আ.লীগের ইউপি চেয়ারম্যানকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা

যশোরের মণিরামপুরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ প্রান্তীক চাষিদের ২শ বিঘা জমি দখলের অভিযোগে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যানকে ধরিয়ে দিতে ২৫ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন জেলা পুলিশ সুপার।

শনিবার দুপুরে যশোরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ওই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় তারা উপজেলার ঝাঁপা ইউনিয়নের মোবারকপুর মৌজার ওই জমি পরিদর্শন শেষে সোমবার ওই জমি সমান করে মালিকদের মাঝে বুঝিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেন।

এলাকাবাসী জানায়, গত ২২ মার্চ প্রথম ধাপের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে মণিরামপুরের ঝাঁপা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ প্রার্থী শামছুল হক মন্টু। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর মন্টু ও তার ছোট ভাই সাইফুল এবং টুটুলের নেতৃত্বে নন্টু, কামরুল, মাহবুব মেম্বর, রবিউল, মমিন, শরিফুল, শাহাদৎ, আব্দুর হামিদসহ ২৫/৩০ জনের একটি প্রভাবশালী চক্র গড়ে উঠেছে এলাকায়।

এই চক্রটি গত ১৩ মে বোমা, পিস্তল, রামদাসহ দেশিয় অস্ত্রসহ মাটিকাটা ২টি স্কেভেটর মেশিন নিয়ে মোবারকপুর মৌজায় জোর করে ২শ বিঘা ফসলি জমিতে ঘের কাটা শুরু করে। এসময় ওইসব জমির মালিক সুনীল, চিত্র হাজরা, ভগিরথ, মুকুন্দ, রফিকুল, মিলনসহ অনেকে বাধা দিতে গেলে তাদেরকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়া হয়।

পরে জমির মালিকদের অনুমতি ছাড়াই জমি দখল করে ঘের খননের অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান শামছুল হক মন্টুসহ ৭-৮জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন অরুণ হাজরা নামের এক জমির মালিক।

জমি দখল করে ঘের নির্মাণের এই খবর গণমাধ্যমে উঠে আসলে শনিবার দুপুরে ঘটনাস্থলে যান যশোরের জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীর ও পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা ক্ষতিগ্রস্ত জমি মালিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় জেলা প্রশাসক জমি খননের বিষয়টির সত্যতা পেয়ে আগামী সোমবার ওই জমি সমান করে মালিকদের বুঝিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেন।

একইসঙ্গে জমি দখলচেষ্টা মামলার আসামি ইউপি চেয়ারম্যান শামছুল হক মন্টুকে ধরিয়ে দিতে ২৫ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেন পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান। এসময় তাদের সঙ্গে জেলা, উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



মন্তব্য চালু নেই