মেইন ম্যেনু

আপিলে মুজাহিদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের পক্ষে আপিল বিভাগে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন প্রাথমিকভাবে শেষ করেছেন আসামিপক্ষ।

আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রাষ্ট্রপক্ষে এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন। রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম বুধবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চে মঙ্গলবার উভয়পক্ষ যুক্তি উপস্থাপন করেন।

এই বেঞ্চের অপর তিন সদস্য হলেন— বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

আদালতে মঙ্গলবার মুজাহিদের পক্ষে এ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান ও খন্দকার মাহবুব হোসেন যুক্তি উপস্থাপন করেন।

খন্দকার মাহবুব হোসেন আদালতে যুক্তি উপস্থাপনকালে বলেন, ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য বর্তমানের এই আইন করা হয়েছিল। তাদের ছেড়ে দিয়ে আলবদর ও আলশামসদের বিচার হতে পারে না। মুজাহিদ ইসলামী ছাত্র সংঘের সভাপতি ছিলেন। তিনি আলবদর বাহিনীর কোনো পদে ছিলেন না। রাজনৈতিক বিশ্বাসে মুজাহিদ পাকিস্তানের পক্ষে থাকতে পারেন কিন্তু বুদ্ধিজীবীসহ কোনো হত্যায় তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

অভিযোগ দাখিলের সময় মুজাহিদের বিরুদ্ধে ৭ নম্বর অভিযোগ ছিল না উল্লেখ করে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, অনেক পরে তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়েছে। এ মামলার যাবতীয় সাক্ষ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সাক্ষীরা ট্রাইব্যুনালে যে জবানবন্দী দিয়েছে তাতে তাকে সাজা দেওয়া যায় না।

এ সব সাক্ষীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে একটি অভিযোগও প্রমাণ হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুজাহিদ এ মামলায় নির্দোষ প্রমাণিত হবেন এবং খালাস পাবেন।

এরপর এ্যাটর্নি জেনারেল ২৫ পৃষ্ঠার একটি লিখিত যুক্তি আদালতে দাখিল করে দু’টি অভিযোগের বিষয়ে পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন করেন।

মাহবুবে আলম বলেন, সাংবাদিক সিরাজউদ্দিন হোসেন হত্যার সাথে মুজাহিদ সরাসরি জড়িত না থাকলেও তাকে ধরে নেওয়ার প্রেক্ষাপট তৈরি করে দিয়েছিল। ছাত্র সংঘের নেতা হিসেবে প্রেক্ষাপট তৈরির দায় তার।

দুই নম্বর অভিযোগে রঞ্জিত কুমার নাথ নির্যাতনের সঙ্গে মুজাহিদের সম্পৃক্ততা নেই আসামিপক্ষের এমন বক্তব্যের পাল্টাযুক্তিতে এ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, মুজাহিদের সহযোগিতায় পাকসেনারা রঞ্জিত নাথকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করে। তার কথার পরিপ্রেক্ষিতেই পাকসেনারা রঞ্জিত নাথকে খুঁজে পেতে সক্ষম হয়।

এই সম্পৃক্ততার জন্য ট্রাইব্যুনাল তাকে যে ৫ বছর সাজা দিয়েছে তা যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে এ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এই অভিযোগে তার সাজা আরো বেশি হতে পারতো।

গত ১৮ মে রাষ্ট্রপক্ষে আংশিক যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

এর আগে গত ২৯ এপ্রিল এবং ৪, ৫, ৬, ১৭ ও ১৮ মে আপিলে পেপারবুক পড়া শেষ করেন মুজাহিদের আইনজীবী।

২০১৩ সালের ১৭ জুলাই মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। পরে একই বছরের ১১ আগস্ট খালাস চেয়ে সুপ্রীম কোর্টে আপিল করেন মুজাহিদ।

ট্রাইব্যুনালের পুরো রায়ের বিরুদ্ধে ১১৫টি যুক্তি নিয়ে আপিল করেন মুজাহিদ। ট্রাইব্যুনাল যে সব কারণে সাজা দিয়েছেন তার আইনগত ও ঘটনাগত ভিত্তি নেই বলেও দাবি করেন তিনি। মূল আপিল ৯৫ পৃষ্ঠার, এর সঙ্গে ৩ হাজার ৮০০ পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট দাখিল করা হয়েছে।

মুজাহিদের বিরুদ্ধে আনা ৭টি অভিযোগের মধ্যে ৫টি প্রমাণিত হয়েছে এবং ২টি প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে পারেননি বলে ট্রাইব্যুনালের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১, ৩, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং ২ ও ৪ নম্বর অভিযোগ প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে পারেননি। প্রমাণিত ১ নম্বর অভিযোগকে ৬ এর সঙ্গে সংযুক্ত করে এ দু’টি অভিযোগে সমন্বিতভাবে ও ৭ নম্বর অভিযোগে মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ড, ৫ নম্বর অভিযোগে যাবজ্জীবন এবং ৩ নম্বর অভিযোগে ৫ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। প্রমাণিত না হওয়া ২ ও ৪ নম্বর অভিযোগে খালাস পেয়েছেন মুজাহিদ।






মন্তব্য চালু নেই