মেইন ম্যেনু

৬২ বছর পর বিজয়ের মাসে পাটগ্রামের সেই ধবলগুড়িবাসী পেল শহীদ মিনার

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার সেই বিচ্ছিন্ন লোকালয় ধবলগুড়িবাসীকে বিজয়ের ৬২ বছর পর হলেও একটি শহীদ মিনার উপহার দিয়েছে আওয়ামীলীগের এক তরুন নেতা। আওয়ামীলীগের এ তরুন নেতা হলেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক প্রতিমন্ত্রী প্রাথমিক মোতাহার হোসেনের ছেলে হাতীবান্ধা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মাহামুদুল হাসান সোহগ। তিনি এ শহীদ মিনারটি নির্মাণ করে দিয়ে ওই এলাকার মানুষের মাঝে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন।
এলাকাবাসী জানায়, কবে জন্ম হয়েছে ধবলগুড়ি গ্রামটি। ওই এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিরাও স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারেনি। ধরলা নদীটি কবে কিভ াবে ওই গ্রামকে পাটগ্রাম উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে, তারও কোনো তথ্য জানা যায়নি। তবে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ও ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যাঁরা অংশ নিয়েছিলেন, তাদের অনেকেই এখানে মৃত্যু বরণ করেছে। এখনও কেউ কেউ বেঁচে আছেন। তাদের মধ্যে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ। তিনি বলেন, আমরাই মাহামুদুল হাসান সোহাগের কাছে একটি শহীদ মিনার নির্মাণের দাবি জানাই। তারই প্রেক্ষিতে শহীদ মিনারটি স্কুলে নির্মাণ করে দেন তিনি। এখন এই গ্রামের মানুষও শহীদ মিনারে ভাষা শহীদসহ মুক্তিযুদ্ধের অর্জন বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসে শ্রদ্ধা জানাতে পারবে তরুন প্রজন্ম। শহীদ মিনার নির্মাণ করে ধবলগুড়িবাসীর স্মৃতির সাথে জড়িয়ে থাকল সোহাগ। পিছিয়ে পড়া এলাকা ধবলগুড়িতে শহীদ মিনার নির্মাণ হওয়ায় খুশিতে আত্মহারা ছাত্র-ছাত্রীসহ ছোট-বড় সবশ্রেণি পেশার মানুষ। ছাত্রছাত্রীরা জানায়, গত সোমবার নবনির্মিত শহীদ মিনারটি সর্বস্তরের মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
ধবলগুড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজার রহমান বলেন, একটি পশ্চাৎপদ অজোপাড়া গাঁ ধবলগুড়ি। ধরলা নদীর সৃষ্টির পর থেকেই গ্রামটি মুল ভূ-খন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। তিনদিকে ভারত বেষ্ঠিত গ্রামটির প্রায় ১৬/১৭ হাজার মানুষ বসবাস করে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বঞ্চিত এই এলাকার মানুষ লেখাপড়ার প্রতি তেমনটা গুরুত্ব দিত না। স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তির উদ্যোগে ধবলগুড়ি উচ্চ বিদ্যালয় গড়ে ওঠে। ধরলা নদীর উপর সেতু নির্মিত হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছে। এখন রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছে। শহীদ মিনার ছিল না। সেটিও নির্মাণ হয়ে গেছে। ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি এলাকার মানুষও ভাষা শহীদসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী লোকজন বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবস পালনে এই শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাবে। একটি জাতির চেতনার প্রতীক শহীদ মিনারটি নির্মাণ করে দিয়ে মাহামুদুল হাসান সোহাগ এই গ্রামের ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে থাকবেন বলে দাবি তার।
ধবলগুড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী উম্মে সুমাইয়া মেমোরি, কিছমাতুল আম্বিয়া, এসএসসি পরীক্ষার্থী রাসেল হোসেন ও নবম শ্রেণির ছাত্র রাশেদ হোসাইন আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, এখন থেকে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি এলাকার তরুনপ্রজন্ম ভাষা শহীদ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে শহীদ মিনার শ্রদ্ধা জানাবে। এটি এলাকার চেতনার প্রতীক হয়ে থাকবে।
মাহামুদুল হাসান সোহাগ বলেন, ‘ভারত থেকে ধেয়ে আসা ধরলা নদী পাটগ্রাম উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নবাসীকে দ্বি-খন্ডিত করে রাখে। ধরলা নদীর নামেই গড়ে ওঠে ধবলগুড়ি গ্রাম। সেই ধবলগুড়িবাসী যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সবকিছু থেকেই বিচ্ছিন্ন ছিল নদীর কারণে। মহাজোট সরকার ধবলগুড়িবাসীর চলাচলের জন্য ধরলা সেতু নির্মাণ করে দেয়। চলাচলের জন্য পাকারাস্তাও নির্মাণ করছে। বিদ্যুৎ সংযোগও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ওই গ্রামে কোনো শহীদ মিনার ছিল না। স্থানীয় অধিবাসীদের দাবির প্রেক্ষিতেই ধবলগুড়িবাসীর জন্য ধবলগুড়ি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শহীদ মিনারটি নিজ উদ্যোগেই নির্মাণ করে দিয়েছি। যেখানে বাঙালি জাতির চেতনার স্বারকবহন করছে।






মন্তব্য চালু নেই