মেইন ম্যেনু

২ লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকার বাজেট পাস

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বাজেটে মোট তিন লাখ ৮২ হাজার ৩৪০ কোটি এক লাখ ২১ হাজার টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দিয়ে পাস করা হলো নির্দিষ্টকরণ বিল-২০১৪।

সংসদে গৃহিত এই অর্থের মাধ্যমে ২০১৫ সালে ৩০ জুন সমাপ্য অর্থবছরের ব্যয় নির্বাহ করা হবে। বিলটি পাসের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পাস হলো।

এ ব্যয়ের মধ্যে প্রকৃত বাজেট হলো ২ লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা, যা গত ৫ জুন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছিলেন।

রোববার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে দশম জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে এই বিল পাস করা হয়।

এই ব্যয় অনুমোদনের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা জাতীয় সংসদে মোট ৫৬টি মঞ্জুরি দাবি উত্থাপন করেন। এসব মঞ্জুরি দাবির বিপরীতে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের মধ্যে ছয় সংসদ সদস্য মোট ২৪৯টি ছাঁটাই প্রস্তাব আনেন।

ছাঁটাই প্রস্তাব আনা সংসদ সদস্যরা হলেন হাজী মো. সেলিম, মো. শওকত চৌধুরী, মো. রুস্তম আলী ফরাজী, তাহজীব আলম সিদ্দিকী, মোহাম্মদ নোমান এবং নূরুল ইসলাম মিলন। এসব প্রস্তাবের মধ্যে নীতি অনুমোদন ছাঁটাই, মিতব্যয় ছাঁটাই ও প্রতীকী ছাঁটাই রয়েছে। এসব ছাঁটাই প্রস্তাব নিষ্পত্তি শেষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ১টা ১৪ মিনিটে নির্দিষ্টকরণ বিল ২০১৪ পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করেন। বিলের দফাগুলি সংসদে গৃহীত হওয়ার পর বেলা ১টা ২০ মিনিটে নির্দিষ্টকরণ বিল কণ্ঠভোটে সংসদে পাস হয়। এই নির্দিষ্টকরণ বিলই ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেট।
যদিও নির্দিষ্টকরণ বিলে তিন লাখ ৮২ হাজার ৩৪০ কোটি এক লাখ ২১ হাজার টাকা ব্যয়ের অনুমোদন করেছে সংসদ। সংসদে গৃহিত এই অর্থ হিসাববিজ্ঞানের তত্ত্বানুযায়ী গ্রস বাজেট, যা পুরোপুরি ব্যয় হয় না। শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী বিছু ব্যয় বাজেট বরাদ্দ দেখাতে হয়। যা পরে আয় দেখিয়ে বাজেটের ভারসাম্য রক্ষা করা হয়। প্রকৃত অর্থে আগামী অর্থবছরের মূল বাজেট হলো দুই লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা। এই টাকাই আগামী সারা অর্থবছরজুড়ে সরকারের রাজস্ব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যয় করা হবে।

সংসদ কর্তৃক গৃহীত ৩ লাখ ৮২ হাজার ৩৪০ কোটি এক লাখ ২১ হাজার টাকার মধ্যে সংযুক্ত তহবিলের ওপর দায় হচ্ছে আয় এক লাখ ৫১ হাজার ৯২২ কোটি ২৭ হাজার টাকা, যা সংসদে অনুমোদনের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। রাষ্ট্রপতি তার ক্ষমতা বলে সরাসরি এই অর্থ ব্যয়ের অনুমোদন দিতে পারেন। অবশিষ্ট দুই লাখ ৩০ হাজার ৪১৭ কোটি ১০ লাখ ৯৪ হাজার টাকা হচ্ছে সংসদে ভোটে গৃহীত ব্যয়। এই অর্থই ৫৬টি মঞ্জুরি দাবির মধ্য দিয়ে সংসদে গৃহীত হয়েছে।

সরকার ও বিরোধী দলের হুইপের মধ্যে সমঝোতা অনুযায়ী মোট ৫৬টি মঞ্জুরি দাবির মধ্যে সাতটি মঞ্জুরি দাবি আলোচনার সিদ্ধান্ত হয়। এ দাবিগুলো হলো- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অর্থবিভাগ, আইন ও বিচার বিভাগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পররাষ্ট্র ও যোগাযোগ। এসব মঞ্জুরি দাবির ওপর বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সদস্যরা তাদের আনীত ছাঁটাইয়ের প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। যদিও আলোচনা শেষে এ ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।

নির্দিষ্টকরণ বিল পাস
নতুন ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেট ব্যয়ের বাইরে সরকারের বিভিন্ন ধরনের সংযুক্ত দায় মিলিয়ে মোট তিন লাখ ৮২ হাজার ৩৪০ কোটি এক লাখ ২১ হাজার টাকার নির্দিষ্টকরণ বিল জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে। এর মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে গৃহীত অর্থের পরিমাণ দুই লাখ ৩০ হাজার ৪১৭ কোটি ১০ লাখ ৯৪ হাজার টাকা এবং সংযুক্ত তহবিলের ওপর দায় এক লাখ ৫১ হাজার ৯২২ কোটি ৯০ লাখ ২৭ হাজার টাকা।

