মেইন ম্যেনু

পরীক্ষা না দিয়েও মিলছে সার্টিফিকেট : টিআইবি

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্লাস না করে, পরীক্ষা না দিয়ে টাকার বিনিময়ে সার্টিফিকেট পাওয়া যায়।’

সোমবার দুপুরে মহাখালীর ব্রাক সেন্টারে ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তোরণের উপায়’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। প্রতিবেদনটি পেশ করেন ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার (রিসার্জ অ্যান্ড পলিসি) মিনা শামসুন্নাহার ও রিসার্স অ্যান্ড পলিসি পরিচালক মো. রফিক হাসান।

বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর সার্বিক পর্যবেক্ষণ করে টিআইবি তার প্রতিবেদনে বলেছে, ‘বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের একক ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের সুযোগের কারণে ভিসি- প্রভিসি সিন্ডিকেট ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদসমুহ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নামমাত্র ভূমিকা পালন করছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও সমন্বয়হীনতার অভাবে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতির উদ্ভব ও প্রসার লক্ষ করা গেছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অলাভজনক খাত হওয়ার পরও মুনাফাভিত্তিক খাতে পরিণত হয়েছে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘এই খাতটি মুনাফাভিত্তিক খাতে পরিণত হওয়ায় ট্রাস্টিবোর্ড নিয়ে দ্বন্দ্ব, ক্যাম্পাস দখল, শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট, উদ্যোক্তাদের সামাজিক, রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে তদারকি বা নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ অসহায় হয়ে পড়েছে।’

‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির অপর্যাপ্ত জনবল, অর্থিক সক্ষমতা না থাকায় সুষ্ঠু তদারকির অভাব লক্ষ করা গেছে’ বলে প্রতিবেদনটিতে প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন, ভিসি-প্রভিসিসহ অন্যান্য পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন ও রাজনৈতিক প্রভাব এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমঝোতামূলক দুর্নীতি লক্ষ করা গেছে।’

এ থেকে উত্তোরণের জন্য বেশ কিছু সুপারিশ করেছে টিআইবি।

এগুলো হলো- বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের পূর্ণ বাস্তবায়নের লক্ষে পূর্ণাঙ্গ বিধিমালা প্রণয়ন। অবিলম্বে অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল গঠন চূড়ান্ত করণের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় সমুহের গুনগত মান উন্নয়নের সহজ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ সংশোধন পূর্বক বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা বোর্ড অফ ট্রাস্টি একক ক্ষমতার সুযোগ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। নিজস্ব নীতিমালা প্রণয়ন করে ইউজিসির জনবল ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। ইউজিসির এখতিয়ার বৃদ্ধির মাধ্যমে নিয়ম লঙ্ঘনে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় যেসব অনিয়ম করছে তা হলো- ট্রাস্টিবোর্ডে শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত নন এমন ব্যক্তি ও পরিবারের সদস্যদের প্রাধান্য দিয়ে দীর্ঘদিন অস্থায়ী ও ভারপ্রাপ্ত ভিসি-প্রভিসির ট্রেজারার দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা। ৭৯টি বিশ্ব বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫২টির ভিসি, ১৮টির প্রভিসি, ৩০টির ট্রেজারার আছে। ভুয়া পিএসডি ব্যবহার, শর্তপূরণ না করা ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকার পরও শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ। কাগজে কলমে ঠিক থাকলেও বাস্তবে খণ্ডকালীন শিক্ষকদের বিষয়ে দুর্নীতি, অনিয়ম, কাগজে কলমে শিক্ষকদের কোটাপূরণ কিন্তু বাস্তবে নেই, শুধু শিক্ষকদের সিভি সংরক্ষণ করা আছে। অবৈধভাবে আউটার ক্যাম্পাস পরিচালনা (ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪০টি পর্যন্ত অবৈধ ক্যাম্পাস খোলার দৃষ্টান্ত রয়েছে)। ক্লাস না করে ও পরীক্ষা না দিয়ে টাকার বিনিময়ে সার্টিফিকেট প্রদান। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩০০জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জনপ্রতি তিন লক্ষ টাকার বিনিময়ে সার্টিফিকেট প্রদান।






মন্তব্য চালু নেই