মেইন ম্যেনু

আহতদের কেউ কেউ পেলেন ২০ হাজার টাকা

কমলাপুরে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় ট্রেনের ৬ যাত্রী নিহত

রাজধানীর কমলাপুরের কন্টেইনার ডিপোতে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় ট্রেনের ছয় যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো ১১ জন। এর মধ্যে তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

নিহতদের মধ্যে ঘটনাস্থলে দুইজন এবং বাকিরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। তার মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। একজনের নাম মজিবুর রহমান (৫০), তিনি গার্মেন্ট পার্টস ব্যবসায়ী। তার বাসা মিরপুরে। অপরজন নাইম ইসলাম। সে মুগদার একটি মাদরাসায় নবম শ্রেণীতে পড়তো বলে তার খালাত ভাই মাহফুজ জানিয়েছেন। ঢাকা মেডিকেলে লাশ শনাক্তের পর তিনি জানান, নাইমের বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জ। বাবার নাম ইউনুস আলী। অপরজন আলমগীর (৫০)। আলমগীর সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

তবে বাকি তিনজনের পরিচয় এখনো মিলেনি। বর্তমানে অজ্ঞাত এক তরুণীসহ তিনজনের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল মর্গে রাখা হয়েছে। তারা সবাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা ট্রেন দুপুর ১টায় আইসিডি টার্মিনালের প্রবেশ পথে এন এস সার্ভিস লিমিটেডের একটি কাভার্ড ভ্যানকে (ঢাকা মেট্রো-১১-৮৮৫০) ধাক্কা দিলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে রেলের লোকজন দাবি করেছেন, কাভার্ড ভ্যানটিই ইঞ্জিনের পেছনের বগিতে আঘাত হানে। কাভার্ড ভ্যানের প্রচণ্ড ধাক্কায় ইঞ্জিনের পেছনের বগিটি লাইনচ্যুত হয়। এতে দুমড়ে-মুচড়ে গেছে বগিটি।

দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার আনিসুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।

দুর্ঘটনার পর রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, মহাপরিচালক মো. তাফাজ্জল হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেছেন।

চট্টগ্রাম পোর্ট অথরিটির সিনিয়র অফিসার রমজান আলী জানান, দুর্ঘটনা কবলিত ট্রেনটি দুপুর ১টায় নারায়ণগঞ্জ থেকে কমলাপুরে আসছিল। ট্রেনটি শানটিং গেট দিয়ে টার্মিনালে প্রবেশের সময় বিপরীত দিকে আসা এনএস কার্গো কন্টেইনার সিগনাল অমান্য করে ওই গেটে ঢুকে পড়ে।

কমলাপুরে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় ট্রেনের ৫ যাত্রী নিহতরেলের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন জানান, ট্রেনটি তার স্বাভাবিক গতিতেই স্টেশনে ঢুকছিল। কিন্তু কাভার্ড ভ্যানটি ট্রেনটির ইঞ্জিনের পরের বগির মাঝখানে আঘাত হানে। এতে বগিটি উল্টে যায়। ট্রেনটি চলমান থাকায় তা প্রায় ৭৫ ফুট সামনের দিকে টেনে নিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হরতাল থাকার কারণে নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা ট্রেনটিতে প্রচুর যাত্রী ছিল। সেই সঙ্গে ইঞ্জিনের চারপাশেও ছিল প্রচুর যাত্রী।

এদিকে দুর্ঘটনার পর থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

আহতদের কেউ কেউ পেলেন ২০ হাজার টাকা

r6 আহতদের কেউ কেউ পেলেন ২০ হাজার টাকাসোমবার দুপুরে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় আহত ট্রেনের যাত্রীদের কয়েজনকে ২০ হাজার টাকা করে অনুদান দিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক।

সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহতদের দেখতে গিয়ে এ অনুদান তিনি।

নিহতদের পরিবারের বিষয়ে মন্ত্রী সাংবিদকদের বলেন, ‘যে ঘটনাটি ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। নিহতদের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে তাদের পরিবারের লোকদের রেলভবনে আসতে বলা হবে। সেখানে তাদরে ক্ষতিপূরণ বাবদ কিছু অর্থ দেয়া হবে।’

দুপুর ১টার দিকে দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলেও পরিদর্শনে যান মন্ত্রী। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘দুপুর ১টায় নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী ২১৯নং লোকাল ট্রেনটি স্টেশনে ঢোকার সময় মালবাহী কাভার্ড ভ্যান এসে জোরে ধাক্কা মারে। এতে কাভার্ড ভ্যানের ক্ষতি না হলেও ট্রেনটির বেশ ক্ষতি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘কাভার্ড ভ্যানের চালকই ব্রেক ফেল অথবা অন্য কোনো কারণে ট্রেনটিকে ধাক্কা মারে। এতে ট্রেনের বেশ কিছু যাত্রী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’

সোমবার দুপুর ১টার দিকে রাজধানীর কমলাপুরে একটি কভার্ড ভ্যান সামনে থাকা ট্রেনকে ধাক্কা দেয়। এতে ওই ট্রেনে থাকা ছয়জন নিহত হন। আহত হন আরো ১১ জন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ওই দুর্ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটিও ঘোষণা করা হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই