মেইন ম্যেনু

সড়কে বেহাল দশা, দুর্ভোগে সাতক্ষীরার ২২ লাখ মানুষ

বেহাল সড়কে সাতক্ষীরার ২২ লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগে। রাস্তায় চলতে গিয়ে খেতে হচ্ছে নাকানিচুবানি। জেলার সড়ক-মহাসড়কগুলোর অবস্থা করুণ দশায় পৌঁছেছে। একটি রাস্তাও আস্ত নেই সাতক্ষীরায়। সড়কগুলোর পিচ ও খোয়া উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ছালচামড়া উঠে সড়কগুলো বেহালদশায় পরিণত হয়েছে। দেখে মনে হয় খানা খন্দে ভরা সড়কগুলো। ফলে মানুষের দুর্ভোগের অন্ত নেই।

বিশেষ করে পৌর এলাকার প্রত্যেকটি সড়কই খানাখন্দে ভরা। বৃষ্টি হলে সড়কে পানি জমে ঢেউ খেলে। আর বৃষ্টি না হলে ধূলোবালিতে ঘন কুয়াশার আকার ধারণ করে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক-মহাসড়ক দিয়ে সাতক্ষীরার লাখ লাখ মানুষ রাজধানী ছাড়াও বিভাগীয় শহর খুলনা, পাশের গুরুত্বপূর্ণ শহর যশোর ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে গমনাগমন করেন।

এছাড়া আঞ্চলিক সড়কগুলো দিয়ে উপজেলা শহরে এবং স্থানীয় সড়কগুলো ব্যবহৃত হয় গ্রামীণ মানুষের চলাচলের জন্য। কিন্তু সড়ক-মহাসড়কগুলো খানা-খন্দকে ভরা। বৃষ্টি হলে যানবাহন আটকা পড়ে রাস্তায় জমে থাকা পানিতে। আবার শুকনো মৌসুমে ধুলিধুসর হয়ে ওঠে মানুষের শরীর ছাড়াও যানবাহন। আর দুর্ঘটনা তো নৈমিত্তিক।

দুর্ভোগের বর্ণনা দিয়ে সাতক্ষীরা সদরের আমতলা মোড় এলাকার সোহাগ হোসেন জানান, পৌর এলাকার অধিকাংশ রাস্তার অবস্থা খারাপ। বৃষ্টি হলে তো আর চলাচলের উপায় থাকে না। রাস্তায় পানি জমে যায়। জেলা সদরের প্রশাসনিক দপ্তর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে তো অবস্থা আরো করুণ। বৃষ্টিতে কোনটা রাস্তা আর কোনটা খাল-বিল বোঝা মুশকিল। তাছাড়া বড়বাজার, ইটাগাছা, রেজিস্ট্রি অফিস, সরকারি কলেজ এলাকা, পোস্ট অফিস মোড় এলাকা, সুলতানপুর এলাকার রাস্তায় চলতে গিয়ে মানুষকে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

তালা উপজেলার সুজনশাহ এলাকার আবুল কালাম গাজী বলেন, ‘সুজনশাহ কাউন্সিল, তেঁতুলিয়া, তালা মহিলা কলেজ রোড, সরকারি কলেজ রোড, খলিলনগর এলাকা, হাসপাতাল সড়কের অবস্থা খুবই জরাজীর্ণ।’

কলারোয়া উপজেলার জুলফিক্কার আলী জানান, কলারোয়া সদর থেকে সরসকাটি রোড, ব্রজবাকসা বাজার, সোনাবাড়ীয়া রাস্তার অবস্থা এতো খারাপ যে, বাইসাইকেল নিয়েও চলাচল করা যায় না। প্রতিদিনই এসব সড়কে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।

আশাশুনি উপজেলার বাহাবুল হাসনাইন জানান, আশাশুনি-সাতক্ষীরা সড়ক, কোলা, বড়দল, পারুলিয়া, বুধহাটা-শোভনালী ব্রিজ রাস্তাগুলো আশাশুনি উপজেলার মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। অথচ এর একটি রাস্তাও চলাচল উপযোগী নয়। চাপড়া টু চিলেডাঙ্গা সাইক্লোন শেল্টার পর্যন্ত একটি রাস্তার সংস্কার কাজ চলছে।

শ্যামনগর উপজেলার আনিছুর রহমান জানান, শ্যামনগর সদর থেকে মুন্সীগঞ্জ, ভেটখালি দুটি রাস্তাই মূলত উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। এই দুটি রাস্তার অবস্থা খুবই করুণ। তাছাড়া নুরনগর, চিংড়িখালি, হরিনগর, খানপুর-নুরনগর, গোবিন্দপুর-কাশিমাড়ি, চোয়ালিয়া-মানিকপুর, ভেটখালি-কৈখালি, মুন্সিগঞ্জ-নীলডুমুর বিজিবি ক্যাম্প, চণ্ডীপুর-শ্যামনগর বাজার রাস্তার একটিও আস্ত নেই।

কালিগঞ্জ উপজেলার ইশারাত হোসেন বলেন, ‘কালিগঞ্জ কলেজ মোড়, কৃষ্ণনগর, বাঁশতলা রোড, কালিগঞ্জ-জিরোনগাছা-মৌতলা-দক্ষিণ শ্রীপুর, নলতা-তারালি রাস্তাগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

দেবহাটা সদরের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ আবুল ফজল জানান, সাতক্ষীরা সদরে যোগাযোগের প্রধান সড়কটির অবস্থাই খারাপ।

দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুরুল করিম বলেন, ‘এসব রাস্তা সংস্কারের জন্য মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ চেয়ে পাঠানো হয়েছে। তাছাড়া কালিগঞ্জ, আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলার রাস্তার ছোটখাটো কাজগুলো আমরা চলমান রেখেছি, যাতে যাতায়াত ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন না হয়ে পড়ে। তবে অর্থ বরাদ্দে স্বল্পতা রয়েছে।’

জেলার রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থার বিষয়ে জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দীন বলেন, ‘চেষ্টা করছি রাস্তাগুলো সংস্কারের। দেড় মাস পর বাকাল থেকে সার্কিট হাউজ পর্যন্ত রাস্তাটি সংস্কার শুরু হবে। ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার হবে সড়কটি। তাছাড়া বাকি সড়কগুলোর বিষয়েও আমরা চেষ্টা-তদবির করছি কিন্তু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে এখনো রিপ্লাই পাইনি।’






মন্তব্য চালু নেই