রাবি ও রুয়েটে শিবিরের নয়া কৌশল

পূজা ও ঈদের ছুটিতে একাধিক মামলার আসামি ছাত্রশিবিরের ক্যাডাররা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ও প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) আশপাশের এলাকায় অবস্থান করে সাংগঠনিক তৎপরতা চালিয়েছে। কয়েকদিনে একাধিক বৈঠক করে রাবি ও রুয়েট দখলের পরিকল্পনাও করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে ক্যাম্পাসে ইসলামি ছাত্রশিবিরের যে কোনো তৎপরতা ঠেকাতে সতর্ক রয়েছে ছাত্রলীগ। পূজা ও ঈদের ছুটির মধ্যে ছাত্রশিবিরের বেশ কিছু ক্যাডার ক্যাম্পাসের আশপাশের এলাকায় অবস্থান ও নাশকতা চালিয়ে দখলের পরিকল্পনার তথ্যে তাদের এই সতর্ক অবস্থান বলে জানিয়েছে ছাত্রলীগ।

এদিকে পবিত্র ঈদুল আজহা ও শারদীয় দুর্গাপূজার টানা ১৪ দিন ছুটি শেষে সোমবার খুলেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)। শুরু হয়েছে শিক্ষার্থীদের ক্লাশ-পরীক্ষাও। আগামী ১৯ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে।

এছাড়াও মঙ্গলবার রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু হচ্ছে। আগামী ১৬ অক্টোবর রুয়েটে প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

ছাত্রশিবিরের একটি সূত্র দাবি করেছে সর্বশেষ গত ১০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন একটি বাড়িতে ছাত্রশিবিরের নেতারা গোপন বৈঠক করেছেন। সে বৈঠকে রাবি ও রুয়েটের ভর্তি পরীক্ষার বিষয়েও নেতাকর্মীদের দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কৌশল অবলম্বন করে রাবি ও রুয়েটের ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা দেয়ার জন্য শিবিরের নেতা-কর্মীরা সমর্থকদের নির্দেশ দিয়েছে বলে সূত্রটি জানায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক সাদেকুল আরেফিন মাতিন জানান, সোমবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা শুরু করা হয়েছে। আর ১২ দিন বন্ধ রাখার পর রোববার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল আবাসিক হল খুলে দেয়া হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে গত ১১ অক্টোবর। ঈদ ও পূজা উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসসমূহ ছুটি ঘোষণা করা হয় গত ২৯ সেপ্টেম্বর বলে জানান তিনি।

অধ্যাপক মাতিন বলেন, ক্যাম্পাসের আইনশৃংখলার দায়িত্ব সম্পূর্ণ পুলিশের উপর দেয়া রয়েছে। যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান রানা বলেন, ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবিরের যে কোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে ছাত্রলীগ সর্তক অবস্থানে রয়েছে।

সভাপতি রানা বলেন, ‘পূজা ও ঈদের ছুটির মধ্যে একাধিক মামলার আসামি ছাত্রশিবিরের ক্যাডাররা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকায় অবস্থান করে সাংগঠনিক তৎপরতা চালিয়েছে। কয়েকদিনে একাধিক বৈঠক করে রাবি ও রুয়েট দখলের পরিকল্পনা করেছে।

এছাড়াও স্থানীয় লোকজনের সমর্থণ পেতে ঈদের দিন বিভিন্ন স্থানে কোরবানি করে মাংস এলাকার মানুষের মাঝে বিতরণও করেছে শিবির ক্যাডারা। তাদের এসব বৈঠক ও নয়া কৌশলের তৎপরতার ছবি রাবি শিবিরের সভাপতি ইমন তার নিজস্ব ফেসবুক আইডিকে পোস্ট করেছে। শিবিরের এসব কর্মকাণ্ড দেখে এখন শঙ্কিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা। যে কোনো সময় শিবির ক্যাম্পাসে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাতে পারে।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ক্যাম্পাসের কোন ধরনের সহিংসতা চাই না। ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সব হল খুলে দেয়ার দিন থেকে ছাত্রলীগ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’

ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি আয়তুল্লাহ খোমনী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় একটি উন্মুক্ত জায়গা। এর আগে আমরা দেখেছি সহিংসতা সৃষ্টিকারী অস্ত্রধারীরাই ক্যাম্পাসে পুলিশের সামনে মহাড়া দেয়। তবে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। আমরা ক্যাম্পাসের কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখতে চায় না। ক্যাম্পাসের শান্তি শৃংঙ্খলা রক্ষার্থে প্রশাসনের পাশাপাশি সবাইকে শিক্ষার্থীদেরও আন্তরিক হতে হবে বলে জানান তিনি।

মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পূজা ও ঈদের ছুটির মধ্যে ছাত্রশিবিরের কিছু ক্যাডার ক্যাম্পাসের আশাপাশের এলাকা অবস্থান করছে। তবে যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাস ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকা নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলেও জানান ওসি।

তবে এ নিয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্য যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ইসলামি ছাত্রশিবিরের কাউকে পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ গত ১৮ অক্টোবর রুয়েটের শহীদ লে. সেলিম হলে হামলা চালিয়ে ছাত্রশিবিরের ৯ নেতাকর্মীকে মারপিট করে পুলিশে দেয় ছাত্রলীগ। এর জের ধরে বিকেলে শিবিরকর্মীরা সেলিম হল দখলের চেষ্টা করলে তাদের সঙ্গে পুলিশ-ছাত্রলীগের সংঘর্ষ হয়। এর জের ধরে শিবিরকর্মীরা রাবি ও রুয়েট দখলের পরিকল্পনা করছে বলে ছাত্রলীগ নেতারা জানিয়েছে।



মন্তব্য চালু নেই