মেইন ম্যেনু

হিন্দি বলে মোদিকে চমকে দিলেন হাসিনা

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে নিউইয়র্ক সফরত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রায় ৪৫ মিনিট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। এসময় সারদার টাকা বাংলাদেশে পাচার ও পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামির যোগাযোগ নিয়ে নরেন্দ্র মোদির হাতে বেশ কিছু তথ্য তুলে দেন শেখ হাসিনা। ৪৫ মিনিটের বৈঠকে পাঁচ মিনিট একেবারে নিভৃতে কথা হয় মোদি ও হাসিনার। এসময় কোনো দোভাষীও ছিল না। শেখ হাসিনা তখন হিন্দিতে কথা বলে চমকে দেন মোদিকে।
সোমবার আনন্দবাজার পত্রিকা এ খবর প্রকাশ করে। শনিবার মধ্যরাতে নিউইয়র্কে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে প্রথমবারের মতো এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে শেখ হাসিনা মোদিকে জানান, জামায়াত হিংসাত্মক উপায়ে তার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার নানা চক্রান্ত চালাচ্ছে। এমন চক্রান্তে পশ্চিমবঙ্গের একটা প্রভাবশালী মহল অর্থ, অস্ত্র ও বিস্ফোরক দিয়ে সাহায্য করেছে। জামায়াতের দুর্বৃত্তরা সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকে এখনো শাসক দলের কিছু নেতার আশ্রয়ে রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
মোদির সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের সুযোগেই এ বিষয়ে একগুচ্ছ তথ্যপ্রমাণ তার হাতে তুলে দিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার আর্জি জানান শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী মোদি তাকে বলেছেন, নিরাপত্তার প্রশ্নে বাংলাদেশের এই সরকার যেভাবে দিল্লির পাশে দাঁড়িয়েছে, তাতে তিনি কৃতজ্ঞ। তিনিও আশ্বাস দেন, বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী কোনো শক্তিকে ভারতের মাটি ব্যবহার করতে দেয়া হবে না।
বৈঠক প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী জানান, দু’জনেই এতো আন্তরিক ও উৎফুল্ল ছিলেন যে একবারও মনে হয়নি এটা তাদের প্রথম সাক্ষাৎ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, মোদি হিন্দিতেই কথা বলেন। শেখ হাসিনাও হিন্দি বলে মোদিকে চমকে দেন। রুদ্ধদ্বার বৈঠকের সময়েও হিন্দিতেই কথা হয় দুই রাষ্ট্রপ্রধানের। তাই সে সময়ে কোনো দোভাষীও সেখানে থাকেনি।
বাংলাদেশের প্রশাসনের শীর্ষ সূত্রের বরাত দিয়ে এতে বলা হয়, শেখ হাসিনা সরকারও চাইছেন না তিস্তা ও স্থল সীমান্ত চুক্তি নিয়ে ভারতে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরির প্রয়াসটি ধাক্কা খাক। এ বিষয়ে সবচেয়ে বড় বিরোধী পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। সে জন্যই তাদের একাংশের জামায়াতযোগের বিষয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা কেন্দ্রকে জানিয়ে রাখলেও তা নিয়ে আপাতত প্রকাশ্যে সরব না হওয়ার কৌশল নিয়ে চলছেন শেখ হাসিনা।



(পরের সংবাদ) »



মন্তব্য চালু নেই