যশোরের খবর (১৫/১০/১৪)

এসআই’র বিরুদ্ধে অর্থ বাণিজ্যে অভিযোগ:
যশোর কোতয়ালি থানার এসআই শেখ আজগর আলীর বিরুদ্ধে ব্যাপক অর্থ বানিজ্যেও অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি তিনি শহরের চাঁচড়া রায়পাড়ার এক বাড়িতে ম্যাজিষ্ট্রেট কিংবা সিনিয়র পুলিশ কর্তা ছাড়াই তল্লাশীর নামে ঘরে প্রবেশ করে আলমীরা,শোকেচের ড্রয়ার ভেঙ্গে মোটা অংকের নগদ টাকা স্বর্ণালংকর হাতিয়ে নিয়েছে। পরে ওই আলোচিত এসআই সামান্য পরিমান টাকা,হেরোইন এবং ফেনসিডিল উদ্ধার দেখিয়ে থানায় মামলা কওে দায় মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেছে।
অভিযোগে জানা গেছে,সোমবার ১৩ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ৯ টায় কোতয়ালি থানার সিভিল টিমের মোবাইল-১৭ এসআই শেখ আজÍ আলীসহ একদল পুলিশ শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া কয়লাপট্টি মৃত সেকেন্দারের পুত্র ইউনুচ এর ঘর ঘেরাও করে। পুলিশের অভিযানের পূর্বে ইউনুচ টেরপেয়ে দ্রুত সটকে পড়ে। এ সময় উক্ত এসআই প্রতিবেশী কিংবা জেলা প্রশাসনের কাউকে না ডেকে ইউনুচের বাড়ির প্রবেশ করে। এসআই শেখ আজগর আলীর সাথে তার টিমের কনস্টেবল নং ১৬১৭ তুষার,কং ১৭৮৫ মারুফ,কং ১৫৪১ আপেল ছিলেন। উক্ত এসআইয়ের টিমের পুলিশ সদস্যরা মাদক ব্যবসায়ী ইউনুচের ঘরে ঢুকে ঘরের মধ্যে থাকা আলমীরা,শোকেচের ড্রয়ারসহ বিভিন্ন স্থান ভেঙ্গে তল্লাশী কার্যক্রম শুরু করে। এলাকাবাসীর নিকট ইউনুচ জানান,তার ঘরে থাকা প্রায় লক্ষাধিক টাকা কিছু স্বর্নালংকর শোকেচ ও আলমীরার মধ্যে থেকে পুলিশ তল্লাশী কালে পেয়েছে।অথচ উক্ত এসআই ইউনুচকে না পেয়ে তার ঘর হতে মাত্র ২৩ গাহার ১৬৫ টাতা, ৫০ গ্রাম হেরোইন,২০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার দেখিয়েছে। শুধু তাই নয় উক্ত এসআই স্বর্ণালংকর ও মোটা অংকের টাকা হজমের উদ্দেশ্যে ইউনুচের বাড়ির আশপাশের কাউকে স্বাক্ষী হিসেবে না ডেকে তার পছন্দমত সোর্স চাঁচড়া বাজার মোড়ের মৃত আনছার আলীর পুত্র জয়নাল,আব্দুস সাত্তারের পুত্র বাচ্চু ও সালাউদ্দিনের পুত্র নাদিমকে মাদক বিক্রিত উল্লেখিত টাকা,৫০ গ্রাম হেরোইন ও ২০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধারে স্বাক্ষী হিসেবে জব্দ তালিকা প্রস্তুুত করেছেন বলে সুত্রগুলো দাবি করেছেন।সুত্রটি আরো জানান,উক্ত এসআই ইউনুচকে পলাতক দেখিয়ে কোতয়ালি থানায় এজাহার দায়ে করেছেন। কোতয়ালি থানার মামলা নং ৫০ তারিখ ১৩/১০/১৪ ইং ধারা ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে তৎসহ ১৯৯০ সালের মাদক দ্রব্য আইনের ১৯(১)১(খ) পেনাল কোড।একটি সুত্র বলেছেন,শেখ আজগর আলী ইউনুচের বাড়িতে অভিযানে যাদেরকে স্বাক্ষী বানিয়েছেন আদৌ তারা ইউনুচের বাড়িতে তল্লাশীর সময় প্রবেশ করে নাই।তাছাড়া,ইউনুচের বাড়িতে থাকা লক্ষাধিক টাকার মধ্যে কিছু জমা দিলেও স্বর্ণালংকর উদ্ধার করলেও আত্মসাত করেছে যা নিয়ে ওই এলাকায় নানা গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে।অভিযানে যে পুলিশ সদস্য ও পাবলিক স্বাক্ষী তিনি দেখিয়েছেন তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে উক্ত এসআইয়ের মোটা অংকের টাকা ও স্বর্ণালংকর আত্মসাতের বিষয়টি ফাঁস হয়ে পড়বে বলে সুত্রটি নিশ্চিত করেছেন।এ ব্যাপারে উক্ত এসআই শেখ আজগর আলীকে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি দম্ভোক্তি ভাবে বলেন,মাদক ব্যবসায়ী যদি বলে থাকে তাহলে আপনারা লিখেদেন।লাখ নয় কোটি টাকা বললে তাই লিখে দেন।অপর একটি সুত্র বলেছেন,শেখ আজগর আলী বিগত বছর খানেক যাবত কোতয়ালি থানায় যোগদান করার পর সিভিল টিমের দায়িত্ব পাওয়ার পর কোটিপতি হওয়ার জন্য বিভোর হয়ে পড়েন।ইতিমধ্যে বিভিন্ন ক্ষমতা অপব্যবহার করে তিনি বেশ লাভবান হয়েছে।বর্তমানে শেখ আজগর আলী ড্যাম কেয়ার হিসেবে চাকুরী করছেন।

