাট, ভাঙ্গা, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, বরিশাল , ঢাকার চকবাজার ও নবাবপুরে পাঠানো হয়। এসব এলাকার ব্যবসায়ীর সাথে মোবাইল ফোনে চুক্তির পর সুন্দরবন, এসএ পরিবহন, আফজাল, রেইনবো, সোনারগাঁ ট্রান্সপোর্টে মালামাল বুকিং দেয়া হয়। এক্ষেত্রে কার্টনের গায়ে লেখা থাকে মাল ফেরৎ। ভুয়া ক্যাশ মেমো ও ভুয়া দোকানের নাম সংযুক্ত থাকে। রাস্তায় প্রশাসনিক ঝামেলা এড়াতে এধরনের কৌশল অবলম্বন করে সিন্ডিকেট।
সূত্র আরো জানায়, রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্তকারী নুর ইসলাম সারা দেশে বোমার মসলা সরবরাহ করে থাকে। পাশাপাশি বিভিন্ন পার্বনে শব্দ দূষনে ভুমিকা রাখে। ওই সিন্ডিকেটের কাছ থেকে পটকাবাজি ও বিস্ফোরক কিনে অপরাধীরা বিভিন্ন এলাকা আতংকিত করে তুলছে। ঈদকে সামনে রেখে চাঁদাবাজি ছিনতাইয়েও ওই বিস্ফোরক ও পটকাবাজি ব্যবহার করছে তারা। সরকারিভাবে নিষিদ্ধ পটকাবাজির ব্যবসা নূর ইসলাম সিন্ডিকেট প্রকাশ্যে করছে আর তা আনন্দ অনুষ্ঠানে ব্যবহারের পরিবর্তে সরবরাহ করা হচ্ছে নানা অপরাধীচক্রের কাছে। প্রতিদিন তার পটকার চালান চলে যাচ্ছে দুর্বৃত্তদের হাতে। পটকাবাজির সাথেও সে নানা ধরনের বিস্ফোরক গোপনে বিক্রি করছে। এসব তথ্যের সত্যতা মিললে নূর ইসলাম বুলি আওড়াচ্ছে সে পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ব্যবসা করছে। নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে ব্যবসা করায় সে আটক এড়িয়ে চলছে এমন তথ্যও প্রচার হচ্ছে। এদিকে তার সিন্ডিকেটের নামে পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে পুলিশের মাসোহারা বেড়ে যাচ্ছে এমন কথাও সে বলে বেড়াচ্ছে। সে বলছে আগে দিতাম ১৮ হাজার টাকা। কিন্ত পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশি ঝামেলা বাড়ছে। এখন টাকার অংক মাসিক ২৫ হাজার টাকা দেয়া লাগছে। তবুও আমার ব্যবসা করা লাগবে। আর বেশি ঝামেলা হলে ঈদ পর্যন্ত ব্যবসা করবো।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, রাতে দোকান বন্ধের পর নুর ইসলাম চলে আসে ঝালাইপট্টি পতিতালয়ের সামনে মদের ডেরায়। এখানে ৪/৫জন চোরাকারবারীকে নিয়ে সুরা সাকীর আসর জমায়। এখানে প্রতিদিন বিল হয় ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা। কাঁচা টাকার গরমে এ টাকা খরচ করলেও তার যায় আসেনা। অবৈধ আয়ের টাকা অবৈধভাবে ব্যয় করবো এটা কোন ব্যাপার না বলে উল্লাস করে তারা।
এব্যাপারে নুর ইসলাম জানান, বিস্ফোরক কি জিনিস তা জানি না তবে পটকাবাজির ব্যবসা করি এটা সত্য। পুলিশকে ম্যানেজ করেই ব্যবসা করতে হয়। তবে পত্রিকায় লিখলে পুলিশের মাসোহারার রেট বেড়ে যায়। কিন্ত ঈদ পর্যন্ত ব্যবসা করতেই হবে। কারন পুলিশকে অগ্রিম টাকা দেয়া আছে। এখন লেখালিখির দরকার নেই একসময় আমার দোকানে আসেন, একটু চা খেয়ে যাবেন।
কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মো: সহিদুল ইসলাম শহিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বড় বাজারে এধরনের ব্যবসার খবর জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।

