স্বাস্থ্যসেবায় রাউজানে কমিউনিটি ক্লিনিকে রোগিদের আস্তা বাড়ছে

দেশের স্বাস্থ্যসেবায় প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত কমিউনিটি কিনিকগুলোতে স্থানীয় রোগীদের ভিড় ক্রমেই বেড়েই চলেছে। রাউজান উপজেলায় ৪১টি কউিিনটি কিনিকের মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌছে দেয়া হচ্ছে। আরো ৩টি উদ্বোধনের অপোয় রয়েছে। হাতের কাছে ফ্রি চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পেয়ে সবাই খুশি। স্থানীয় সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি’র পরামর্শ ও তদারকির কারণে কমিউনিটি কিনিকগুলো মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার হওয়ায় আস্তা বেড়েছে সাধারণ মানুষের।

উপজেলায় ১টি ৫০ ও ১টি ৩৫ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের পাশাপাশি এসব কিনিকগুলো বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণের স্বাস্থ্য সেবা, পরিবার পরিকল্পনা ও পুষ্টি বিষয়ক পরামর্শ দেয়া হয়। ফলে বড় ধরনের অসুখ ছাড়া হাসপাতালে যাওয়া কমিয়ে দিয়েছে গ্রামের মানুষ। উপজেলার ১৪ ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গড়ে উঠেছে প্রায় অর্ধ শতাধিক কমিউনিটি ক্লিনিক। বাস্তবায়নের পথেও রয়েছে কয়েকটি কিনিক। এতে প্রতি জনপদে এসব কিনিককে এখন সেবা নিচ্ছে ধনী দরিদ্র সবাই।

সরেজমিন কমিউনিটি কিনিক ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার প্রত্যক কমিউনিটি কিনিকে সপ্তাহে ২দিন এমবিবিএস চিকিৎসকের পাশাপাশি প্রতিদিন সেবা দিয়ে যাচ্ছে স্বাস্থ্যকর্মীরা। দেখা যায়, রোগিদের ভিড়। পুরুষ ও মহিলারা পৃথকভাবে চিকিৎসা সেবার সুযোগ নিচ্ছে। এতে কখনো লাইনে দাড়িয়ে, কখনো সরাসরি। আবার অনেক কমিউনিটি কিনিকে সরকারী চিকিৎসেবার পাশাপাশি কমিউনিটি কিনিক পরিচালনা কমিটির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় কিনিকের চিকিৎসা সেবার বাহিরেও চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এতে রোগিরা বাড়তি সুবিধা পাওয়ায় দুরবর্তী নগরী বা অন্যজায়গা যেতে হচ্ছে না। যার কারনে কিনিকের সেবার পরিধি ধীরে জনপ্রিয় ও প্রশংসিত হচ্ছে।

এরকম কয়েকটি কিনিকের মধ্যে রয়েছে, উপজেলার নোয়াজিষপুর ইউনিয়নের নদিমপুর হানিফ সওদাগর কমিউনিটি ক্লিনিক, চিকদাইর কমিউনিটি ক্লিনিক, গহিরা শান্তিরদ্বীপ কমিউনিটি ক্লিনিক, নোয়াপাড়া ইউনিয়নের মোকামী পাড়া হাজী সিরাজুল হক কমিউনিটি ক্লিনিক, পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের হাজী নুর হোসেন কমিউনিটি ক্লিনিক। যেখানে সরকারীভাবে ঔষধ দেওয়ার পাশাপাশি ক্লিনিক পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে ডায়াবেসি পরীক্ষাসহ নানা রোগের চিকিৎসাসেবা নিচ্ছে রোগিরা। এখানে প্রতিদিন রোগি হয় ৭০ থেকে ৮০ জনের অধিক। যার কারনে সরকারীভাবে প্রাপ্ত ওষুধও অপ্রতুল হওয়ায় অনেক সময় হিমসিম খেতে হয়। হাজী নুর হোসেন কমিউনিটি কিনিকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে কমিউনিটি কিনিকের হেলথ কেয়ার প্রোফাইটর প্রিয়াসা বড়ুয়া, পরিবার কল্যাণ সহকারি সাথী মুৎসুদ্দী ও স্বাস্থ্য সহকারী সুবর্না ঘোষ।

সম্প্রতি এ কিনিক পরিদর্শণকালে কথা হয় সেবাপ্রার্থী ষাটোর্ধ আনন্দ মোহন বড়ুয়ার সাথে তিনি বলেন, সাধ্যমত সেবা দিয়ে যাচ্ছে কমিউনিটি কিনিক। রংবাহার ও হাছিনা বেগমের সাথে কথা বলে জানা গেছে আমাদের ভরসা এখন কমিউনিটি কিনিক। এখনে সেবা প্রদানকারীরা আন্তরিকতার সাথে সেবা দিয়ে যাচ্ছে বলেও তিারা জানান। এ কিনিক পরিচালনা কমিটির সভাপতি ব্যাংকার মফজল হোসেন জানান, সরকারীভাবে চিকিৎসেবার পাশাপাশি ব্যবস্থাপনা কমিটির সহযোগিতায় ডায়বেটেস পরীক্ষা, প্রেসার মাপাসহ রোগিদের বেশকিছু চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।

মোকামী পাড়া হাজী সিরাজুল হক কমিউনিটি কিনিকের কোষাধ্য এস.এম. হাফিজুর রহমান বলেন, জনগণের দোরগোরায় স্বাস্থ্য সেবা পৌছে দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী অত্যান্ত আন্তরিক। ওনার সু-তদারকির কারনে রাউজানবাসি স্বাস্থ্যসেবায় বেশি সুফল পাচ্ছে। তবে একাধিক কমিউনিটি কিনিকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগনের দাবী যেসব কিনিকে রোগি বেশি সেখানে বাড়তি ঔষধ সরবরাহ করার জন্য। এতে সেবাপ্রার্থীরা সঠিক সেবা পাবেন বলে তারা মনে করেন। রাউজানে এসব কিনিকে গর্ভকালীন, প্রসবকালীন ও প্রসব পরবর্তী সেবা, নিরাপদ মাতৃত্ব, সংক্রমাক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ, দৃষ্টি প্রতিবন্ধিদের চিকিৎসা, শিক্ষা, স্যানিটেশন, এইচআইভি, এইডসসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ নিচ্ছে এসব কিনিকে। ফলে গ্রামের মানুষ আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেত হয়েছেন। ছোটখাটো যে কোনো বিষয় হলেই তারা কমিউনিটি কিনিকে গিয়ে সেবা নিচ্ছেন।

বিষয়টি নিয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নিক্সন চৌধুরী বলেন, রাউজানে এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর প্রচেষ্টায় নির্মিত এসব কমিউনিটি কিনিক জনগণের সর্বোচ্চ সেবা দিতে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ জন্য তিনি নিজেও তদারকি করে যাচ্ছেন। রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অসীম কুমার নাথ বলেন কমিউনিটি কিনিকে এখন প্রসব ছাড়া প্রায় চিকিৎসা সেবা হচ্ছে। তবে ঔষধের ক্ষেত্রে ২৯ প্রকার ঔষধ প্রদান করা হয়। তবে ঔষধের স্বল্পতার এক প্রশ্নে তিনি বলেন, যেখানে ঔষধ বেশি প্রয়োজন আমদের তালিকা দিলে যেখানে কম ব্যবহার হয় সেখান থেকে নিয়ে ব্যবস্থা করে দিয়।



মন্তব্য চালু নেই