মেইন ম্যেনু

চড়া সুদ

মালয়েশিয়ার প্রস্তাবে আগ্রহ নেই বাংলাদেশের

মালয়েশিয়ার ৪০০ নতুন রেল কোচ সরবরাহের প্রস্তাবে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ রেলওয়ের রেল কোচ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে মালয়েশিয়া সরকার এ কোচ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করে। কিন্তু মালয়েশিয়ার দেয়া কঠিন শর্তের ঋণের কারণে এ প্রস্তাবের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে অনাগ্রহ প্রকাশ করে রেলকর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, কঠিন শর্তের ঋণের আওতায় ১০ বছরের ঋণে ৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। পাশাপাশি রয়েছে আরও কিছু শর্ত। ভ্যাট ও শুল্ক ছাড়া কোচগুলোর দাম ধরা হয়েছে ৩০ কোটি ডলার (২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা প্রায়)।
ভ্যাট-শুল্ক যুক্ত হলে ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা; যা আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয়বহুল।
সূত্র জানায়, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত দাতো সেরি সামি ভেলু স্বাক্ষরিত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ৩০০ মিটারগেজ ও ১০০ ব্রডগেজ কোচ সরবরাহ করবে মালয়েশিয়া। এজন্য ৩০ কোটি ডলার ঋণের সংস্থান করবে দেশটি। এজন্য কারিগরি ও আর্থিক উভয় বিষয় বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
রেলওয়ের তথ্য মতে, কোচগুলো কেনায় ক্রয়মূল্যের ১ দশমিক ৫ শতাংশ অর্থ কমিটমেন্ট ও স্ট্যাম্প ফি বাবদ দিতে হবে। এছাড়া কমিশন, এলসি খোলার ফি প্রভৃতি ব্যয় যুক্ত হবে। এতে কোচগুলো কেনায় গড়ে ব্যয় হবে ৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে মিটারগেজ কোচের প্রতিটির দাম পড়বে ৮ কোটি ও ব্রডগেজের প্রতিটির ১২ কোটি টাকা। ভ্যাট-কর ও অন্য ব্যয় বাদ দিলে কোচগুলো কেনায় গড়ে দাম পড়বে ৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রতিটি মিটারগেজ কোচের দাম পড়বে ৫ কোটি ও ব্রডগেজ প্রতিটির ৯ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, রেলওয়ের জন্য ভারত থেকে ১২০টি ব্রডগেজ কোচ কেনার প্রক্রিয়া চলছে। এজন্য ভ্যাট-শুল্ক ছাড়া ব্যয় হচ্ছে ৭৩৫ কোটি টাকা। এতে কোচপ্রতি দাম পড়বে ৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ মালয়েশিয়ার প্রস্তাবিত ব্রডগেজ কোচে ৪৭ শতাংশ ব্যয় বেশি হবে।
২০০৮ সালে ইন্দোনেশিয়া থেকে ৫০টি মিটারগেজ কোচ কেনে রেলওয়ে। ভ্যাট-কর ছাড়া এতে গড়ে ব্যয় হয় ২ কোটি ১২ লাখ টাকা। পাঁচ বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে কোচের দাম কিছুটা বাড়লেও তা ৪ কোটি টাকার বেশি নয়। এতে মিটারগেজ কোচগুলোয় ২৫ শতাংশ বেশি ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে।
এদিকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে ১০০ মিটারগেজ ও ৫০টি ব্রডগেজ স্টেইনলেস স্টিলের কোচ কেনার প্রক্রিয়া চলছে। এতে কোচপ্রতি গড়ে ব্যয় হচ্ছে ভ্যাট-শুল্ক ছাড়া ৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে মিটারগেজ কেনায় প্রতিটির দাম পড়ছে ৪ কোটি ৫০ লাখ ও ব্রডগেজ কোচপ্রতি ৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
তবে মালয়েশিয়া সরবরাহ করছে সাধারণ মানের কোচ। যেগুলোর দাম তুলনামূলক আরও কম হওয়ার কথা মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ব্যাপারে রেলপথ মন্ত্রী মো. মুজিবুল হক বলেন, মালয়েশিয়া সরকারের প্রস্তাবে আমাদের আগ্রহ কম। কারণ কঠিন শর্তের ঋণের কারণে মালয়েশিয়ার কোচ সরবরাহের প্রস্তাবের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে অবশ্যই প্রশ্ন থাকছে। এছাড়া দামও কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে। তবে দেশটির বিস্তারিত প্রস্তাব কারিগরি কমিটি যাচাই-বাছাই করে দেখছে। তাই এখনই এ বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। সবকিছু ঠিক থাকলে তবেই এক্ষেত্রে অগ্রসর হবে রেলওয়ে।
জানা গেছে, ৩০০টি মিটারগেজ কোচের মধ্যে ২০টি এসি বার্থ, ৩০টি নন-এসি বার্থ, ৫০টি এসি চেয়ার, ১৫০টি শোভন চেয়ার ও ৫০টি শোভন কোচ সরবরাহ করা হবে। আর ১০০টি ব্রডগেজ কোচের মধ্যে ২০টি এসি চেয়ার, ৫০টি প্রথম শ্রেণী ও ৩০টি দ্বিতীয় শ্রেণীর কোচ থাকবে। কোচগুলোর নকশা, বৈশিষ্ট্যও বাংলাদেশ রেলওয়ের অবকাঠামোর উপযুক্ত কি না তা যাচাই-বাছাই করে দেখছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগ জানায়, কোচ সরবরাহের মাধ্যমে মূলত ব্যবসা করতে চায় মালয়েশিয়া। এ সংক্রান্ত আর্থিক প্রস্তাবে বলা হয়, কোচ সবরাহের বিনিময়ে বছরে ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশ মুনাফা করবে দেশটি। আর মুনাফর ওপর বাংলাদেশ সরকার ২৭ শতাংশ করপোরেট শুল্ক আরোপ করে।
এতে মুনাফা কমে দাঁড়াবে বছরে ৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ। বাংলাদেশ রেলওয়েকে ৪০০ কোচ সরবরাহে ২০১২ সালের মে মাসে আগ্রহ দেখায় মালয়েশিয়া সরকার। এজন্য রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত দাতো সেরি সামি ভেলু। প্রাথমিক আলোচনা চূড়ান্ত করার পর গত বছর অক্টোবরে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই চূড়ান্ত প্রস্তাব দিল দেশটি।






মন্তব্য চালু নেই