মেইন ম্যেনু

এসএসসির ফল বিশ্লেষণ

হরতাল ও গণিতের সৃজনশীলে বিরূপ প্রভাব

দেশের আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি, মাদ্রাসা বোর্ডের দাখিল ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসির ফল প্রকাশ হয়েছে শনিবার। প্রকাশিত ফল অনুযায়ী গত বছরের তুলনায় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার গড় পাসের হার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির পরিমাণ কমেছে।

এবার দশ বোর্ডে গড় পাসের হার ৮৭ দশমিক ০৪ শতাংশ। গত বছর যা ছিল ৯১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এ ছাড়া এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ১১ হাজার ৯০১ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল এক লাখ ৪২ হাজার ২৭৬ জন।

লাগাতার হরতাল-অবরোধের কারণে পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তন হয়ে যাওয়া ও গণিতে প্রথমবারের মতো সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা হওয়ায় ফলাফলে বিরূপ প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ব্যাপারে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, হরতাল-অবরোধসহ রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পরীক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ছিল না। ফলে পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তন হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের মনোসংযোগে ব্যাঘাত ঘটেছে।

তিনি আরও বলেন, গণিতে এবার প্রথম সৃজনশীল প্রশ্ন হয়েছে। তাই অনেকেই এটি বুঝে উঠতে পারেনি। তবে পরীক্ষার পদ্ধতি বা ধরন উন্নত ও পরিবর্তন হবে, এটাই স্বাভাবিক। যে পাসের হার আছে সেটাকেও কম বলা যাবে না। তবে অবশ্যই আমরা শতভাগ পাসের প্রত্যাশা করি।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আহমেদ হোসেন বলেন, আসলে ফলাফলে অবনমন হওয়ার কারণ হচ্ছে রাজনৈতিক অস্থিরতায় সঠিক সময়ে পরীক্ষা না হওয়া।

এ বিষয়ে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আব্দুল মান্নান খান বলেন, হরতাল-অবরোধের কারণে পরীক্ষা নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা ছিল। দেখা গেছে পরীক্ষা পরিবর্তন হয়ে অনুষ্ঠিত হল অথচ কেউ পরীক্ষা মিস করে ফেলেছে। এটা বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে ফলাফলে। এ ছাড়া গণিতে এবার প্রথমবার সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা হয়েছে। এর সাথে শিক্ষকরা যেমন অভ্যস্ত হতে পারেননি, তেমনি শিক্ষার্থীরাও বুঝে উঠতে পারেনি। অন্যদিকে আমাদের বোর্ডে মানবিকের ছাত্র বেশি আর এবার মানবিকে পাসের হার কমেছে।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র বলেন, সব বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। লটারির মাধ্যমে পরীক্ষা বাছাই হওয়ায় কিছুটা ফলাফলের তারতম্য হতে পারে। এ ছাড়া রাজনৈতিকভাবে অশান্ত এলাকাগুলোতেও ফলাফল খারাপ হয়ে থাকতে পারে। আর পুরো দেশেই হরতাল-অবরোধের কারণে পরীক্ষার ধারাবাহিকতায় বিঘ্ন ঘটেছে। এটি শিক্ষার্থীদের মানসিকতায় প্রভাব ফেলেছে। আবার প্রথমবারের মতো গণিত প্রশ্ন সৃজনশীল হয়েছে। শিক্ষার্থীরা মানিয়ে নিতে না পারায় গণিতে শতকরা ১০ ভাগ পাসের হার কমেছে।

এ ব্যাপারে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ইন্দুভূষণ ভৌমিক বলেন, পাসের হার ও জিপিএ-৫ কিছুটা কমার কারণ হল গণিতে প্রথমবার সৃজনশীল হওয়া। এ ছাড়া হরতাল-অবরোধের কারণে শিক্ষার্থীদের স্পিরিট নষ্ট হয়েছে। তারা অনিশ্চয়তায় ছিল যে আসলে পরীক্ষা হবে কিনা। আবার শিক্ষার্থীরা গ্যাপ চায়, কিন্তু শনিবারের পরীক্ষায় তারা তা পায়নি। অন্যদিকে সপ্তাহের গ্যাপ পেয়ে শিক্ষার্থীরা পড়েইনি।

এ ব্যাপারে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর ফাহিমা খাতুন বলেন, ফলাফল খারাপ হওয়ার প্রধান কারণ হল হরতাল-অবরোধের কারণে সৃষ্ট টানাপোড়েন। কারণ ওই সময়টায় কোনো মানুষই ভাল ছিল না। প্রথমবার গণিতের সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষার হওয়ার কারণে ফলাফলে অবনমন হয়েছে কিনা— জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে গণিতসহ কী কী ফ্যাক্টর ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে তা আরও বিশ্লেষণ করতে হবে। যদি গণিতের কারণে ফলাফল খারাপ হয়ে থাকে তাহলে এ বিষয়ে আরও মনোযোগ দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম খান বলেন, হরতাল-অবরোধের কারণে পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তন হওয়ায় ফলাফলে প্রভাব পড়েছে। গণিতের বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক ফ্যাক্টর থাকতে পারে। এর মধ্যে গণিতও একটি ফ্যাক্টর। তবে এবার খাতা মূল্যায়নে অনেক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে, এটাও একটি কারণ।দ্য রিপোর্ট






মন্তব্য চালু নেই