ওসির বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল:
মঙ্গলবার সকালে যশোর শহরের চিত্রা মোড়ে ছাত্রলীগের উদ্যোগে কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ইনামুল হকের অপসারনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এতে বক্তব্য রাখেন ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ। এ সময় বক্তরা কলেজের শিক্ষার পরিবেশ বিনিষ্টকারি সন্ত্রাসীদের আশ্রায় ও প্রশ্রয়দানকারি কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ইনামুল হকের অপসারণ দাবি করেন। সমাবেশের আগে যশোর কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জের দায়িত্ব অবহেলার কারনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইভটিজিং, চুরি ও ছিনতাইয়ের প্রতিবাদে যশোর সরকারি এম এম কলেজ থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। বিক্ষোভ মিছিল শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

অনৈতিক কর্মকান্ড করার অপরাধে তিনজন আটক:
যশোর কোতয়ালি থানা পুলিশ সদরের তেঘরিয়া গ্রামের এক বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় যুবক যুবতীও বাড়িওয়ালাকে আটক করেছে। আটককৃতরা হচ্ছে খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলা সরল গ্রামের আব্দুল আলিমের পুত্র রাসেল (৩০),যশোর বেনাপোল পোর্ট থানার বড় আঁচড়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর কন্যা রিমা ও বাড়িওয়ালা সদরের তেঘরিয়া গ্রামের ইউসুফ আলীর স্ত্রী শাবানা।
সামবার গভীর রাতে কোতয়ালি থানার এএসআই আতাউর রহমান শাবানা বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় রাসেল,রিমাকে একটি কক্ষে স্বামী স্ত্রী হিসেবে থাকা অবস্থায় আটক করে। এ ব্যাপারে যশোর কোতয়ালি থানায় মামলা হয়েছে।

দুই সন্ত্রাসীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার:
যশোরের শীর্ষ দুই সন্ত্রাসীর গুলিবিদ্ধ লাশ কালীগঞ্জ থানার ফুলবাড়ি গ্রামের রাস্তার পাশ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা হচ্ছে যশোর সদরের রাজাপুর গ্রামের ভদো ম-লের পুত্র হাদি ও রফিকুল ইসলামের পুত্র সোহাগ।
মঙ্গলবার সকালে ফুলবাড়ি গ্রামের লোকজন পাকা রাস্তার পাশে দু’ব্যক্তির মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘঁনা স্থলে থেকে লাশ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন জানান পুর্ব পরিকল্পিতভাবে তাদেরকে ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে। পরে তারা তাদের লাশ রাস্তার পাশে ফেলে যায়। পর রাস্তার পাশে ফেলে রেখে দেয়। নিহতদের মাথায়, বুকে ও পিঠে গুলির চিহ্ন আছে। পুলিশ জানায় নিহত দু’জনের বিরুদ্ধে যশোরের বিএনপি নেতা খলিলুর রহমান ও কোহিনুর রহমান হত্যাসহ একাধিক হত্যা-ডাকাতি ছিনতাইয়ের অভিযোগ রয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, হাদি ও সোহাগকে সোমবার রাতে পুলিশ পরিচয়ে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায় অস্ত্রধারীরা। আটকের পর তাদের দু’জনকে হাতকড়াও পড়ানো হয় তাদের পরিবারের সামনে ।

