যা করে গেল রকিব কমিশন

কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন (ইসি) শপথ নেন ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। প্রথম দিনই প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ জানান, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার মাধ্যমে তিনি তাঁর গুরু দায়িত্ব পালন করবেন।

রকিবউদ্দীন আহমদ বলেন, ‘আমাদের কাজের মধ্য দিয়েই আমরা সবাইকে তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারব।’ সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর পর দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তখন সিইসি বলেন, ‘যেকোনো সিস্টেমের অধীনেই সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব।’

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় বহুল আলোচিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ১৫৩টি আসনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট নির্বাচন বর্জন করে।

ব্যাপক সহিংসতার মধ্য দিয়ে হওয়া দশম এ সংসদ নির্বাচনে ভোট পড়ে ‘৪০ শতাংশ’। নির্বাচন কমিশনের ভোটার উপস্থিতির এই হিসাব দেখে অনেকের ভ্রু কুঁচকে যায়। তবে কমিশন কোনো সমালোচনা গায়ে মাখেনি।

তখন সিইসি রকিবউদ্দীন বলেন, ‘৯৮ শতাংশ ক্ষেত্রে কোনো রকম সহিংসতা হয়নি।’

সাত হাজার নির্বাচন
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছাড়াও সবমিলে রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন কমিশন সাত হাজার নির্বাচনের আয়োজন করে। রাষ্ট্রপতির নির্বাচন থেকে শুরু করে এর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন।

রকিবউদ্দীনের কমিশন ২০১৩ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করে। এরপর আয়োজন করে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। অন্যান্যগুলোর মধ্যে আছে নবম সংসদের শূন্য আসনের সাতটি উপনির্বাচন, দশম জাতীয় সংসদের ৯টি উপনির্বাচন, দশম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনে নির্বাচন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন ১০টি, সিটি করপোরেশনের উপনির্বাচন-৭টি, পৌরসভা নির্বাচন ২৮৪টি, পৌরসভা উপনির্বাচন ৯৫টি, প্রথম জেলা পরিষদ নির্বাচন ৬১টি, উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ৪৮৭টি, উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচন ১০টি, উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে নির্বাচন ৪৭০টি, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন চার হাজার ২৯৪টি এবং ইউনিয়ন পরিষদের উপনির্বাচন এক হাজান ৩৭৩টি।

ছয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। ধাপে ধাপে বাড়ে সহিংসতা প্রাণ যায় সাতজনের। অনিয়ম ছিল সর্বত্র। সিইসি বলেন, ‘যেটা হয়েছে সেটা হচ্ছে বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং এটা হবেই।’

২০১৫ সালের শেষ দিকে প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে হয় পৌরসভা নির্বাচন।



মন্তব্য চালু নেই