সংযুক্ত তহবিলের দায়ের মধ্যে ট্রেজারি বিলের দায় পরিশোধ, হাইকোর্টে বিচারপতি ও মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের বেতন ইত্যাদি দায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

খাতওয়ারি বরাদ্দের পূর্ণাঙ্গ তালিকা
জাতীয় সংসদ খাতে ২২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় খাতে ৭৬২ কোটি ৪৩ লাখ ৩৪ হাজার টাকা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ খাতে অনধিক ৪৩ কোটি পাঁচ লাখ টাকা, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় খাতে ৫১৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় খাতে এক হাজার ২৯৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা, অর্থবিভাগ খাতে ৪৪ হাজার ৫১৭ কোটি ৫১ লাখ ২০ হাজার টাকা, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ খাতে এক হাজার ৬৯৪ কোটি ২০ লাখ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ খাতে ৭৭২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ খাতে ১৮৪ কোটি ৬২ লাখ ৫৯ হাজার টাকা, পরিকল্পনা বিভাগ খাতে এক হাজার ৬২৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ খাতে ১২৩ কোটি ৪১ লাখ ১৭ হাজার টাকা, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ খাতে ৩৮১ কোটি ১৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয় খাতে ২৪১ কোটি ৭০ লাখ টাকা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খাতে ৮৩৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় খাতে ১৬ হাজার ৪৯১ কোটি ৭৬ লাখ ২২ হাজার টাকা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ খাতে ২১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, আইন ও বিচার বিভাগ খাতে এক হাজার ১০ কোটি টাকা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খাতে ১১ হাজার ৩৬৯ কোটি ৬৮ লাখ ৬২ হাজার টাকা, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ খাতে ২২ কোটি ১৬ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় খাতে ১৩ হাজার ৬৭৬ কোটি ৫২ লাখ ৭০ হাজার টাকা, শিক্ষা মন্ত্রণালয় খাতে ১৫ হাজার ৫৪৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় খাতে দুই হাজার ৫২৭ কোটি ৭২ লাখ টাকা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় খাতে ১১ হাজার ১৭৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় খাতে এক হাজার ২৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় খাতে দুই হাজার ৯০৪ কোটি ৬০ লাখ ৪৮ হাজার টাকা, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় খাতে এক হাজার ৫৮০ কোটি ৬৪ লাখ ৩৭ হাজার টাকা, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় খাতে ১৪৭ কোটি ৯৫ লাখ ৮৮ হাজার টাকা, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় খাতে দুই হাজার ৫৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, তথ্য মন্ত্রণালয় খাতে ৫৯২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় খাতে ২৫৭ কোটি ৯৩ লাখ, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় খাতে ৩৪৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় খাতে ৭৯৫ কোটি টাকা, স্থানীয় সরকার বিভাগ খাতে ১৫ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়।

পল্লীউন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ খাতে এক হাজার ৫১৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, শিল্প মন্ত্রণালয় খাতে এক হাজার ৭৩৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় খাতে ৪৫৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ খাতে দুই হাজার ২৫৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা, কৃষি মন্ত্রণালয় খাতে ১২ হাজার ৩৯৬ কোটি ১০ লাখ টাকা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় খাতে এক হাজার ৩৪৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় খাতে ৯১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, ভূমি মন্ত্রণালয় খাতে ৮৩৪ কোটি ২৫ লাখ ৩ হাজার টাকা, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় খাতে তিন হাজার ৬১৯ কোটি টাকা, খাদ্য মন্ত্রণালয় খাতে ১১ হাজার ১৪৭ কোটি নয় লাখ ৫৪ হাজার টাকা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় খাতে সাত হাজার ২৮৬ কোটি ৮৮ লাখ ১৮ হাজার টাকা, সড়ক বিভাগ খাতে ছয় হাজার ৮৬৪ কোটি আট লাখ টাকা, রেলপথ মন্ত্রণালয় খাতে ছয় হাজার ৪৬৩ কোটি ১১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় খাতে এক হাজার ২২ কোটি আট লাখ ৪৮ হাজার টাকা, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় খাতে ১৫৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় খাতে এক হাজার ২৯২ কোটি ১৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

অন্যান্য খাতের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় খাতে ৭৩৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা, বিদ্যুৎ বিভাগ খাতে নয় হাজার ২৮৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা, সুপ্রিমকোর্ট খাতে ১৩ কোটি এক লাখ টাকা, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় খাতে এক হাজার ৭৪২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় খাতে চারশ ৯৭ কোটি, দুর্নীতি দমন কমিশন খাতে ৫৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, সেতু বিভাগ খাতে আট হাজার ৭৩৬ কোটি ৯৫ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই