শরীর ঠিক থাকবে, আবার কাজও…

প্রতিযোগিতার এই যুগে কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকতে একজনকে কাজ করতে হয় দশ জনের কাজ। কাজে জয়ী হতে শরীর আর মনোযোগ ঠিক রাখা প্রয়োজন সবার আগে। প্রয়োজন পড়ে স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের। হাজারো কাজের চাপে খাবার গ্রহণ দূরে থাক, প্রয়োজনীয় বিশ্রাম পর্যন্ত নেয়া সম্ভব হয় না। সেজন্য প্রয়োজন কিছু কৌশল অবলম্বন করা। আপনাকে কর্মক্ষেত্রে প্রাণবন্ত রেখে কাজের উদ্দীপনা জাগাতে এই কৌশলের কোনো বিকল্প নেই, অপরদিকে বাড়তি সময় ব্যয় করার প্রয়োজনই নেই। কাজের ফাঁকে খাওয়ার অভ্যাসে শরীর ঠিক থাকবে, আবার কাজও ঠিক থাকবে। তাই..

দুপুরের খাবার

সকালে তাড়াহুড়ো করে বের হওয়ার কারণে বেশিরভাগ কর্মজীবীরই ঠিকমতো নাস্তা করা হয়না। সেক্ষেত্রে দুপুরের খাবারটা খুবই জরুরি। অনেককেই দেখা যায় নিজের টেবিলে কাজ করতে করতেই টুকটাক খাবারে লাঞ্চ সেরে ফেলেন। কেউবা মনোযোগ ধরে রাখতে কিছুক্ষণ পরপরই কফি পান করেন। কেউ আবার রাতে ভালো খাবেন বলে অফিসে সামান্য কিছু খেয়ে নেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ নিয়ম মোটেই ঠিক নয়। এই অভ্যাস শরীরে অবসাদ এনে দেয়, কাজের মনোযোগও নষ্ট করে দেয়। তাই দুপুরের খাবার হওয়া চাই ঠিকঠাকমতো।

টুকিটাকি খাবার

আগেই রান্না করে রাখা বা কিছু শুকনা জাতীয় খাবার কর্মস্থলে নিয়ে যেতে পারেন। সম্ভব হলে একটু গরম করে চট করে খেয়ে নিন। পেটও ভরবে কাজেও মনোযোগ বাড়বে। খাবার গরম করার ব্যবস্থা না থাকলে শুকনা খাবার রাখা ভালো। আবার মৌসুমি কিছু ফলও রাখতে পারেন কাজের ফাঁকে খাওয়ার জন্য।

খাদ্যআঁশের যোগান

মানুষের শরীরে দিনে কমপক্ষে ১০০ গ্রাম আঁশযুক্ত খাবার প্রয়োজন। তাই ভুষি বা দানাযুক্ত রুটির ভেতরে মুরগীর মাংসের স্লাইস, শষা, টমেটো, সালাদ পাতা আর সামান্য পনির দিয়ে তৈরি করে ফেলুন আঁশযুক্ত স্বাস্থ্যসম্মত স্যান্ডউইচ। সহজে হজম হবে আপনার পেটকে রাখবে পরিষ্কার আর রুটিতে থাকা শর্করা যোগাবে শক্তি।

তাজা সালাদ

অনেকের অভ্যাস দুপুরে শুধু সালাদ খাওয়া। সুন্দর করে কাটা এসব সালাদে থাকে নানারকম সালাদ পাতা, টমেটো, গাজর, বিট, আপেল। কেউ দেন একেবারে চিকন করে কাটা কয়েক স্লাইস হালকা ভাজি করা মুরগির মাংস। সালাদটি রসালো করতে ছড়িয়ে দেন লেবু, দই, অলিভওয়েল, তিলের তেল, সামান্য লবণ আর চিনি। ক্লান্তি দূর করে ভিটামিনে ভরপুর এই সালাদ যে কাউকে করবে তরতাজা।

উপযুক্ত খাবার

অফিসে হঠাৎ করে খুব খিদে পেলে ঝটপট বিস্কুট বা কেক খেয়ে নেন। এসব খাবারে কিছুক্ষণের জন্য পেট ভরলেও খুব তাড়াতাড়িই এনার্জি নীচের দিকে চলে যায়। এনার্জি ঠিক রাখতে বিভিন্ন ধরণের বাদাম, শুকনো ফল সংগ্রহে রাখতে পারেন। প্রোটিনের উৎস বাদামের মধ্যে আখরোটে রয়েছে অনেক বেশি পরিমাণে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, যা ব্রেনকে নানা রোগ থেকে দূরে রাখে।

ফ্রেশ জুস

স্বল্প সময়ে বানানো যায় নানা ধরনের ফল, গাজর বা টমেটোর জুস। কাজের ফাঁকে বা লাঞ্চের আগে জুসটি খেয়ে নিতে পারেন। রঙিন ফল বা সবজিতে থাকে লাইকোপেন, যা শরীর খুব সহজে গ্রহণ করতে পারে এবং দেহে এনে দেয় এক তরতাজাভাব। শরীরের ভিটামিন এ, বি ১২ এবং সি-এর অভাব পূরণ করে। শুধু জুস নয়, দিনে একটি আপেলও খেতে পারেন অফিসে বসে। আপেলে রয়েছে মিনারেল, আয়রন এবং প্রচুর ভিটামিন, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন।

সামান্য ক্যাফেইন

অফিসে কফি পান একেবারেই স্বাভাবিক। কফি কিছুক্ষণের জন্য মস্তিস্ককে চাঙ্গা করে ঠিকই তবে বেশি পরিমাণ খাওয়া আবার ক্ষতিকর। যারা বেশিক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখতে চান তারা দিনে যত ইচ্ছা সবুজ চা পান করুন। সবুজ চা’য়ে রয়েছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, তাছাড়া শরীরে পানির অভাবও পূরণ করবে। তাছাড়া অফিসে দিনে অন্তত এক লিটার পানি পান করা উচিৎ।

বিশ্রাম নিন কাজের ফাঁকে

সময় নেই ভেবে কম্পিউটারে কাজ করার সময় কখনো খাবেন না। কাজের মধ্যে খাবার খেলে মস্তিষ্কের কোনো বিশ্রাম হয়না। কিছুক্ষণের জন্য কাজ রেখে কিছু খাবার খেয়ে নিতে পারেন। ইচ্ছে করলে সহকর্মীদের সঙ্গে খেতে পারেন। হালকা কোনো আলাপে মনটাকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিলেও পুরোপুরি বিশ্রাম সম্ভব।



মন্তব্য চালু নেই