মেইন ম্যেনু

সুন্দরবনে নৌযান চলাচল বন্ধের পরামর্শ

সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে ফর্নেস ওয়েলবাহী ট্যাংকার ডুবির ঘটনায় তেলের প্রভাব আপাতত সীমিত বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক দল। একই সঙ্গে সুন্দরবন দিয়ে নৌযান চলাচল বন্ধের সুপারিশও করেছে দলটি।

বুধবার বিকেলে রাজধানীর সোনারগাঁ হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক প্রতিবেদনে এ সুপারিশ করা হয়। বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে আগামী ১৫ জানুয়ারি।

সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে পর্যবেক্ষণ করে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ যৌথ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে পর্যবেক্ষক দলটি।

পর্যবেক্ষক দলটি তাদের পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে জানিয়েছে, সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ ও জলজপ্রাণীর ওপর আপাতত তেলের প্রভাব কম। স্থানীয় জনসাধারণের তৎপরতা, দুর্ঘটনার পর ওই নদীতে ট্যাংকার চলাচল নিষিদ্ধ করা ও জোয়ার-ভাটার পরিবর্তন পরিস্থিতির অনুকূলে থাকায় ‍সুন্দরবনের মধ্যে তেলে অনুপ্রবেশের সুযোগ অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। সুন্দরবনের মতো এমন মহামূল্যবান স্থান এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের মাঝখান দিয়ে নৌ চলাচল বন্ধ করা উচিৎ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ঘটনার পর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অনুকূলে থাকায় সুন্দরবনের ক্ষয়ক্ষতির তাৎক্ষণিক প্রভাবকে সীমিত রাখতে সাহায্য করেছে। এর মধ্য দিয়ে তেলের ট্যাংকার পরিবহন সুন্দরবনের পরিবেশ এবং একে ঘিরে বেঁচে থাকা মানুষের জীবনের জন্য অনেক বড় একটা হুমকি। তাই এ পথে নৌ চলাচল করতে দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করে নেয়ারও পরামর্শ দেয়া হয়।

গত ৯ ডিসেম্বর সকালে সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে ফর্নেস ওয়েলবাহী ট্যাংকার (আসলে বালুবাহী ট্রলারে তেল) ডুবির ঘটনা ঘটে। ট্যাংকারটিতে থাকা প্রায় সাড়ে তিন লাখ লিটার তেল নদীতে ছড়িয়ে পড়ে।

এ পরিস্থিতিতে ১৫ ডিসেম্বর জাতিসংঘের কাছে সহায়তা চেয়ে একটি চিঠি দেয় সরকার। চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ ওই বিশেষজ্ঞ দলকে ঢাকায় পাঠায়। তারা সুন্দরবন এলাকায় ৬ দিন অবস্থান করে পর্যবেক্ষণ করে।

বুধবার সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর ১৫ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে বলেও জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পর্যবেক্ষক দলের প্রধান এমিলিয়া ওয়ালস্ট্রম, জাতিসংঘের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রতিনিধি বিট্রিস টালডুন, পরিবেশমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, প্রতিমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল জ্যাকব, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব নজিবুর রহমান প্রমুখ।






মন্তব্য চালু নেই