মেইন ম্যেনু

মদনে চার শতাধিক শিক্ষার্থীর ক্লাস বর্জন

প্রতিনিধি, মদন (নেত্রকোনা) : বিদ্যালয়ের উশৃঙ্খল কতিপয় শিক্ষার্থীদের অশুভ আচরন ও মেয়েদেরকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদে চার গ্রামের ৪শতাধিক শিক্ষার্থী গত তিন ধরে সোমবার পর্যন্ত ক্লাস বর্জন কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে। ঘটনাটি ঘটেছে নেত্রকোনার মদন উপজেলার বালালী-বাঘমারা উচ্চ বিদ্যালয়ে । এ ব্যাপারে ভূক্তভোগি শিক্ষার্থীরা ন্যায় বিচার চেয়ে রোববার তিয়শ্রী ইউপি চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগে প্রকাশ, বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার বখাটে শিক্ষার্থী জয়, বাপ্পি, নাসির , হৃদয়সহ আরো কয়েক জন প্রায়ই দূর এলাকা থেকে আসা শিক্ষার্থী ছেলে মেয়েদের সাথে অশুভ আচরন ও ইভটিজিং করে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ করেও কোন সুবিচার পায়নি। ৩০ মার্চ স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচনে হাসনপুর গ্রামের দশম শ্রেণীর ছাত্র সারোয়ার আলম বিপুল ভোটে জয়ী হলে ওই বখাটেরা তার সাথে দূর্ব্যবহার ও মারধর করে এবং স্কুলে আসলে তাকে পিটানো হবে বলে হুমকি দেয়। এ ঘটনাও তাৎক্ষনিক ভাবে প্রধান শিক্ষকের কাছে বিচার দিলেও তিনি কোন প্রতিকার না নিয়ে নিরব থাকেন। এতে হাসনপুর,বনতিয়শ্রী, বিয়াশী ও দেওসহিলা গ্রামের ৪শতাধিক শিক্ষার্থীসহ অভিভাবক ক্ষুদ্ধ হয়ে ১ এপ্রিল থেকে ৩ এপ্রিল সোমবার পর্যন্ত ক্লাস বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। সুষ্টু বিচার না পাওয়া পর্যন্ত ক্লাস বর্জন অব্যাহত থাকবে বলে ভূক্তভোগি শিক্ষার্থীরা জানায়। নির্যাতিত শিক্ষার্থী কেবিনেট নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী দশম শ্রেণীর ছাত্র হাসনপুর গ্রামের সারোয়ার আলম জানায়, আমরা স্কুলে যাওয়া আসার সময় রাস্তাঘাটে বখাটে ছেলেরা বিভিন্ন সময় ছাত্র-ছাত্রীদের ইভটিজিং করে। আমাদের এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হয় বিধায় এর প্রতিবাদ করতে পারিনা। প্রধান শিক্ষকের কাছে নালিশ করে আজও এর কোন সুবিচার পাইনি। কেবিনেট নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হলে জয়, বাপ্পি, নাসির, হৃদয় আমাকে মারপিট করে। এ ব্যাপারেও প্রধান শিক্ষককে জানিয়ে সুবিচার না পাওয়ায় অত্র এলাকার সকল শিক্ষার্থী ঐক্যবদ্ধ হয়ে ক্লাস বর্জনের মাধ্যমে প্রতিবাদ করতে বাধ্য হয়েছি।

প্রধান শিক্ষক ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদার ক্লাজ বর্জনের সত্যতা স্বীকার করে বলেন নির্বাচনের দিন জয় এবং সারোয়ারের মধ্যে গোলযোগ হয়েছে। বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য আমি ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ জয়ের অভিভাবককে নিয়ে সারোয়ারের বাড়িতে গিয়ে শান্তনা দেই। কিন্তু এরপরেও কেন তারা ক্লাস বর্জন অব্যাহত রেখেছে আমি বোধগম্য নই।

বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল হান্নান জানান, এ ধরনের ঘটনার একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছি।

ইউপি চেয়ারম্যান ফখর উদ্দিন আহম্মদ জানান, অভিযোগটি আমি হাতে পাইনি। তবে শুনেছি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আমার বরাবর একটি অভিযোগ দিয়েছে । আমি বিষয়টি আজকের মধ্যেই নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করবো।






মন্তব্য চালু নেই