ব্যবসায়ী মনিরুল আলমের লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন:
যশোর শহরের হোটেল কোকো থেকে পাটের জিন আবিষ্কারক ড. মাকসুদুল আলমের ভাই ব্যবসায়ী মনিরল আলম আতœহত্যা করে। তার লাশের ময়না তদৗল্প সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় যশোর কোতয়ালি থানার পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। তবে তার মৃত্যু নিয়ে নিশ্চিত করে পুলিশ কিছু বলতে পারেনি। সে ঢাকা লালবাগ থানার চকবাজারের গৌরসুন্দর রোডের মৃত দলিল উদ্দিনের পুত্র। হোটেল কর্তৃপক্ষ জানায় গত ১১ অক্টোবর রাতে ব্যবসায়ী পরিচয়ে মনিরুল আলম হোটেলের ১ নং কক্ষ ভাড়া নেয়। সোমবার দুপুর থেকে তার কক্ষের দরজা বন্ধ ছিল সে কারনে রাতে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনা স্থল থেকে মনিরুলের লাশ উদ্ধার করে। পরে লাশের ময়না তদন্ত যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের মর্গে সম্পন্ন হয়েছে।

মুক্তযোদ্ধা কমান্ডারের বিরুদ্ধে মামলা ॥ আন্দোলনের ডাক:
যশোর চৌগাছা উপজেলা মুক্তযোদ্ধা কমপে¬ক্স ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে শুর হয়েছে নোংড়া রাজনীতি। মুখোমুখি অবস্থানে উপজেলা প্রশাসনের বেশ কয়েকটি দপ্তর। বিষয়টি নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন জেলা প্রশাসন। এদিকে এই ভবন নির্মানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি কুচক্রি মহলের ইন্ধনে উপজেলা কৃষি বিভাগের থানা পুলিশ করাকে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারাা দেখছেন চ্যালেঞ্জ হিসেবে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নামে বরাদ্ধকৃত সম্পত্তি ও তৎসহ ভবন জবর দখলের অভিযোগে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবুল হাসানের দায়ের করা ওই মামলায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার ডাঃ নূর হোসেনসহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামী করা হয়েছে। যার ফলে ওয়ার্ক ওর্ডার পাওয়ার পরও মেসার্স চিত্রা কনস্ট্রাকশন কাজ শুরু করতে না পারায় ক্ষুব্ধ উপজেলা ও জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা। ক্ষুব্ধ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনও। অপরদিকে কৃষি বিভাগের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা প্রত্যাহারসহ সংশি¬ষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তোলার ঘোষনা দিয়েছেন উপজেলারমুক্তিযোদ্ধার কমান্ড কাউন্সিল।
খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘ দাবির প্রেক্ষিতে সম্প্রতি সরকার গুরুত্বপূর্ণ জেলা ও উপজেলাতে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর সেনানী জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তান মু্িক্তযোদ্ধাদের জন্য কমান্ড কাউন্সিলের নিজস্ব কমপে¬ক্স ভবন নির্মানের উদ্যোগ নেন। সেই লক্ষে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে চৌগাছা উপজেলা মুক্তযোদ্ধা কএপ¬ক্স ভবন নির্মানের জন্য ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বরাদ্ধ করে। একই সাথে উক্ত ভবন নির্মানের জন্য উপযুক্ত জায়গা সিলেকশন করে তা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের অনুকুলে হস্তান্তরের জন্য জেলা প্রশাসক ও কালেক্টরেট কে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়। অর্থ বরাদ্ধ সাপেক্ষে আনুষ্ঠানিকতা শেষে যশোর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি মেসার্স চিত্রা কনস্ট্রাকশন, ৯ , রেল রোড যশোরকে ওয়ার্ক অর্ডার দেন। কিন্তু নির্মার্ণকারী প্রতিষ্ঠান প্রস্তাবিত চৌগাছা পুরাতন থানা ভবন সংলগ্ন ১ নং খাস খতিয়ান ভুক্ত ৮৯৬ নং দাগে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপে¬ক্স ভবন নির্মানের কাজ শুরু করতে গেলে দেখা দেয় নানা বিপত্তি। পূর্ব থেকে উক্ত জায়গা জবর দখলকারী একটি মহল থেকে শুরু হয় নানা ষড়যন্ত্র। এক পর্যায়ে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় সব অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে জায়গাটি নিষ্কন্ঠক ভাবে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে বুঝিয়ে দেয়া হয়। যার স্মারক নম্বর ০৫.৪৪.৪১১১.০১০.০০.০২২.১৪.২৯১। জমির পরিমান ৮ দশমিক ৯৬ শতক। চৌগাছা পৌর এলাকার ১৭১ নং মৌজার এস এ দাগ নং ০১ । জমির অবস্থান পুরাতন থানা ভবন সংলগ্ন।
