মুরতাদ লতিফ সিদ্দিকীর সর্বোচ্চ শাস্তি, নাগরিকত্ব বাতিলসহ তার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে -মুফতী ফয়জুল করীম

২০ অক্টোবর ঢাকায় সোহারাওয়ার্দী উদ্যানে বিশাল সমাবেশ, ২২ অক্টোবর দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি পেশ:

ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সরকারের সদ্য অপসারিত মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (স.), ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ পবিত্র হজ্জ, তাবলীগ জামাত, প্রবাসী বাংলাদেশী, সাংবাদিক এবং টকশোতে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিবর্গকে উদ্দেশ্য করে চরম কটাক্ষপূর্ণ আপত্তিকর ও অমার্জনীয় মন্তব্য করায় তাকে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী করে দেশে না আসলে তার নাগরিকত্ব বাতিলসহ তার সকল সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার দাবী জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম। তার এহেন বক্তব্যে গোটা দেশবাসী স্তম্বিত ও ক্ষুব্ধ।

বুধবার দুুপুর ১২টায় পুরানা পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবী জানান।

লিখিত বক্তব্যে মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীম বলেন, তার কান্ড-জ্ঞানহীন বক্তব্যের দায়ে ইতিমধ্যেই ক্ষমতাসীন সরকার এবং তার দল আওয়ামীলীগ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাকে মন্ত্রীপরিষদ থেকে অপসারাণ করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি মন্ডলী থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এতে করে ক্ষমতাসীনরা কিছুটা হলেও বাস্তবতা উপলদ্ধি করতে পেরেছেন। তবে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী যে অন্যায় করেছেন এবং এখনও পর্যন্ত যে ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করছেন সে তুলনায় তার বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপকে কোনো শাস্তিই বলা যায় না।

তিনি বলেন, লতিফ সিদ্দিকীর মতো একজন অসভ্য এবং জ্ঞানপাপী লোক কি করে এতোদিন আওয়ামীলীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ছিলেন এবং বাংলাদেশের একজন মন্ত্রী ছিলেন তা ভেবেই দেশবাসী অবাক হচ্ছে। লতিফ সিদ্দিকীর এ ঘটনায় বর্তমান মন্ত্রীপরিষদের সদস্য এবং আওয়ামীলীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্যদের যোগ্যতা, রুচি এবং শিক্ষা নিয়ে জনমনে বড় ধরনের প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তাই লতিফ সিদ্দিকীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে ক্ষমতাসীনদেরকে প্রমাণ করতে হবে তারা ধর্মবিরোধী অসভ্য এবং জ্ঞানপাপীদের পক্ষে নয়।

ফয়জুল করীম আরো বলেন, অতীতে এদেশে দাউদ হায়দার, তসলিমা নাসরিন, ড.আহমদ শরীফ ও আজগর আলীসহ অনেকে ধর্মকে কটাক্ষ করেছে। এরা কেউ জনপ্রতিনিধি ছিল না। এদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ এদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল। এক শ্রেণির নাস্তিক ও ধর্মবিরোধী শক্তি তাদের পক্ষ নিয়েছিল। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী একজন জনপ্রতিনিধি হওয়া সত্বেও তার পক্ষে কেউ নেই। কারণ, তিনি শুধু ইসলামের বিরুদ্ধেই কথা বলেননি তিনি প্রবাসীদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছেন। তিনি সাংবাদিকদেরকেও কটাক্ষ করেছেন এবং দেশের গুণীজনকে অশ্লীল ভাষায় অপদস্থ করেছেন। প্রকারান্তরে তিনি দেশ এবং দেশের সব শ্রেণির মানুষের বিরুদ্ধে আক্রমণ করেছেন এবং এখনও তিনি ঔদ্ধত্য প্রকাশ করে যাচ্ছেন।

তিনি আরো বলেন, লতিফ সিদ্দিকী রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি চরম মিথ্যাচার করেছে। হজ্জের বিধান মুহাম্মদ (সা.) চালু করেননি। মুসলমান মাত্রই জানে নামাজ, রোজা, এবং যাকাতের মতো হজ্জও আল্লাহর বিধান। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ তা’য়ালা সঙ্গতি সম্পন্নদের হজ্জ পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। আর ইতিহাস সম্পর্কে যাদের ন্যূনতম জ্ঞান আছে তারা জানেন, হজ্জের প্রচলন হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর যুগ থেকে নয় বরং আরো হাজার হাজার বছর আগে হযরত ইবরাহীম (আ.) এর যুগ থেকে শুরু হয়েছে।
অতএব, রাসূলুল্লাহর (সা.) প্রতি মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার কারণে এবং ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ হজ্জ নিয়ে কটাক্ষ করার কারণে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী মুরতাদ তথা ধর্মত্যাগী হয়ে গেছেন। আর ইসলামে মুরতাদের শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড। তাই আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী দেশে ফিরে এলে আমরা তার মৃত্যুদণ্ডের দাবী জানাচ্ছি। আর তিনি যদি দেশে ফিরে না আসেন, তাহলে তার নাগরিকত্ব বাতিলের দাবী জানাচ্ছি। যাতে বিশ্বের দেড়শ কোটি মুসলমান জানতে পারে বাংলাদেশে রাসূল (সা.)-এর এক দুশমনের শাস্তি হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আত্মস্বীকৃত মুরতাদ আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর শাস্তির দাবীতে আন্দোলন করা কোনো রাজানীতি নয়। বরং এটা বাংলাদেশের প্রত্যেক রাসূলপ্রেমী মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব। আমরা আশা করি দলমত নির্বিশেষে সবাই এই ঈমানী দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসবে। আমরা আমাদের ঈমানী দাবী বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়েই যাব, ইনশাআল্লাহ।

মুফতী ফয়জুল করীম ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ আরিফুল ইসলামের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে গ্রেফতার করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তি দাবী করেছেন।

সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, রাজনৈতিক উপদেষ্টা অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, সহকারী মহাসচিব মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, প্রচার সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, প্রিন্সিপাল আতাউর রহমান আরেফী, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাকী প্রমুখ।

কর্মসূচী : মুরতাদ আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর শাস্তির দাবীতে ২০ অক্টোবর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিশাল সমাবেশ, ২২ অক্টোবর, বুধবার সারাদেশে জেলায় জেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি পেশ।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
তারিখ: ১৫/১০/২০১৪ ইং



মন্তব্য চালু নেই