মেইন ম্যেনু

পরপর তিনদিনে দেশের আলোচিত তিন মামলার রায়

রবি, সোম ও মঙ্গল- পরপর তিনদিনে দেশের আলোচিত তিন মামলার রায় দিয়েছেন পৃথক আদালত। তিন মামলায় ৫ জনের ফাঁসি ও ৫ জনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। সঙ্গে রয়েছে জরিমানাও।

আলোচিত যে তিন মামলায় রায় হয়েছে সেগুলো হলো- রাজধানীর শাহজাহানপুরে পাইপে পড়ে শিশু জিহাদের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ওয়াহিদা সিফাতকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলা ও রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যা মামলা।

জিহাদের মৃত্যুর মামলায়, বাংলাদেশ রেলওয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলমসহ ৪ জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আসামিদের ২ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ২ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে।

মামলা দায়েরের ২ বছরের কিছু বেশি সময় পর রোববার এ মামলার রায় দেয়া হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- রেলওয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন, ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম ও ইলেকট্রিশিয়ান জাফর অহম্মেদ শাকি।

এছাড়া রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম ও প্রকৌশলী দীপন কুমার ভৌমিককে খালাস দেয়া হয়েছে।

রাবির সাবেক শিক্ষার্থী ওয়াহিদা সিফাতকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তার স্বামী মো. আসিফ পিসলিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মামলার অন্য আসামিদের খালাস দিয়েছেন আদালত।

এটি হত্যা মামলা হলেও আসিফকে সাজা দেয়া হয়েছে সিফাতকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে।

আলোচিত এ মামলার রায় হয়েছে প্রায় ১ বছর ১১ মাসের মাথায়।

এছাড়া মঙ্গলবার রায় দেয়া হয়েছে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যা মামলার। এ মামলায় জেএমবির পাঁচ জঙ্গির ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে এ মামলা থেকে একজনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- জেএমবির পীরগাছার আঞ্চলিক কমান্ডার পীরগাছা উপজেলার পশুয়া টাঙ্গাইলপাড়ার মাসুদ রানা ওরফে মামুন ওরফে মন্ত্রী (২১), একই এলাকার জেএমবির সদস্য ইছাহাক আলী (২৫), বগুড়ার গাবতলী এলাকার জেএমবির সদস্য লিটন মিয়া ওরফে রফিক (২৩), গাইবান্ধার সাঘাটার হলদিয়ার চর এলাকার সাখাওয়াত হোসেন (৩২) ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পলাতক শিক্ষার্থী আহসান উল্লাহ আনছারী।

জিহাদের মৃত্যু ও মামলা
২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীন শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির একটি পরিত্যক্ত গভীর পাইপে শিশু জিহাদের পড়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। ঘণ্টা খানেকের মধ্যে শুরু হয় শিশুটিকে উদ্ধারের তৎপরতা। এরপর প্রায় রাতভর চলে অভিযান। এক সময় খবর ছড়িয়ে পড়ে পাইপে কেউ পড়েনি। ঘটনার ২৩ ঘণ্টা পর সাধারণ মানুষের চেষ্টায় উদ্ধার করা হয় জিহাদের নিথর দেহ। হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জিহাদকে উদ্ধারের আগেই অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করে ফায়ার সার্ভিস।

এ ঘটনায় জিহাদের বাবা নাসির ফকির ‘দায়িত্বে অবহেলায়’ জিহাদের মৃত্যুর অভিযোগ এনে শাহজাহানপুর থানায় একটি মামলা করেন।

চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ৫নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামান আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ২৬ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।

সিফাতের মৃত্যু ও মামলা
২০১৫ সালের ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় রাজশাহী মহানগরীর মহিষবাগান এলাকায় অ্যাডভোকেট হোসেন মোহাম্মদ রমজানের বাড়িতে রহস্যজনক মৃত্যু হয় গৃহবধূ ওয়াহিদা সিফাতের। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। প্রথমে সিফাত আত্মহত্যা করেছেন বলে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন দাবি করলেও দ্বিতীয় দফার ময়নাতদন্তে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি সামনে আসে।

একই বছরের ২ এপ্রিল এ ঘটনায় মহানগরীর রাজপাড়া থানায় সিফাতের চাচা মিজানুর রহমান খন্দকার সিফাতের স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির নাম উল্লেখ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০০ ধারায় যৌতুকের দাবিতে হত্যা ও সহায়তা করার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।

২০১৬ সালের ২৩ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আহম্মেদ আলী চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

কুনিও হোশি হত্যা ও মামলা
২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর কাউনিয়া উপজেলার সারাই ইউনিয়নের আলুটারি গ্রামে ৬৬ বছর বয়সী জাপানি নাগরিক কুনিও হোশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই সময়ে বাংলাদেশে বেশ কিছু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জঙ্গি সম্পৃক্ততার বিষয়টি আলোচনায় আসে।

জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে বলেও খবর আসে গণমাধ্যমে।

৩ অক্টোর গভীর রাতে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করে পুলিশ।

২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর কাউনিয়া আমলি আদালত-২ এর বিচারক আরিফুল ইসলাম শুনানি শেষে মামলাটি রংপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করেন। এরপর ২৬ অক্টোবর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক হুমায়ুন কবীর বিচারের জন্য মামলাটি বিশেষ জজ আদালতে স্থানান্তর করেন। ১৫ নভেম্বর শুনানি শেষে সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন বিশেষ জজ আদালত।






মন্তব্য চালু নেই