মেইন ম্যেনু

ফুলেল শ্রদ্ধায় সিক্ত ভাষা মতিন

ফুলেল শ্রদ্ধায় সিক্ত হলেন মহান ভাষা আন্দোলনের কিংবদন্তি আব্দুল মতিন। বেলা ১২টায় তার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেয়া হলে শুরু হয় সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন। বেলা সোয়া ১টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈকি দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন অব্যাহত ছিল।
বুধবার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিনের মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিলো ৮৮ বছর।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের নিউরোসার্জারি বিভাগের অধ্যাপক আফজাল হোসেন জানান, গত ৪ অক্টোবর থেকে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিলো। বুধবার সকাল ৯টার দিকে তার লাইফ সাপোর্ট খুলে নেয়া হয়।
ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিন মৃত্যুর আগেই শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালকে মরণোত্তর দেহ দান করার ঘোষণা দিয়ে গেছেন। আর চক্ষু দান করার ঘোষণা দিয়েছেন সন্ধানীকে।
ওই ঘোষণা অনুযায়ী বুধবার আব্দুল মতিনের মৃত্যুর পর তার কর্নিয়া সংগ্রহ করা হয়। আর তার মরদেহ রাখা হয় (ঢামেক) হাসপাতালের হিমঘরে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় বিএসএমএমইউর আয়োজনে সর্বস্তরের জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মরহেদ নেয়া হবে। শ্রদ্ধা নিবেদন পর্বে সহযোগিতা করবে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট।
শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন পর্বের পর তাঁর মরদেহ শোভাযাত্রাসহ ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিজড়িত ঢাকা মেডিকেল কলেজের আমতলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে নেওয়া হবে। এরপর মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
গত ১৮ আগস্ট অসুস্থ হয়ে পড়েন ভাষা সংগ্রামের অন্যমত সৈনিক আব্দুল মতিন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে নগরীর সিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন ১৯ আগস্ট তাকে বিএসএমএমইউতে আনা হয়। শারীরিক অবস্থা আরো খারাপ হয়ে গেলে চলতি মাসের ৪ তারিখে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয় তাকে।
ভাষা আন্দোলনের অন্যতম রূপকার ও সংগ্রামী আব্দুল মতিনের জন্ম ১৯২৬ সালের ৩ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী উপজেলায় এক কৃষক পরিবারে।
১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে ভাষার দাবিতে বাঙালির আন্দোলনে নেতৃত্বের ভূমিকায় ছিলেন আবদুল মতিন।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন ১৯৪৫ সালে। ভাষা আন্দোলনের পর তিনি ছাত্র ইউনিয়ন গঠনে ভূমিকা রাখেন এবং পরে সংগঠনটির সভাপতি হন। এরপর কমিউনিস্ট আন্দোলনে সক্রিয় হন।
১৯৫৪ সালে পাবনা জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সম্পাদক হন মতিন। মওলানা ভাসানী ‘ন্যাপ’ গঠন করলে তিনি ১৯৫৭ সালে তাতে যোগ দেন। ১৯৫৮ সালে মতিন ‘পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল ) গঠন করেন।
১৯৯২ সালে তিনি বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
২০০৬ সালে ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে তিনি পদত্যাগ করেন। পরবর্তীকালে ২০০৯ সালে হায়দার আকবর খান রনোর নেতৃত্বে ওয়ার্কার্স পার্টি (পুনর্গঠন) গঠিত হলে আবদুল মতিন তাদের সঙ্গে যোগ দেন।
সর্বশেষ বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ছিলেন তিনি।






মন্তব্য চালু নেই