ঝিলিক জামা পরে নায়ক দেবের কাছে যাওয়া হল না কুমিল্লার দুই কিশোরীর

সংবাদটি পূর্বের, শুধুমাত্র সচেতনতার স্বার্থে প্রকাশ করা হল ।

২২ ঘন্টা পর বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় দেব ও ঝিলিক ভক্ত ২ স্কুল ছাত্রী কুমিল্লার দেবিদ্বার মফিজ উদ্দিন আহমদ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেনীর লিরা(১২) ও সেতু (১২) ঝিলিক নামধারী পোষাক পরে ভারতের ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশে ফেরত আসল।

লিরা ও সেতু বুধবার রাত ১১টায় দেবিদ্বার থানায় সাংবাদিকদের জানায়, আমরা দুইজন ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ভারতের স্টার জলসা চ্যানেলে প্রচারিত ঝিলিক ও পাগলু টু ছবির নায়ক দেবের ভক্ত। আমাদের স্বপ্ন ছিল আমরা ঈদুল ফিতরের দিন ভারতের কলকাতায় যাওয়ার। আমরা পূর্ব থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারি কিভাবে ভারতে যেতে হয় এবং বাংলাদেশের টাকা ভারতের টাকায় পরিবর্তন করলে কত টাকা হয়। তাই লিরার কানের দুল স্থানীয় একটি জুয়েলার্সে ২০০০ বিক্রি করি। মঙ্গলবার সকালে স্কুলের নাম বলে আমরা দুই বান্ধবী প্রথমে ক্যান্টনমেন্ট যাওয়ার পর লোক মারফত জেনে কুমিল্লা শাসনগাছার উদ্দেশ্যে রওনা দেই। এরপর একজন চাচাকে বাংলাদেশের বর্ডারের কথা বললে তিনি একটি সিএনজিতে তুাল দেন। পথিমধ্যে সিএনজিটি নষ্ট হয়ে গেলে আরেক চাচা নবীর সাথে দেখা হলে বলি যে, আমাদেরতো পাসপোর্ট নাই, আমরা কিভাবে ভারতে যাব। তিনি আমাদেরকে বলেন, তোমরা কেন ভারতে যাবে? আমরা ভারতে ঘুরতে যাব শুনে নবী চাচা আমাদের বলেন, আমার শ্বশুর বাড়ি ভারতে আমিও যাব আমার সাথে চল। চাচা আমাদেরকে নিয়ে ভারতের ত্রিপুরা জেলার সোনামুড়ি থানার তামশাবাড়ির এমসিনগর তার শ্বশুর বাড়িতে নিয়ে। বিকেলে আমাদের বাংলাদেশের ১২০০ টাকা ভারতের টাকা করে দুইজনের জন্য ২টি ঝিলিক জামা কিনি। পরে কলকাতায় যাবার মত টাকা না থাকায় নবী চাচা আমাদের বলেন আমি আগামীকাল কুমিল্লায় যাব তোমরা আমার সাথে চলে যাবে বলে আমাদের বাড়ি মোবাইল নম্বর নিয়ে আমাদের পরিবারের লোকজনকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় তা আমরা জানাই।

পারিবারিক সূত্র জানায়, মোবাইল ফোনের লিরা ও সেতুর সাথে কথা বলার পর তাদের পরিবারের লোকজন কুমিল্লা সদরের পাঁচত্থবী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম এবং ভারতের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী সোনামুড়া ইউনিয়নের স্থানীয় চেয়্যারম্যানের ছোটভাই কমিশনার আবু তাহেরের মাধ্যমে বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ ভারতী-বাংলাসহ টিভি সিরিয়াল এবং মোবাইল ফোনকে দায়ী করেন। তিনি আরো জানান, সকালে দেবিদ্বার মফিজ উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় গিয়ে প্রধান শিক্ষিকা রাশেদা আক্তারকে বলেছি অত্র বিদ্যালয়ে সকল ছাত্রীসহ তাদের অভিভাবককে সতর্ক করে দেওয়ার জন্য ।

ব্যপারটিকে নিয়ে এলাকায় বেশ চঞ্চল্য তৈরি হয় সাথে একটি ব্যাপার বেশ পরিস্কার ভাবেই বুঝা যাচ্ছে, ভারতীয় সিরিয়াল গুলির আজগুবি কল্পকাহিনির কালো থাবা আমাদের কোনদিকে নিয়ে যাচ্ছে।

[ অপসংস্কৃতি ও আজগুবি ভারতীয় সিরিয়ালগুলি আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে সেটা ভাবা এবং সবাইকে সচেতন হওয়ার জন্য ২০১২ সালের সংবাদটি প্রকাশ করা হল। সূত্র ]



মন্তব্য চালু নেই