কালবৈশাখী ঝড়ে চার জেলায় নিহত ১৬
কালবৈশাখী ঝড়ে রোববার রাতে নেত্রকোনার চার উপজেলায় ১০ জন, সুনামগঞ্জের ধরমপাশায় চার জন এবং সিলেট ও নওগাঁয় একজন করে নিহত হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট এলাকার জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এ মৃত্যুর বিষয়গুলো নিশ্চিত করেছেন। আবহাওয়া অধিদপ্তরের দায়িত্বরত কর্মকর্তা আব্দুর রহমান জানান, রোববার রাতে দেশের বিভিন্ন স্থনে কালবৈশাখী ঝড় হয়।
নেত্রকোনা: রাত সাড়ে ১০টা থেকে প্রায় ১২টা পর্যন্ত নেত্রকোনা সদর, কলমাকান্দা, বারহাট্টা ও মোহনগঞ্জ উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ে ঘর চাপায় এক পরিবারের চার জনসহ ১০ জন নিহত ও অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতলসহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কলমাকান্দা থানার ওসি আব্দুল করিম জানান, এ উপজেলায় কালবৈশাথী নিহতরা হলেন বিষমপুর গ্রামের আফরোজা (৩০), তার তিন ছেলে পারভেজ (১০), রানা (৭) ও রনি (২), নয়ননগর গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র মামুন, নাজিরপুরের আনন্দ বাজার গ্রামের ডেপুটি বেগম (৫৫) এবং রাণীগাও গ্রামের আহলাদেন্নেছা (৪৫)। এছাড়া এক হাজারের বেশি কাঁচা ও আথাপাকা বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। কয়েক হাজার গাছপালা ভেঙ্গে গেছে বলে তিনি জানান।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তারী কাদেরী জানান, বরনী চকপাড়া গ্রামের ফজর আলী (৭২) ঘরচাপা পড়ে মারা গেছেণ। কালিয়ার গাবরাগাতি ইউনিয়নের পুরো এলাকা লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। এখানে অন্তত পাচ শতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের উদ্বৃতি দিয়ে মোস্তারী কাদেরী জানান, তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসন নিহতদের পরিবারদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা ও ১০ কেজি করে চাল দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে, তাদেরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা দেয়া হবে।
বারহাট্টা থানার ওসি সালেমুজ্জামান জানান, ঝড়ের কবলে পড়ে গাবারকান্দা গ্রামের আব্দুস ছোবহানের ছেলে এমদাদ (১৪) মারা গেছে। এছাড়াও অন্তত ১০টি গ্রমের দুই শতাধিক বাড়িঘর ছাড়াও বহু গাছপালা ভেঙ্গে গেছে।
মোহনগঞ্জ থানার ওসি রমিজুল হক জানান, উপজেলার হরিপুর গ্রামের জয়নাল মিয়ার মেয়ে সুমা আক্তারের (৯) মৃত্যু হয় ঘর বিধ্বস্ত হয়ে।
উপজেলার ৭টি গ্রামে অর্ধশতেরও বেশি কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয় বলে তিনি জানান।
সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. ইয়ামিন চৌধুরী বলেন, রাতে কালবৈশাখী ঝড়ে ধরমপাশা উপজেলায় চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- উপজেলার সুকাইরাজাপুর ইউনিয়নের নয়াহাটি গ্রামের কাচুমিয়া (৩৫), একই ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের শামসুমিয়া (৬৫), দক্ষিণ সুকাইরাজাপুর ইউনিয়নের বড়কান্দা গ্রামের বেবী আক্তার (৮) এবং দক্ষিণ বংশীকুণ্ডা ইউনিয়নের দাকিয়া গ্রামের দুদু মিয়া (৪০)।
সিলেট: সিলেটের কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক মোহাম্মদ জাকারিয়া জানান, ঝড়ে উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ ইউনিয়নের গোরকপুর গ্রামের প্রয়াত ইয়াকুব আলীর স্ত্রী আলতাফুন্নেছা (৫৫) মারা গেছেন। এছাড়া অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলেও তিনি জানান।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক অমিত হাসান জানান, রাত ১২টা ৪৮ মিনিট থেকে ১২টা ৫২ মিনিট পর্যন্ত দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে বয়ে যাওয়া ঝড়ের গতিবেগ ছিলো ঘন্টায় ৮২ কিলোমিটার।
সিলেট জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক কর্মকর্তা নৃকেশ রায় জানান, এখনো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করা যায়নি। বিভিন্ন উপজেলায় বিদুৎ সরবরাহ না থাকায় তথ্য আসতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে বেশকিছু বাড়িঘর, দোকানপাটের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
নওগাঁ: নওগাঁ সদর থানার ওসি জাকিরুল ইসলাম জানান, রাত ১১টার দিকে বয়ে যাওয়া এ ঝড়ে শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন চকবিরাম এলাকায় ঘরের ছাউনি পড়ে আবু ইসার (১৮) মৃত্যু হয়। আবু ইসা জেলা শহরের চকবিরাম মহল্লার শাফিকুল ইসলামের ছেলে।














মন্তব্য চালু নেই