২১ ঘণ্টা কোথায় ছিলেন মান্না?

মান্নার বিরুদ্ধে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে যা আছে

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার বিরুদ্ধে আদালতে বুধবার একটি প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে পুলিশ। রিমান্ড আবেদনের সঙ্গে সেই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন গুলশান থানার এসআই আব্দুল বারেক । আর তা অনুমোদ করেন গুলশান থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম। তার একটি কপি প্রিয়.কম সংগ্রহ করেছে।

আদালতে দেয়া তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১ টার আগে যেকোন সময় মাহমুদুর রহমান মান্না তাঁর গুলশানের বাসা থেকে ভাইবারের মাধ্যমে অজ্ঞাক এক প্রবাসীর সঙ্গে কথা বলেন। মান্না ওই কথোপকথনে সেনাবাহিনীর সাবেক এবং বর্তমান সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার আগ্রহ দেখান। জবাবে অজ্ঞাতনামা ওই ব্যক্তি বলেন,‘আপনাকে জিওসি লেভেল থেকে কল করাব, না আরেকটু সিনিয়র।’ জবাবে মান্না বলেন,‘জুনিয়র-সিনিয়র তো একটা ব্যাপার আছে, তার চাইতে বড় কথা হল ইফেকটিভ যারা। এ্যান্ড হু আন্ডারস্ট্যান্ড হু নোজ, এরকম হলে ভাল। মানে যার সাথে শেয়ার করা যাবে। যিনি আমাকে এনলাইটেন করতে পারবেন। মে বি আমিও তাকে বুঝতে পারব, বুঝাতে পারব।’

অজ্ঞাতনামা প্রবাসী বিগত ওয়ান ইলেভেনের ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল বলে প্রকাশ করে। মাহমুদুর রহমামন মান্না সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করলে, অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তার (মান্না) সঙ্গে সেনাবাহিনীর সাবেক এবং বর্তমান লে. জেনারেলসহ এমনকি সেনাপ্রধানের সঙ্গে কথা বলার ব্যবস্থা করছেন বলে জানায়। অজ্ঞাতনামা প্রবাসী সেনাবাহিনীর ১৯ জন সিনিয়র কর্মকর্তার মধ্যে ১২ জনের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সম্পর্কের কথা জানায়। সে মান্নাকে বলে,‘ ইউ উইল রিসিভ এ কল বাই টুমরো টুয়েলভ।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কথোকথনে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে উস্কে দিয়ে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করা হয়।

মাহমুদুর রহমান মান্নাকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অজ্ঞাত প্রবাসীর নাম পরিচয় উদঘাটনের তদন্ত চলছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

আর আরো তথ্য জানার জন্য গভীর তদন্ত অব্যাহত আছে বলে প্রতিবেদনে জানান হয়েছে।

গুলশান থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম তাঁর অনুমোদন নোটে বলেছেন,‘ সাংবিধানিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে অবৈধ উপায়ে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের প্ররোচিত করার বিষয়ে আসামিদের( মান্না এবং অজ্ঞাত প্রবাসী) সঙ্গে কোন কোন গোষ্ঠী বা সংগঠন জড়িত এবং এধরণের কার্যকলাপের সহযোগী আসামি সনাক্ত করা এবং গ্রেপ্তার খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

36

২১ ঘণ্টা কোথায় ছিলেন মান্না?
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে আটকের ২১ ঘণ্টা পর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান। তবে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টা দিকে নাগরিক ঐক্যের এই আহ্বায়ককে থানায় নেওয়ার পরপরই গোয়েন্দা কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

মান্নার পরিবারের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার দাবী করা হয়, সোমবার গভীর রাতে তাকে সাদা পোশাকের পুলিশ বনানীর একটি বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। কিন্তু গতকাল সারাদিনই পুলিশের তরফ থেকে তাকে আটকের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়।

অবশ্য বুধবার সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশ একটি সংবাদ সম্মেলন করে বলছে, মঙ্গলবার মাঝরাতে ধানমন্ডির একটি রেস্তোরা থেকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। পরে গুলশান থানায় একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

কিন্তু এর প্রায় ২১ ঘণ্টা আগে মান্নাকে তুলে নেবার যে অভিযোগ তার পরিবার করছে, সেই ২১ঘণ্টা তিনি কোথায় ছিলেন, সেই প্রশ্নের জবাব এখনো পাওয়া যাচ্ছে না।

সংবাদ সম্মেলনে এই প্রশ্নটি তুললে পুলিশের মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম বলেন, সেটার জবাব আমরা দিতে পারবো না। রেকর্ড বলছে তাকে গত রাত বারোটায় আটক করা হয়েছে। এর আগের খবর জানিনা।

মনিরুল ইসলাম আরও বলেন, তার নিখোঁজ হবার ব্যাপারে তার পরিবারের তরফ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। সেটার তদন্ত করার পরই বলা যাবে তিনি কোথায় ছিলেন।

এদিকে, র‍্যাবের মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ খান বলেছেন, মাহমুদুর রহমান মান্নার বিরুদ্ধে গুলশান থানায় দণ্ডবিধির ১৩১ ধারায় একটি মামলা ছিল। সেই মামলার আওতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

দণ্ডবিধির ১৩১ ধারাটিতে বলা হয়েছে, বিদ্রোহে সাহায্য, প্ররোচনা বা কোন সৈন্য, নাবিক বা বৈমানিককে কর্তব্য হতে বিপথগামী করার চেষ্টা করা।

সূত্র: বিবিসি বাংলা



মন্তব্য চালু নেই