‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশ ধ্বংস করে’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন করি। বিএনপি জোট ক্ষমতায় গেলে দেশ ধ্বংস করে। তারা মানুষের কল্যাণ চায় না। শুধু মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করা। দেশের সম্পদ ধ্বংস করাই তাদের কাজ।

হরতাল-অবরোধের নামে তারা রেলের নতুন বগি-ইঞ্জিন জ্বালিয়ে, রেললাইন উৎপাটন করে রেলের কোটি কোটি টাকার ক্ষতি করেছে। তারা ক্ষমতায় থাকাকালে দেশের উন্নয়ন না করে জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাস সৃষ্টি করেছিল। মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছিল। বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়েছিল। আমরা পাচার হওয়া সেই অর্থ ফিরিয়ে এনেছি।

শনিবার বিকেল ৫টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের লাকসাম হতে চিনকি আস্তানা পর্যন্ত ডাবল রেললাইনে ট্রেন সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন, লাকসাম-আখাউড়া ৭১ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর ও চট্টগ্রাম স্টেশন ইয়ার্ড রিমডেলিং সমাপ্ত কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৯২ দিনে হরতাল অবরোধের নামে জ্বালাও-পোড়াও করে আর মানুষ পুড়িয়ে মেরে দেশের সম্পদ ধ্বংস করেছেন তিনি। এতে দেশের কি লাভ হয়েছে, তিনি কি পেয়েছেন? ব্যর্থ হয়ে তিনি আদালতেও হাজিরা দিলেন, বাসায়ও ফিরলেন। এতো মানুষ হত্যা আর সম্পদ ধ্বংসের জন্য তাকে জনগণের কাছে জবাব দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী রেলওয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরে বলেন, আমরা ক্ষমতায় এসে রেলকে আলাদা মন্ত্রণালয় করে দিয়েছি। রেলের উন্নয়নে হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছি। তারা ক্ষমতায় থাকাকালে রেলকে বন্ধ করে দিতে চেয়েছিল। তারা মেধাবী ও দক্ষ শ্রমিকদের গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের নামে ছাঁটাই করেছে। আমরা ক্ষমতায় এসে তা ঠেকিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের উদ্দেশে বলেন, বিএনপি নেত্রী রাস্তায় নামলে তাকে জিজ্ঞেস করবেন, তিনি কেন হরতাল-অবরোধ করে মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছেন।

প্রায় ৪০ মিনিট বক্তব্য শেষে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ওই প্রকল্পগুলো উদ্বোধনের ঘোষণা দেন।

লাকসাম রেলওয়ে জংশনে ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, পরিল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, স্থানীয় সংসদ সদস্য মোঃ তাজুল ইসলাম, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাপরিচালক মোঃ আমজাদ হোসেন, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার মোজাম্মেল হক, কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব ওমর ফারুক, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক হাসানুজ্জামান কল্লোল, পুলিশ সুপার টুটুল চক্রবর্তী, ডাবল লাইন প্রকল্পের জাইকা প্রতিনিধি তাকাসিয়া বাচ্চু, রেলওয়ে শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ লোকমান হোসেন, লাকসাম উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট ইউনুছ ভূইয়া ও ভাইস চেয়ারম্যান মহব্বত আলী।



মন্তব্য চালু নেই