## যশোর জেনারেলহাসপাতালের এক গাইনী চিকিৎসক বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ
যশোর অফিস: যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের গাইনী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিলুফার ইসলাম এমিলি’র বিরুদ্ধে এন্তার অভিযোগ উঠেছে। রোগীদের সাথে দুর্ব্যবহার, অফিস ফাঁকি দিয়ে ক্লিনিকে রোগী দেখা ও সরকারি হাসপাতাল থেকে দালালদের মাধ্যমে রোগী যোগাড় করে আনাসহ নানা দোষে দুষ্ট তিনি। সম্প্রতি ১০ হাজার টাকা উৎকোচ নিয়ে এক মহিলার সিজার করে মরা সন্তান বের করার ঘটনায় তিনি ফেঁসে গেলেও মাফ চেয়ে সে যাত্রা রক্ষা পেয়েছেন। কিন্ত তার সে স্বভাব বদলায়নি। দাপটের সাথে তিনি তার অনৈতিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
সূত্র জানায়, যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের চিকিৎসক নিলুফার ইসলাম এমিলি ধরাকে সরা জ্ঞান করছেন। তিনি প্রতিদিন চিহ্নিত দালালদের মাধ্যমে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল থেকে রোগী যোগাড় করে ক্লিনিকে নিয়ে চিকিৎসা দেন। রোগী প্রতি ৪শ টাকা ভিজিট নেন। কারনে অকারনে টেস্ট লেখেন। এ থেকে দালালরা কমিশন পেয়ে থাকে। কথায় কথায় রোগীদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ডা. নিলুফার যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে নিয়ে একটি ক্লিনিকে ১০ হাজার টাকার চুক্তিতে সিজার করেন। কিন্ত দেরি করে সিজার করায় মরা বাচ্চা বের হয়। এঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ সাখিরনের স্বামী খলিলুর রহমান ড্রাইভার হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়কের কাছে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ এনে লিখিত দেন। তার বাড়ি যশোর শহরতলীর বাহাদুরপুর গ্রামে। এঘটনায় তিন সদস্য কমিটি গঠন হয়। এ কমিটির তদন্তে তিনি ফেঁসে গেলেও মাফ চেয়ে সে যাত্রা রক্ষা পান। কিন্ত তার স্বভাব পরিবর্তন হয়নি। তিনি সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি ক্লিনিকেও রোগীদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করে থাকেন। তিনি সরকারি হাসপাতালে চাকরি করলেও ক্লিনিকে সময় বেশি দিতে স্বাছন্দ্যবোধ করেন। কারন ক্লিনিকে ব্যবসা হয় জমজমাট। আয় বেশি। একারনে দালঅলদেও মাধ্যমে রোগী যোগাড় করে ক্লিনিকে নিয়ে যান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক রোগী জানান, তার কাছে গেলে ৪শ টাকা ফি নিলেও রোগীর কথা ঠিকমত শুনতে চাননা। কথায় কথায় রোগীদের সাথে দুর্ব্যবহার করে থাকেন। অনেক সময় এর প্রতিবাদ করলে রোগীদের গলাধাক্কা দিয়ে চেম্বারের বাইরে বের করে দেন। তিনি বলে থাকেন, আমার চেহারা দেখলেই তো ৪শ’ টাকা শোধ।

## পবিত্র রমজান মাসেও কোর্ট হাজত খানায় বন্দিদের জিম্মি করে উৎকোচ আদায় করছে পুলিশ
আবিদুর রেজা খান : পবিত্র রমজান মাসেও যশোর কোর্ট হাজত খানায় কর্মরত পুলিশ কর্তা ও সদস্যরা বন্দি আসামীদের জিম্মি করে ৫০ থেকে ১শ’ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিদিন হাজত খানা থেকে কোর্ট ইন্সপেক্টর ছয়রুদ্দিনকে ৭শ’ টাকা উৎকোচ দিতে হয় বলে নাম প্রকাশ না করা শর্তে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যরা দাবি করেছেন।