এদিকে জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর ভবন নির্মানের কাজ শুরুর প্রক্রিয়ায় হোচট খায় নির্মানকারী প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন প্রকারের বাঁধা বিপত্তি উপেক্ষা করে গত ৫ অক্টোবর সকালে উপজেলা প্রকৌশলীর নির্দেশে সরকারী ভাবে মুক্তিযোদ্ধা কমপে¬ক ভবন নির্মানের জন্য নির্ধারিত জায়গাটির একটি অবৈধ স্থাপনা অপসারনের উদ্যোগ নেয়। প্রকৌশল বিভাগের কর্মীরা বুলডোজার দিয়ে উক্ত স্থানে অবৈধ ভাবে নির্মিত একটি পরিত্যক্ত ভাঙ্গাচোরা ভবন অপসারনের কাজ শুরু করেন। এসময় সেখানে স্থানীয় জনগণসহ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের নের্তৃস্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন। বহু দিনের দাবি পূরণ হতে চলেছে সেই আনন্দে তারাও তখন আতœহারা। কাজের প্রায় শেস পর্যায়ে চৌগাছা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভবন অপসারনের বাকি কাজে বাঁধা সৃষ্টি করেন। তারা জানান, এই ভবনটি দাবি করে উপজেলা কৃষি অফিসার আবুল হাসান থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। ফলে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে আপাতত ভবন অপসারনের কাজ বন্ধ রাখতে পুলিশ প্রশাসন নির্মানকর্মীদের বাধ্য করেন। আবারও হোচট খায় মুক্তিযোদ্ধা কমপে¬ক ভবন নির্মানের কাজ। ফলে হতাশা আর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন উপজেলার কয়েকশো মুক্তিযোদ্ধা। উপজেলা চেয়ারম্যানসহ সংশি¬ষ্টরাও এ ঘটনায় হতবাক হন। ঘটনাটি জানার পর জেলা প্রশাসক ডঃ হুমায়ন কবির উত্তেজিত না হয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের শান্ত থাকার নির্দেশ দেন। তিনি দ্রুত ঘটনাটির সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাস দেন। এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধারা বিষয়টি সুরাহার জন্য উপজেলা কৃষি অফিসারের সাথে যোগাযোগ করেন। কিন্তু তাকে তাৎক্ষনিক তার দপ্তরে না পাওয়ার কারনে ও পর দিন ঈদুল আযহা থাকায় বিষয়টি ঝুলে যায়। এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ঈদের পরে দিন ৭ অক্টোবর আবুল হাসান বাদী হয়ে এ বিষয়ে চৌগাছা থানায় একটি মামলা করেন। যার নম্বর ৫। মামলায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ডাঃ নূর হোসেন, শওকত আলী,মাহাতাব, রুহুল আমিন কে এজাহার নামীয় আসামী করা হয়। এছাড়া আরো ১০/১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামী দেখানো হয়। অপরদিকে এ ঘটনায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপ পরিচালক বাদী হয়ে আদালতে এসংক্রান্ত আরো একটি এই মামলা দায়ের করেন। ফলে অব্যাহত মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলার কারনে থমকে গেছে সরকারের একটি মহৎ উদ্যোগ । সাময়িক ভাবে হলেও বন্ধ হয়ে গেছে চৌগাছা মুক্তিযোদ্ধা কমপে¬ক্স নির্মানের কাজ। এ ঘটনায় ক্ষোভ বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন উপজেলা তথা সমগ্র জেলার মুক্তিযোদ্ধারা। সরকারী ভাবে জমি ও অর্থ বরাদ্ধ দেওয়া এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতার পরও মুক্তিযোদ্ধাদের দীর্ঘদিনের একটি দাবি বাস্তবায়িত না হওয়ায় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। কৃষি বিভাগের খামখেয়ালীপনার কারনে একটি মহৎ উদ্যোগ থমকে যাওয়ায় আন্দোলন সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন উপজেলা ও জেলার কয়েক হাজার মুক্তিযোদ্ধা। দলমত নির্বিশেষে তারা ঐক্যবদ্ধ ভাবে আগামী ১৬ আক্টোবর চৌগাছায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও কৃষি অফিসারের কার্যালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচী ঘোষনা করেছেন। একই সাথে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মামলা প্রত্যাহারের জন্য কৃষি বিভাগের সংশি¬ষ্টদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। এদিকে সরকারের এক মন্ত্রনালয়ের একটি মহৎ সিদ্ধান্তকে ব্যাহত করতে অপর একটি দপ্তরের এই কান্ডজ্ঞানহীন কর্মকান্ডে হতবাক উপজেলা প্রশাসনও। উপজেলা পরিষদের একটি সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে থানা পুলিশ করার কারনে কৃষি অফিসসহ সংশি¬ষ্টদের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতে পারে বলে সংশি¬ষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ডাঃ নূর হোসেন বলেন, সরকারী জায়গায় সরকারী অর্থে সরকারী ভাবে মুক্তিযোদ্ধা কমপে¬ক্স ভবন নির্মিত হচ্ছে। এটা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাণের দাবি। অথচ সম্পূর্ণ ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে কারো দ্বারা প্ররোচিত হয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার আবুল হোসেন আমাকেসহ আরো কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের নামে গত ৭ অক্টোবর একটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা করেছে। আমরা বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহোদয়কে জানিয়েছি । যদি বিষয়টির কোন সুষ্ঠু সমাধান না হয় তবে এ ব্যাপারে আন্দোলন করা ছাড়া আমাদের সামনে কোন বিকল্প থাকবে না।

