মেইন ম্যেনু

‘৯৫ ভাগ ভোট’ নিয়ে প্রতিরোধ গড়বেন খালেদা

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ যদি ৫ ভাগ ভোট পেয়ে থাকে তাহলে আমরা পেয়েছি ৯৫ ভাগ ভোট।’

ঈদের পর সেই ৯৫ ভাগকে আন্দোলনে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঈদের পর অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে। বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত, আমরা সেভাবেই এগিয়ে যাবো।’

সোমবার রাজধানীর হোটেল পূর্বাণীতে রাজনীতিক ও বিশিষ্ট নাগরিকদের সম্মানে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি জাগপার ইফতার পার্টিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত ৭ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হবে না এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের ঘৃণ্যতম হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হয়নি। তারা করবেও না। আসল ক্রিমিনালদের ধরাও হয়নি। যাতে তাদের কাছ থেকে কোনো সত্যি কথা বের না হয়। যাদের ধরেছে তাদের জামাই আদরে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থাকা মন্ত্রী কোনোভাবেই এর দায় এড়াতে পারেন না।’ অবিলম্বে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সৃষ্টির জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপি চেয়ারপারসন।

কারো নাম উল্লেখ না করলেও মন্ত্রীদের সমালোচনা করতে গিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর প্রতি ইঙ্গিত করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘দোসররা যারা অতীতে মানুষ খুন করেছে। এখনও তারা এ ধরনের হুমকি দিচ্ছে।’

২০ দলীয় জোটনেত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকারের অধীনে এই দেশে কোনো ধর্মের মানুষ নিরাপদ নয়।’

সংবাদপত্র নিয়ে যে আইন করার কথা শোনা যাচ্ছে তার কঠোর সমালোচনা করে বিএনপি প্রধান বলেন, ‘এমনিতেও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নেই। আবারও সংবাদপত্রে কালাকানুন জারি করতে চাইছে।’

গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর বিজয় স্মরণী এলাকা থেকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি শাহেদ চৌধুরীকে অপহরণ চেষ্টার ঘটনায় র‌্যাব-পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থাকে দায়ী করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

বেগম খালেদা জিয়া তার বক্তব্যে আরো বলেন, ‘দেশ আজ মহাবিপদে ও সঙ্কটে। দেশে নির্বাচিত কোনো বৈধ সরকার নেই। অবৈধ ও অনির্বাচিত সরকার জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে। তারা লুটাপাট করছে। জনগণের উন্নয়নে তাদের কোনো নজর নেই। এর ফলে দেশে প্রতিদিন বেকারত্ব বাড়ছে। মানুষ কর্মহীন হচ্ছে।’

শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নিয়ে সরকারের প্রতি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা থাকতে পারে না। সেখানে থাকে আওয়ামী লীগের সন্ত্রীরা। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অস্ত্রাগারে পরিনত করা হয়েছে।’

আওয়ামী লীগের নেতারা মিথ্যাচার করছে এমন দাবি করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘বড় বড় কথা ও মিথ্যাচার বন্ধ করুন এবং মানুষের দাবিগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিন। দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনুন।’

জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান ছাড়াও ইফতার মাহফিলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ডা. রেদোয়ান উল্লাহ শাহেদী, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) একাংশের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ডা. টি আই এম ফজলে রাব্বি চৌধুরী, মহাসচিব মোস্তফা জামান হায়দার, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, খেলাফত মজলিশের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এমএম আমিনুর রহমান, এনপিপির চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু, মহাসচিব ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি, মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূইয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির নেতাদের মধ্যে ছিলেন- দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন প্রমুখ।

ইফতার মাহফিলে জাগপার নেতাদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন- দলের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, সহ-সভাপতি অধ্যাপক রেহেনা প্রধান, ব্যারিস্টার তাসমীয়া প্রধান প্রমুখ।






মন্তব্য চালু নেই