হাজত খানায় কর্মরত পুলিশের এটিএসআই (হাবিলদার) ও কনস্টেবলদের টাকা না দিলে কোর্ট হাজত খানায় আদালতে উঠানোর পূর্বে বন্দি হাজতী ও কয়েদী আসামীদের খাবার প্রদান ও দেখা সাক্ষাত করার উপর চরম নিষেধাজ্ঞা বলবৎ বহাল করা হয়।কোর্টের নির্ভরযোগ্য সুত্রগুলো জানিয়েছেন,যশোর জজকোর্ট ভবনে জেলার সকল বন্দি হাজতী ও কয়েদীদের আদালতে তোলার পূর্বে কোর্টে অবস্থিত হাজত খানায় রাখা হয়। বর্তমানে যশোর কোর্ট হাজত খানায় প্রতিদিন এটিএসআই হিসেবে আমির হোসেন এটিএসআই মেজর,শাহআলম,রাজেন্দ্র কুমার,নাসির হোসেন, কাওছার আলী,সহিদ ও মোস্তাফিজ এবং দৈনন্দিন শুধুমাত্র মহিলাসহ ৭ জন কনস্টেবল দায়িত্ব পালন করছেন।সুত্রটি জানিয়েছেন,কোর্ট হাজত খানায় যারা দায়িত্ব পালন করছেন তাদেরকে প্রতিদিন কোর্ট ইন্সপেক্টর ছয়রুদ্দিনকে বন্ধের দিন বাদে ৭ শ’ টাকা করে দিতে হয়। কোর্ট ইন্সপেক্টরের চাহিদা পুরন করে যে টাকা আদায় করা হয় সে গুলি পদবী অনুযায়ী ভাগ বাটোয়ারা করা হয়।প্রতিদিন সকাল থেকে আদালতের কার্যক্রম চলা পর্যন্ত কোর্ট হাজত খানায় যে সব বন্দি কয়েদী ও হাজতী আসামী থাকে। তাদেরকে তাদের আত্মীয়স্বজনেরা দেখা করতে এবং ভাল খাবার প্রদান করতে আসে। অনেকে আবার কোর্ট হাজত খানায় মাদক দ্রব্য সরবরাহ করে থাকে।সুত্রটি জানিয়েছেন,কোর্ট হাজত খানায় দায়িত্বরত এটিএসআই মেজরের নির্দেশে একজন পুলিশ কনস্টেবলকে ক্যাশিয়ার দায়িত্ব দেয়া হয়। যিনি সকাল থেকে কোর্টে সাক্ষাত পেতে আসা ব্যক্তিদের নিকট হতে নূন্যতম ৫০ টাকা শুধু মাত্র সাক্ষাত এবং খাবার দিতে ১শ’ টাকা আদায় করে থাকে।প্রতিদিন কর্মরত একজন কনস্টেবলকে ক্যাশিয়ার দায়িত্ব নিয়োগ করেন কোর্ট হাজত খানার এটিএসআই মেজর আমির হোসেন। কোর্ট হাজত খানার পূর্বে মহিলা হাজত খানায় একজন মহিলা কনস্টেবল দায়িত্ব পালন করেন।যিতি মহিলা আসামীদের আদালতে আনা নেয়ার জন্য দায়িত্ব পালন করে থাকেন।তাছাড়া, হাজত থানার পুর্বে ক্লবসিবল গেটের পাশে কোর্ট সিএসআই ও কোর্ট ইন্সপেক্টরের কার্যালয় তার পূর্বে পাশে কক্ষে জিআরওদের কক্ষ রয়েছে। পশ্চিম পাশে ক্লবসিবল গেট রয়েছে। দুই পাশের ক্লবসিবল গেটের মধ্যে পশ্চিম পাশে গেটে প্রতিদিন ১জন কনস্টেবল গেট খোলার দায়িত্ব পালন করে থাকেন।উক্ত গেট দিয়ে বন্দি আসামীদের আত্মীয় স্বজনদের সাক্ষাত ও খাবার দেয়ার ক্ষেত্রে টাকা আদায় করা হয়। টাকা না দিলে বন্দিদের সাথে দেখা কিংবা খাবার দেয়ার কোন নেই। তাদেরকে গেট দিয়ে ঢুকতে দেয়া পর্যন্ত হয়না। সুত্রটি আরো জানিয়েছেন,বন্দি হাজতীদের ওকালতনামা স্বাক্ষর করাতে আইনজীবিদের সহকারীদের মাথা পিছু স্বাক্ষর বাবদ ২০ টাকা দিতে হয়।প্রতিদিন কোর্ট হাজত খানায় প্রায় ২ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা আদায় হয়ে থাকে। উক্ত টাকা কোর্ট হাজত খানায় যারা কর্মরত তাদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করা হয়।এ ব্যাপারে কোর্ট ইন্সপেক্টরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি জানেন না বলে গতানুগতিক ভাবে বলেন।প্রতিদিন কোর্ট হাজত খানার আশপাশে অবস্থান নিয়ে দেখা যাবে কিভাবে অর্থ উপার্জন করা হচ্ছে।






মন্তব্য চালু নেই