মেইন ম্যেনু

২ লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকার বাজেট পেশ ।। জিডিপি ৭.৩%,

২০১৪-১৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৩ শতাংশ ধরে সংসদে বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

প্রস্তাবিত এ বাজেটের আকার ২ লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা। বাজেট ঘাটতি থাকছে ৬৭ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা যা জিডিপির ৫ শতাংশ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ৩টায় সংসদ অধিবেশনে বাজেট উপস্থাপন শুরু করেছেন অর্থমন্ত্রী। এর আগে সংসদ ভবনে এক মন্ত্রিসভার বৈঠকে তা অনুমোদিত হয়।

দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর প্রথম বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বেসরকারি বিনিয়োগ পরিস্থিতি উন্নতির চ্যালেঞ্জ গুরুত্ব পাচ্ছে বলে আগেই জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী।

নতুন বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮০ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা।

উল্লেখ্য, ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেটে গৃহীত জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ২ শতাংশ নির্ধারণ করা হলেও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তা কমিয়ে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়।

## একনজরে বাজেট

মোট রাজস্ব আয়
১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা যা মোট জিডিপির ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ। যা ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে ছিল ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা। এনবিআর নিজস্ব আওতায় কর আদায় করবে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭২০ কোটি টাকা। এনবিআর বহির্ভূত কর ৫ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা। কর ব্যতীত প্রাপ্তি ২৭ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা।

অনুন্নয়ন রাজস্ব ব্যয় ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৪১ কোটি টাকা যা জিডিপির ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ, উন্নয়ন ব্যয় ৮৬ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা যা মূল জিডিপির ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ৮০ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা। অন্যান্য ব্যায় ৩৫ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা।

তবে আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য বজায় রাখতে ঘাটতির পরিমাণ জিডিপির ৫ শতাংশের মধ্যেই রাখা হচ্ছে। নতুন অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি থাকবে ৬৭ হাজার ৫৫২ কোটি। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পরামর্শে ঘাটতির পরিমাণ জিডিপির ৫ শতাংশের মধ্যে রাখা হয়েছে।

বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ করা তা মোট জিডিপির পরিমাণ দাঁড়াবে ১ দশমিক ৮ শতাংশ অথাৎ ২৪ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৪৩ হাজার ২৭৭ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে যা জিডিপির ৩ দশমিক ২ শতাংশ। এর মধ্যে ব্যাংকিং উৎস থেকে ৩২ হাজার ২২১ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে যা মোট জিডিপির ২ দশমিক ৩ শতাংশ।

## খাতওয়ারি বাজেট
সামাজিক অবকাঠামো খাত ৬৩ হাজার ৩৬ কোটি টাক। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ১৫ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা, প্রথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ১৩ হাজার ৬৭৩ কোটি টাকা। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ১১ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা। অন্যান্য খাতে বরাদ্ধ রাখা হয়েছে ১৩ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা।

খাদ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতের খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ পেয়েছে ১ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ৭ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা।

ভৌত অবকাঠামো খাতে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭৫ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা। কৃষি মন্ত্রণালয়ে ১২ হাজার ৩৯০ কোটি, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ৩ হাজার ৬১৯ কোটি টাকা, স্থানীয় সরকার বিভাগ ১৫ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকাসহ অন্যান্য খাতে ৫ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ১১ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা, যোগাযোগ অবকাঠামোর মধ্যে সড়ক বিভাগ ৬ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা, রেলপথ মন্ত্রণালয় ৬ হাজার ৩৫৯ কোটি টাকা, সেতু বিভাগ ৮ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা, অন্যান্য খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ হাজার ১৮২ কোটি টাকা।

এছাড়া অন্যান্য সেবা খাতে ৪ হাজার ৪৭ কোটি টাকা, সাধারণ সেবা খাতে ৫৯ হাজার ৫৮ কোটি টাকা, জনশৃংখলা ও নিরাপত্তায় ১২ হাজার ৫৫৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সুদ পরিশোধ করা হবে ৩১ হাজার ৪৩ কোটি টাকা, পিপিপি, ভর্তুকি ও দায় ৮ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা, নিট ঋণ দান ও অন্যান্য ব্যয় ১৩ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকা।

সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, ‘আপনাদের জানা আছে, ইতোমধ্যে আমরা রাজস্ব খাতে আইনগত, পদ্ধতিগত, কাঠামোগত ও জনশক্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। আগামী বাজেটে চলমান এসব সংস্কারের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ কার্যক্রমকে জোরদার করার প্রয়াস অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি অব্যাহত থাকবে ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে রাজস্ব খাতের পরিসর বৃদ্ধির প্রচষ্টা। এখানে বলে রাখা ভালো যে, বাজেটে প্রণয়নে যেসব তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলো ১৯৯৫-৯৬ সালের ভিত্তিমূল্যের ওপর সাজানো। যদিও ২০০৫-০৬ সালের ভিত্তিমূল্যে বিবিএস (পরিসংখ্যান বিভাগ) ইতোমধ্যে সব তথ্যকে নতুনভাবে সাজিয়েছে। বাজেট প্রণয়নের কাজ আসলে প্রায় ৬ মাস আগে শুরু হয় এবং সে জন্য এখানে নতুন ভিত্তিমূলে প্রদত্ত তথ্য-উপাত্ত গ্রহণ করা যায়নি। শুধুমাত্র সারণি-৪ ২০১৩-১৪ অর্থবছরের সাময়িক হিসাব ২০০৫-০৬ ভিত্তিমূল্যে উপস্থাপন করা হয়েছে যেহেতু বিবিএস এখনও তা পূর্ববর্তী ভিত্তিমূল দিতে পারেনি।’






মন্তব্য চালু নেই