মেইন ম্যেনু

বাংলাদেশের একটা হ্যাক করলে ওদের দশটা হ্যাক হয় (ভিডিও)

বাংলাদেশকে ভালোবাসি। দেশের ওপর কেউ অন্যায়-অবিচার করবে তা সইবো না। যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া আছে। অন্যায় করলেই যুদ্ধ ঘোষণা। সিঙ্গেল অ্যাটাক করলে বেগ পেতে হবে তাদেরই। বাংলাদেশের একটা ওয়েবসাইট হ্যাক করলে ওদের দশটা ওয়েবসাইট হ্যাক করা হয়।

সম্প্রতি একটি নিউজ এজেন্সিকে এসব বলছিলো বাংলাদেশ ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার্স নামে হ্যাকারদের একটি দল। বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত প্রতিটি সাইবার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে হ্যাকারদের এই দলটি। বাংলাদেশের সাইবার স্পেস সুরক্ষায় ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে জন্ম এ দলের।

তবে জন্মটা এমনি এমনি হয়নি। ২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হয় ফেলানী নামে বাংলাদেশি এক তরুণী। ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে নিহত হন বাংলাদেশি এক গরু ব্যবসায়ী, বিজিবি জওয়ানসহ আরও কয়েকজন। দেশের বিরুদ্ধে ভারতের এমন অন্যায় সহ্য হল না তাদের। একত্রে সংগঠিত হয়ে কয়েকজন তরুণ (সংখ্যা প্রকাশে অনিচ্ছুক) সিদ্ধান্ত নেয় ভারতের সঙ্গে সাইবার যুদ্ধে নামার। যুদ্ধে সঙ্গী ছিল বাংলাদেশ সাইবার আর্মি নামে আরেকটি হ্যাকিং সংগঠন।

হ্যাক করা হয় ভারত সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, তেল-গ্যাস কোম্পানি, সংসদ, বিরোধীদলসহ মোট ২০ হাজার ওয়েবসাইট। ১ মাস চলে এই সাইবার যুদ্ধ। ভারতও বাংলাদেশের ৮০০ সাইট হ্যাক করে। তবে বাংলাদেশি হ্যাকারদের গতি দেখে তারা পিছপা হয়। যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চায় ভারতীয় হ্যাকাররা।

এরপর থেকে এডমিন বিডি এক্সটর, ফ্র্যান্সেস এল্যন, ওরিয়ন হান্টার, লীগ রেসারের নেতৃত্বে নিয়মিত সাইবার যুদ্ধে অংশ নেয় ব্ল্যাক হ্যাটস।

রাজ্যহীন রাজপুত্র নামে ব্ল্যাক হ্যাটসের এক সদস্য বাংলানিউজকে বললেন সাইবার যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কথা। যুদ্ধের কারণ জানলেন, দেশপ্রেম। তিনি বলেন, হ্যাকারদের মূল কাজটাই দেশপ্রেম। যেসব দেশ বাংলাদেশবিরোধী কাজ করে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত ওয়েবসাইট হ্যাক করি আমরা। কারণ আলোচিত ওয়েবসাইটগুলো হ্যাক করলে অল্প সময়ে মিডিয়া কাভারেজ পাওয়া যায় এবং মানুষের মধ্যে প্রতিক্রিয়াও হয়।

২০১৪ এর মাঝামাঝি বাংলাদেশসহ র‍্যাঙ্কিংয়ের নিচের সারির ক্রিকেট দলের টেস্ট স্ট্যাটাস বাতিলের প্রস্তাব দেয় ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের ক্রিকেট বোর্ড। ঘোষণার পর নিজেদের ফেসবুক পেজে সর্বপ্রথম এর বিরোধিতা করে প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশের হ্যাকাররা। হ্যাক করা হয় ওই তিন দেশের হাই প্রোফাইল প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটগুলো।

সীমান্তে হত্যার কারণে এ বছর মায়ানমারেও আক্রমণ করে ব্ল্যাক হ্যাটসরা। হ্যাক করা হয় তাদের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইট। বাংলাদেশের সঙ্গে পেরে উঠতে পারবে না বলে সেবার সাইবার যুদ্ধে নামেনি মায়ানমার।

২০১৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশিদের ‘বিতারিত’ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ঘোষণার পরপরই ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকাররা হামলা চালায় রাজনৈতিক সংগঠনের ওয়েবসাইটগুলোতে।

রাজ্যহীন রাজপুত্র আরও বলেন, পেশা হিসেবে নয়, হ্যাকিং দেশপ্রেম এবং নেশার বহিঃপ্রকাশ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর শক্তিশালী হাতিয়ার।

ওয়েবসাইট সিকিউরিটির দিক থেকে ইসরায়েল পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ। ফিলিস্তিনের গাজায় শিশুদের হত্যার নির্মম চিত্র দেখে ইসরাইয়েলের বিরুদ্ধেও অবস্থান নেয় ব্ল্যাক হ্যাটসসহ অন্যান্য হ্যাকাররা। মিশনের নাম দেয়া হয় ‘অপ ইসরায়েল’ (OP_ISRAIL)। মিশনে এবার শুধুমাত্র হ্যাকিং বা হয়রানি নয়, ডিডিওএস এ্যাটাকের মাধ্যমে এক রাতে ইসরাইয়েলের হাইপ্রোফাইল ২০০ ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশি হ্যাকাররা।

বাংলাদেশ ব্ল্যাক হ্যাটস হ্যাকাররা কখনো কোনো বাংলাদেশি ওয়েবসাইট হ্যাক করে না। এছাড়াও বিনামূল্যে বাংলাদেশি ওয়েবসাইটের অ্যাডমিনদের হ্যাকিং প্রতিরোধে ট্রেনিং, ফ্যানপেজ, ও ওয়েবপেজ নিরাপদ করার কাজও করে থাকেন হ্যাকাররা।

ব্ল্যাক হ্যাটসরা জানায়, বিদেশি ওয়েবসাইটগুলোতে হামলার আগে নিজের দেশের গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইটগুলোর সিকিউরিটি নিশ্চিত করা হয় যাতে তারা পাল্টা আঘাত করতে না পারে।

হ্যাকিং ও সাইবার যুদ্ধ ছাড়াও দেশের জন্য আরও নানাবিধ কাজ করেন হ্যাকাররা। ‘ব্ল্যাক অপস’ নামে একটি গ্রুপ খুলে বাংলাদেশি পর্নো, চটি সাইট এবং ফেসবুকের ফেক (নকল) অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধে রিপোর্টিংয়ের কাজ করছে তারা।

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবদান রাখার পরেও তাদের প্রতি সরকার নজর দিচ্ছে না বলে আক্ষেপ তাদের। হ্যাকাররা জানান, ইংল্যান্ডে হ্যাকারদের জন্য বাজেট বরাদ্দ রেখেছে সে দেশের প্রশাসন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছে রাশিয়ান হ্যাকাররাও। বাংলাদেশ সরকার হ্যাকারদের নিয়ে কোনো চিন্তা করে না, রেসপন্স করে না। সরকারের সহযোগিতা পেলে আরও সমৃদ্ধ হবে বাংলাদেশি হ্যাকাররা।

বাংলদেশের হ্যাকাররা আন্তর্জাতিক মানের ওয়েবাসাইট ডেভেলপার। আগেও তারা বিদেশের জন্য অনেক নতুন নতুন সফটওয়ার তৈরি করেছে। সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আইটি সেক্টরে তাদের নিয়োগের ব্যবস্থা করার দাবি জানায় হ্যাকররা।






মন্তব্য চালু নেই