মেইন ম্যেনু

মন্ত্রীদের বক্তব্য যখন গানে ও কবিতায়

– আরে, এই মন্ত্রী কি সেই মন্ত্রী না! যেকিনা মঞ্চে বসে সবার সামনেই ধূমপান করেছিল?

: তাইতো! কিন্তু তুই কি জানিস উনি পরে অনুতপ্ত হয়ে সংবাদ সম্মেলন করে সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছিল। এটা কিন্তু আমার কাছে বেশ লেগেছে। একজন মন্ত্রী হয়েও তিনি অপরাধ স্বীকার করে সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এটা ভাবাই যায় না! এজন্যই আমি তাকে শ্রদ্ধা করি, তার কাছে অন্যদেরও শেখার আছে। এতদিন এই মন্ত্রীকে পত্রিকার মাধ্যমে দেখেছি-চিনেছি, আজ সামনে থেকে দেখছি ভালোই লাগছে।

ইস্টার্ন ইনিভার্সিটির সোসাল ওয়েল ফেয়ার ক্লাবের ১১বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আগত দুই ছাত্রের মধ্যে চলছিলো এই কথোপকথন। পাঠকরা নিশ্চয় এতক্ষণে বুঝে গেছেন তাদের কথোপকথনের সেই উল্লেখ্য ব্যক্তিটি কে। হ্যাঁ, তিনিই আমাদের সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী।

এই অনুষ্ঠানে ক্লাবের পক্ষ থেকে কৃষিতে অনন্য অবদানের জন্য বিশেষজ্ঞ ড. সাইখ সিরাজ কে গভীর শ্রদ্ধারসাথে সম্মাননা প্রদান করা হয়। তবে আগত ছাত্রদের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্লেষণমূলক আলোচনা স্বস্তি এনে দেয় এই ভেবে যে, নতুন প্রজন্মের মধ্যে শ্রদ্ধাবোধ আছে। আছে দেশের প্রতি গভীর ভালবাসাও। তাদের সেই ভালবাসা ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে জাগিয়ে তুলতে মন্ত্রীমহদোয় বক্তব্য সংক্ষেপ করে ছাত্রদের উদ্দ্যেশ্যে বললেন, ‘আমি হতাশ তোমাদের কোন কালচারাল টিম নেই।’

মন্ত্রীর এমন কথায় ছাত্রদের মধ্যে হইচই পড়ে গেল। তারা সমস্বরে বলে উঠল, ‘না আমাদের কালচারাল টিম আছে।’ ছাত্রদের এমন জবাবে মন্ত্রী বললেন, ‘অন্তত ৪০জন মিউজিশিয়ান(বাদক), ৪০জন ভোকাল (সংগীতশিল্পী) আর ৪০জন নৃত্যশিল্পী না থাকলে সেটা কোন কারচারাল টিম হয় না।’

সমাজ কল্যাণ মন্ত্রীর দৃষ্টিতে কালচারাল টিমের এমন গঠনপ্রনালী শুনে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরাতো ধাঁধার মধ্যে পড়ে গেলো। কারণ এতবড় টিম তো তাদের নেই। ক্ষণিকের স্তব্ধতা ভেঙ্গে মন্ত্রীমহদোয় উপস্থিতিদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আপনারা কি জাতীয় সংগীতের পুরোটাই গাইতে পারেন? বলেই তিনি সবাইকে দাঁড়াতে বলে গাইতে শুরু করলেন জাতীয় সংগীত।‘ তার সাথে কণ্ঠমিলিয়ে ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবকসহ গাইতে লাগলো সবাই। জাতীয় সংগীতের মূর্ছণায় প্রকম্পিত হল অডিটরিয়াম।

জাতীয় সংগীত শেষ হলে যে যার আসনে বসতেই এ মন্ত্রী অন্যদের মত জ্বালাময়ী ভাষণের পথ অবলম্বন না করে, শিক্ষার্থীদের দেশত্ববোধে অনুপ্রাণিত করতে আবারও গেয়ে উঠলেন, ‘ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা/ তাহার মাঝে আছে দেশ এক সকল দেশের সেরা/ সে যে সপ্ন দিয়ে তৈরি সে যে স্মৃতি দিয়ে ঘেরা/ এমন দেশটি কোথাও খুজে পাবে নাকো তুমি/ সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি’ বক্তৃতা নয় গান শেষে দেশেকে ভালোবাসার আহ্বান জানিয়ে এ মন্ত্রী বললেন, ‘সবাই মিলে যে যার অবস্থান থেকে দেশকে ভালোবাসলে তবেই দেশ এগিয়ে যাবে সমৃদ্ধির দিকে। আর আজকের শিক্ষার্থীরা সেই সমৃদ্ধ বাংলাদেশের আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে জ্বলতে থাকবে কৃষিবিদ সাইখ সিরাজের মত।’ এ সময় শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার তাগিদ দেন সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী।

এবার আসা যাক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমানের দিকে। তাকে শুধুমাত্র মন্ত্রী বললে ভুলই হবে। কারণ তার মধ্যে আরও একটি চরিত্র বিদ্যমান, সেখানে মন্ত্রী সত্তার পাশাপাশি রয়েছে কবিসত্তা। তবে তিনি তার নিজ লেখাগুলোকে কবিতা বলতে রাজি নন। এ ব্যাপারে তার ভাষ্য হচ্ছে, ‘বাস্তবতার নিরিখেই আমার এই উচ্চারণ।’ এর প্রমানও দিলেন গবেষণা অনুদান প্রাপ্ত প্রকল্পসমূহের অর্জন ও সাফল্য বিষয়ে অবহিতকরন শীর্ষক সেমিনারে। সেখানে তিনি গুরুগম্ভীর কোন বক্তব্য ছাড়াই ছন্দেছন্দে বলে গেলেন অনেক কথা। কীভাবে প্রযুক্তি এগিয়ে যাচ্ছে আর আমাদের কী করতে হবে এসব। যা শুনে উপস্থিত বিজ্ঞান গবেষকরা যেমন বিমোহিত হয়েছিলেন তেমনই পেয়েছিলেন অনুপ্রেরনার রসদ।

আমাদের দেশের বিজ্ঞানীরা অন্যান্যদের চেয়ে এগিয়ে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেছিলেন, আমাদের বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণালব্ধ কাজে যথাসময়ে যথাপোযুক্ত আর্থিক অনুদান পেলে তার বিনিময়ে যে প্রতিদান দেবে তা হবে বিশ্বের যেকোন দেশের চেয়ে বেশী।






মন্তব্য চালু নেই