উখিয়া, কক্সবাজারের কিছু খবর

তালিকাভুক্ত শীর্ষ মানবপাচারকারী পুলিশ প্রহরায় পালিয়ে গেল উখিয়ায় শীর্ষ মানবপাচারকারী রেবি ম্যাডাম ফের গ্রেপ্তার

কক্সবাজারের উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের শীর্ষ মানবপাচারকারী রেজিয়া আক্তার ওরফে রেবি ম্যাডামকে ফের আটক করেছে ডিবি পুলিশ। গতকাল বুধবার বিকাল ৩ টায় দিকে জালিয়াপালং ইউনিয়নের সোনারপাড়াস্থ তার নিজ বাড়ী থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার বিকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ মানবপাচারকারী ফয়েজ আহমদ পুলিশ প্রহরায় নিরাপদে উপকূলীয় ছেপটখালী থেকে কক্সবাজারে পালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

কক্সবাজার ডিবি পুলিশের ওসি আবুল হোসেন বলেন, চি˝িত এ মানবপাচারকারীর বিরুদ্ধে কক্সবাজারের বিভিন্ন থানায় ৮টি মামলা রয়েছে। কয়েকটি মামলায় জামিনে থাকলেও অবশিষ্ট মামলায় পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। আটককৃত মানবপাচারকারী রেবি ম্যাডামকে ডিবি পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য প্রায় ২ মাস পূর্বে উক্ত মানবপাচারকারী রেবি ম্যাডাম কক্সবাজার শহর থেকে পুলিশের হাতে আটক হয়ে দীর্ঘদিন জেল হাজত বাস করার পর জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও সমূদ্র পথে মানবপাচার কাজ চালালে বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্রের প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে গতকাল ফের ডিবি পুলিশ তাকে আটক করে। অন্য দিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ মানবপাচারকারী উখিয়ার ছেপটখালী গ্রামের ফয়েজ আহমদকে পুলিশ হাতে পেয়েও গ্রেপ্তার না করে কৌশলে পুলিশ পাহারায় কক্সবাজারের পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে নিজ গ্রামের বাড়ী ছেপটখালী থেকে উখিয়ার ইনানী ফাঁড়ি পুলিশের সহায়তায় অন্যান্য মানবপাচারকারীদের মোটর সাইকেল স্কটে করে অন্য মানবপাচারকারী মনখালী মোঃ মুছার নেতৃত্বে কক্সবাজার পৌঁছে গেছে বলে জালিয়াপালং ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি কামাল উদ্দিন, উখিয়া যুবলীগ সভাপতি মুজিবুল হক আজাদসহ স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

ইনানী ফাঁড়ি পুলিশের আইসি এসআই আলা উদ্দিন বলেন, শীর্ষ মানবপাচারকারী ফয়েজ আহমদ এলাকায় অবস্থান করার খবর পাওয়ার পর একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে আটক করতে পারিনি। তবে ফয়েজ আহমদকে পালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে পুলিশের সহায়তার কথা অস্বীকার করেন। এদিকে শীর্ষ মানবপাচারকারী রেবি ম্যাডাম গ্রেপ্তার হলেও তার সহযোগীরা এখনো পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। প্রায় ৬০ জনের একটি পাচারকারী সিন্ডিকেট জালিয়াপালং ইউনিয়নের ৬টি গুরুত্বপূর্ণ পাচার পয়েন্ট নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।

তৎমধ্যে জালিয়াপালং ইউনিয়নের পরিষদের ইউপি মেম্বার জাহেদ, বেলাল মেম্বার, ফয়েজ আহমদ, আবুল কালাম, নূরুল কবির, রফিকুল হুদা, সোলতান মেম্বার, কালা জমির, যুবদল নেতা ছৈয়দ, মাহবুল আলম, বুলবুল আক্তার, রোস্তম আলী, মোসলেম উদ্দিন, থাইংখালী রহমতের বিল গ্রামের লুৎফুন্নাহার, সোনাইছড়ি গ্রামের ধয়া খাতুর ছেলে মীর আহমদসহ আরো অর্ধশতাধিক পাচারকারী আইন শৃংখলা বাহিনীর জালে আটকা না পড়ায় চোরাই পয়েন্ট দিয়ে মানবপাচার কাজ পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

উখিয়ায় গ্রাম পুলিশকে অপহরণ করে নির্যাতন :  ৫ ঘন্টা পর পুলিশী অভিযানে উদ্ধার

কক্সবাজারের উখিয়ায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা একজন গ্রাম পুলিশকে রাতের অন্ধকারে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে হাত-পা বেঁধে চরম নির্যাতন করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীর্ঘ ৫ ঘন্টা পর সন্ত্রাসীদের কবল থেকে উখিয়া থানা পুলিশ ওই গ্রাম পুলিশকে উদ্ধার করেছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড গ্রাম পুলিশ সাইফুল ইসলামকে দরগাহবিল গ্রাম থেকে সন্ত্রাসীরা অপহরণ করে।

