মেইন ম্যেনু

অপরাধ কমলেও ধর্ষণ বেড়েছে, বেড়েছে নৃশংসতাও

গত মে মাসে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে ১ হাজার ৭৪৬টি। এর মধ্যে অপহরণের শিকার হয়েছে ৪৪ জন। এরমধ্যে নিখোঁজ রয়েছে ৩৩ জন। রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছে ৩৫ জন, আহত হয়েছে ১১৭ জন। আর চিকিৎসকের অবহেলায় মৃত্যু হয়েছে ১০ রোগীর। এছাড়া ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার সংখ্যা বেড়েছে।

রোববার বিকেলে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা (বিএমবিএস) দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য দেয়। সংস্থার সভাকক্ষে প্রতিবেদন প্রকাশ করেন বিএমবিএসর নির্বাহী পরিচালক আবুল বাসার।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এপ্রিল মাসের তুলনায় মে মাসে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা সংখ্যায় কমলেও নিষ্ঠুরতা ও তীব্রতার দিকে থেকে বেড়েছে। এখন প্রকাশ্যে দিবালোকে রাজপথে নৃশংসভাবে হত্যা ও পুড়িয়ে মারার মতো অপরাধ করতেও ভয় পায় না অপরাধীরা। এক্ষেত্রে সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাত অপহরণ ও পরে খুন এবং গুলি করে ও পুড়িয়ে ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল হককে নৃশংস হত্যার ঘটনা তুলে ধরা হয়।

আবুল বাসার বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। খুন-গুমের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় জনমনে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। আইনের শাসনের দুর্বলতায় পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারাদেশে পৃথক ঘটনায় মে মাসে মৃত্যু হয়েছে ৫২০ জনের এবং আহত হয়েছে ১১২৫ জন। এর মধ্যে বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে ১১২ জন ও আহত হয়েছে ১৭৩ জন।

এছাড়া অন্যান্য দুর্ঘটনায় অপমৃত্যু হয়েছে ৭৯ জনের। এসময়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে সামাজিক সহিংসতায় ১০ জন নিহত ও ৫৪০ জন আহত হয়েছে। অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে গৃহকর্মীসহ ৯৪ জন। এরমধ্যে ৫৩ জনই মারা গেছে। বাকিরা ক্ষত চিহ্ন নিয়ে দুর্বিষহ জীবন পার করছে। এসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়েছে তিনজন। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ১২ নারী ও ৩১ পুরুষের লাশ উদ্ধার হয়েছে।

এছাড়া বিভিন্ন কারণে বোমা বিস্ফোরণে নারী পুরুষ ও শিশুসহ আহত হয়েছে ১৪ জন। আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে ২৮ জন নারী ও ১৭ জন পুরুষ। পুলিশ হেফাজতে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিএসএফের গুলিতে ৪ জন নিহত ও ৩ জন আহত এবং আটক হয়েছে ৫ জন। সাংবাদিকের ওপর হামলায় আহত একজনের মৃত্যু ও ২০ জন আহত হয়েছেন। গণপিটুনীতে নিহত হয়েছে ৯ জন এবং ক্রসফায়ারে ৮ জন। এসময়ে গণগ্রেপ্তার হয়েছে ১৬ জন। পাচারকালে উদ্ধার হয়েছে ৩ নারী। ছিনতাইকারী, দুর্বৃত্ত এবং সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হয়েছে ৭৬ জন ও আহত হয়েছে ১১৯ জন।

মে মাসে ১৫ শিশু এবং ১৭ নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে, যা গত মাসের তুলনায় বেশি। এর মধ্যে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ৮ জন এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৭ জনকে। এছাড়াও যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে ১৪ জন। যৌতুকের জন্য জীবন দিতে হয়েছে ৭ নারীকে এবং নির্যাতনে আহত হয়েছে ২ নারী। পাশাপাশি পারিবারিক কলহ ও অন্যান্য কারণে নির্যাতিত হয়ে মারা গেছে ১৬ জন এবং আহত হয়েছে ১৯ জন।






মন্তব্য চালু নেই