এহসান এস কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা ॥ মানববন্ধন:
এহসান মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডে বিনিয়োগকারি মাফিজুল ইসলাম ইমনকে মারপিট করে ছিনতাই করে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় সে বাদি হয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের প্যানেল এমডি মুফতি ইউনুছ আহম্মেদ ও এমডি রবিউল ইসলামসহ অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যশোর কোতয়ালি থানায় মামলা করেছে।
গত ৮ অক্টোবর বিনিয়োগকারী ইমনসহ ৩০/৪০ জন এহসান মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডে বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে স্মারক লিপি পেশ করতে যাচ্ছিলেন। মুসলিম একাডেমী স্কুলের সামনে পৌছালে মুফতি ইউনুছ,রবিউল ইসলামসহ তাদের সহযোগী সন্ত্রাসীরা ইমনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারপিট করে। এ সময় তার নিকট হতে নগদ ৫ হাজার টাকা, মোবাইল, স্বর্ণের আংটিসহ ৫৭ হাজার ৫শ’ টাকার মালামাল ছিনিয়ে নেয়। তারা ফিরে যাওয়ার সময় তাকে প্রান নাশের হুমকী দেয়। এদিকে সোমবার সকালে বিনিয়োগকারীরা প্রেসক্লাব যশোর কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিনিয়োগকারী মফিজুল ইসলাম ইমন,মোহাম্মদ হাকিম,সেলিম প্রমুখ।

ইয়াবাসহ একজন আটক:
যশোর চাঁচড়া ফাঁড়ির পুলিশ শহরে অভিযান চালায়। এ সময় মাদক ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমানকে আটক করে। তার কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। সে যশোরের বাঘার পাড়া উপজেলা যাদবপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
সোমবার দুপুরে যশোর চাঁচড়া ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই জামাল উদ্দিন শহরেরসোনালী ব্যাংক কর্পোরেট শাখার সামনে অভিযান চালায়। এ সময় ৫০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমানকে আটক করে। এ ব্যাপারে যশোর কোতয়ালি থানায় মামলা হয়েছে।



মন্তব্য চালু নেই