মেইন ম্যেনু

নতুন প্রবণতা, পায়ে গুলি

‘২০১৪ সালে অপহরণ, গুম, গুপ্তহত্যা, ক্রসফায়ার ও বন্দুকযুদ্ধের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে নতুন এক প্রবণতা দেখা দিয়েছে, তা হলো পায়ে গুলি। এ বছর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে যশোর, সাতক্ষীরা, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযুক্তদের পায়ে গুলি করার নতুন এই প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।’

বুধবার সকাল ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও শালিস কেন্দ্র (আসক) এ তথ্য প্রকাশ করে।

এতে বলা হয়, বিদায়ী ২০১৪ সালে কারা হেফাজতে মারা যান ৬০ জন। এছাড়া আটক ও গ্রেপ্তারের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে শারীরিক নির্যাতনে মারা যান ১৩ জন। আর গ্রেপ্তারের আগে নিহত হন ২ জন এবং আত্মহত্যা করেন ১ জন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান আসকের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, ‘২০১৪ সালের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি ছিল উদ্বেগজনক। গত বছরগুলোর মতো ২০১৪ সালেও অপহরণ, গুম, গুপ্তহত্যা, ক্রসফায়ার ও বন্দুকযুদ্ধের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড অব্যাহত ছিল। এ বছর যশোর, সাতক্ষীরা, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযুক্তদের পায়ে গুলি করার একটি নতুন প্রবণতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে লক্ষ্য করা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ক্রসফায়ার, বন্দুকযুদ্ধ ও গুলিবিনিময়ে এ বছর নিহত হন ১২৮ জন, ২০১৩ সালে এ সংখ্যা ছিল ৭২ জন।’

তিনি বলেন, ‘এ বছর ৫ জানুয়ারি ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং পরবর্তী সময়ে উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। ২০১৪ সালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষ, ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে বিরোধীদল এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলসহ মোট প্রায় ৬৬৪টি রাজনৈতিক সংঘাতের ঘটনা ঘটে। এসব রাজনৈতিক ঘটনায় ১৪৭ জন নিহত এবং প্রায় ৮৩৭৩ জন আহত হন।’

তিনি আরো বলেন, ‘পত্র-পত্রিকার প্রকাশিত খবর এবং আসকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৪ সালে সীমান্তে হত্যা ও নির্যাতনসহ মোট ২৭৩টি ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ১৬ জন, শারীরিক নির্যাতনে নিহত হয়েছেন ১৬ জন এবং সীমান্ত থেকে অপহরণের শিকার হয়েছেন ১১০ জন।’

রাষ্ট্রীয় এলিট ফোর্স র‌্যাব বন্ধ করার দাবি জানাবেন কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সুলতানা কামাল বলেন, ‘আমরা কখনও বলি না র‌্যাব বন্ধ হয়ে যাক। আমরা বলতে চাই র‌্যাবকে যে নীতিমালার ভিত্তিতে গড়ে তোলা হয়েছে তার মধ্যে আবদ্ধ থাকতে হবে। তারা যে সব কাজ করছে তা সাংবিধানিক ও মানবাধিকারের দিক থেকে গ্রহণযোগ্য নয়।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকার ও রাজনৈতিক দল সবারই উচিত মানবাধিকার পরিস্থিতি রক্ষা করা।’ এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন নূর খান ও অনির্বান সাহা প্রমুখ।






মন্তব্য চালু নেই