বুধবার দুপুরে অপহৃত ও নির্যাতিত গ্রাম পুলিশ সাইফুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি উখিয়া থানা পুলিশ আমার ওয়ার্ড এলাকা থেকে নারী নির্যাতন, ডাকাতি সহ একাধিক মামলার বেশ কয়েকজন পলাতক আসামীকে আটক করেছিল। ওই সব মামলার পলাতক আসামী সন্ত্রাসী বেলাল বাহিনীর সশস্ত্র ক্যাডার মোঃ আবু (২৫), নূরুল আবছার (২৭) সহ সন্ত্রাসী বাহিনী তাদের পুলিশ আটক করার ব্যাপারে আমাকে নানা ভাবে দুষারোপ করে হুমকি দিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে বেলাল বাহিনীর সশস্ত্র ক্যাডার স্থানীয় আব্দুল গফুর (২৫), নূরুল আবছার (২৭), মোঃ আবু (২৫), বাবুল মিয়া (২১), মোঃ বাবুল (৩৫) আমাকে পশ্চিম দরগাহবিল থেকে অপহরণ করে বাবুল মিয়ার বাড়িতে আটকিয়ে রাখে। সেখানে আমার হাত-পা বেঁধে দীর্ঘক্ষণ মারধর ও নির্যাতন করে।

স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার মৌলভী ছৈয়দ আকবর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এলাকার গ্রাম পুলিশকে সন্ত্রাসীরা অপহরণ করে যে বাড়িতে রাখে সেখান থেকে রাত ১০ টার দিকে আমি উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। সন্ত্রাসীরা এক পর্যায়ে আমাকেও হুমকি দিতে থাকে। পরে আমি ঘটনাটি উখিয়া থানাকে অবহিত করলে উখিয়া থানার উপ-পরিদর্শক হাবিবুর রহমান পুলিশ ফোর্স নিয়ে রাত প্রায় ১২ টার দিকে অপহৃত গ্রাম পুলিশ সাইফুলকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম খান বলেন, ঘটনা যেভাবে রটানো হয়েছে ঠিক সেভাবে নয়। তবে এলাকার লোকজনের সাথে পূর্ব শত্র“তার জের থাকায় উক্ত গ্রাম পুলিশের সাথে সামান্য ঘটনা ঘটে। সংবাদ পেয়ে উখিয়া থানা পুলিশ নিরাপদে গ্রাম পুলিশকে উদ্ধার করে।

 

 

হাইকোর্টের আদেশ উপেক্ষিত, শিক্ষার্থী অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ
উখিয়ায় এসএসসিতে আদায়কৃত অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেয়নি কোন প্রতিষ্ঠান
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২০১৫ সালের এসএসসি’র ফরম পূরণের সময় আদায়কৃত অতিরিক্ত টাকা শিক্ষার্থীদের নিকট ফেরত দেয়ার হাইকোর্টের আদেশ থাকলেও নির্ধারিত তারিখের মধ্যে ওই টাকা ফেরত দেয়নি কক্সবাজারের উখিয়ার কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। উচ্চ আদালতের আদেশ, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ থাকা সত্বেও অতিরিক্ত আদায়কৃত টাকা ফেরত না পাওয়া শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসব অতিরিক্ত অর্থ ফেরত চাওয়ায় উপরোন্তু ছাত্রছাত্রীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

৬ জানুয়ারী হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ঢাকার ১২টি অভিযুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ সারাদেশে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবারের মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীদের নিকট থেকে ফরম পূরণ বাবদ শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেছে তা ২০ জানুয়ারীর মধ্যে শিক্ষার্থীদের ফেরত দেয়ার আদেশ দিয়েছিলেন। অন্যথায় ওইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি বাতিলসহ ওই কমিটির সদস্যরা পরবর্তী ৩ বছরের জন্য পরিচালনা কমিটির নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না মর্মে হাইকোর্ট দিকনির্দেশনা দিয়ে আদেশ, তৎপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পরিপত্র জারি করেছিল।

জানা গেছে, এবারে উখিয়ার ১৩টি মাধ্যমিক ও সমমানের ৫টি মাদ্রাসার প্রায় ২৭শ’ ছাত্রছাত্রী ২০১৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ফরম পূরণ করেছে। গড়ে প্রতিটি ছাত্রছাত্রীদের নিকট থেকে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা আদায় করেছে সংশি¬ষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। গত ২০ জানুয়ারীর মধ্যে অতিরিক্ত আদায়কৃত টাকা ফেরত দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি হাইকোর্টের আদেশ থাকা সত্ত্বেও এ উখিয়ার কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত আদায়কৃত অর্থ ফেরত দেয়নি।

এব্যাপারে কয়েকজন এসএসসি পরীক্ষার্থীদের সাথে আলাপ করা হলে নাম প্রকাশ না করার সত্ত্বে ওই পরীক্ষার্থীদের নিকট থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা আদায়ের কথা স্বীকার করে জানান, অতিরিক্ত টাকা ফেরত নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে প্রবেশপত্র আটকিয়ে রাখা সহ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি প্রদর্শন করেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চেয়ে উখিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হোসাইন সিরাজীর মুঠোফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি। ওই বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারি শিক্ষক মাস্টার সাইফুল ইসলাম বলেন, তারা প্রতিটি বিষয়ের বিপরীতে ২শ’ টাকা করে নিয়েছেন। যার জন্য তাদেরকে অতিরিক্ত ক্লাস করতে হচ্ছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রায়হানুল ইসলাম মিয়া এব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে মুঠোফোনের সংযোগ কেটে দেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, এসএসসি ফরম পূরণকালে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ব্যাপারে কোন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেনি। তিনি বলেন, এ ধরনের কোন অভিযোগ আসলে তা সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



মন্তব্য চালু নেই