মেইন ম্যেনু

উপ-নির্বাচন

সিরাজগঞ্জ-৩: আ.লীগ-জামায়াতের ১৯ প্রার্থী মাঠে

সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ ও সলঙ্গা) আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরেই দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ইতোমধ্যে এলাকা ছেয়ে গেছে পোস্টার, ব্যানার আর ফেস্টুনে। এসব পোস্টারে শোভা পাচ্ছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মুখে।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৩ ডিসেম্বর নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে। এখনও বাকি এক মাসের বেশি সময়। এর মধ্যেই জোরে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। নবীন প্রবীণ মিলেন অন্তত দেড় ডজন প্রার্থী নেমেছেন মঠে। যাদের সিংহভাগই ক্ষমতাসীন দলের। তবে এর মধ্যে নতুন মুখে ভিড়ই বেশি।

সূত্রমতে, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইতোমধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ১৭ জন, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীর একজন করে এবং স্বতন্ত্র এক প্রার্থী মাঠ নেমেছেন। নির্বাচনী এলাকা তাড়াশ, রায়গঞ্জ ও সলঙ্গা ‍জুড়ে দেখা যাচ্ছে প্রার্থীদের ছবি সম্বলিত ফেস্টুন, ব্যানার পোস্টার। এসব পোস্টার সাঁটিয়ে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা হচ্ছে। দোয়া চাওয়া হয়েছে। তবে এসবের মধ্যে চোখে পড়ছে না বিএনপি দলীয় কোনো প্রার্থীর পোস্টার।

আবার মনোনয়ন প্রত্যাশী অনেকের নাম আলোচনায় উঠে এলেও কর্মীসমর্থক থেকে বিচ্ছিন্ন অনেক নেতার প্রচার-প্রচারণা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে পোস্টার আর ব্যানারের মধ্যেই।

নতুন মুখের সম্ভাব্য অনেক প্রার্থীই শুধুমাত্র ব্যানার পোস্টারে নিজেদের উপস্থাপন করছেন। কিন্তু এলাকায় তাদের উপস্থিতি নেই। রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই এমন মুখের ভিড়ও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক ব্যবসায়ী উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রত্যাশা নিয়ে ডিজিটাল ব্যানার পোস্টার ছাপিয়ে নিজেদের উপস্থাপন করছেন।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের যেসব নেতা ও সমর্থক মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন তারা হলেন- সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এটিএম লুৎফর রহমান দিলু, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হান্নান, মরহুম ইসহাক হোসেন এমপির ছোট ছেলে ব্যারিস্টারি পড়ুয়া ইমরুল হোসেন তালুকদার(ইমন), বৃহত্তর পাবনা ও দিনাজপুর অঞ্চলের ট্রাস্টি ও রায়গঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার রায়, আওয়ামী লীগ যুক্তরাজ্য সুইনডেনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোহাম্মদ আলী তালুকদার (আঁখী), স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ সভাপতি ও ঢাকা শিশু হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. আব্দুল আজিজ, কৃষকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সুইট, তাড়াশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বর্ষিয়ান নেতা আলহাজ্ব গাজী ম. ম. আমজাদ হোসেন মিলন, রায়গঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিন্নাহ আলমাজী, মহিলা আওয়ামীলীগ ঢাকা মহানগর (উত্তর) দপ্তর সম্পাদিকা রিটা কে আফজাল, রায়গঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, সাবেক এমপি রওশনুল হক মতি মিয়ার সুযোগ্য কন্যা রাশিদা বানু বেবী, রায়গঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন মাহমুদ নাজির, তাড়াশ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি ও বারুহাস ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোক্তার হোসেন মুক্তা, রায়গঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম শিহাব, রায়গঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ হৃদয়, রায়গঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান হাবিব সুজন প্রমুখ।

এদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীর এক নেতাকে নির্বাচনী মাঠে সরব হতে দেখা গেলেও প্রধান দল বিএনপির কোনো প্রার্থীকে চোখে পড়ছে না।

রায়গঞ্জ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এবিএম আব্দুস সাত্তার, রায়গঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর জাকির হোসেন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী এ এইচ এম মহিবুল্লাহ মহিবসহ একাধিক প্রার্থী গণসংযোগ করে যাচ্ছেন।

এসব প্রার্থী এলাকার সার্বিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিতে শুরু করেছেন। দলীয় বিভিন্ন সভায় যোগ দিচ্ছেন। বিগত দিনের ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে জনগণের জন্য কাজ করে যাওয়ার ওয়াদা করছেন। নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ, আলোচনা সভা, মতবিনিময়, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে ভোটারদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে দোয়া চাইছেন।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দেড় ডজন প্রার্থীর মধ্যে কে ধরবেন সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে নৌকার হাল ধরবেন সে প্রশ্ন তুলছেন ভোটাররা। উপ-নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন চা স্টল থেকে শুরু করে হাটবাজার ও লোকালয়ে ঝড় উঠেছে আলোচনার। কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গেও ইতোমধ্যে জোর লবিং শুরু করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

সিরাজগঞ্জ নির্বাচন অফিস সূত্রমতে, আগামী ২০ নভেম্বর পর্যন্ত উপনির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহীরা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়ন দাখিল করতে পারবেন। ২২ নভেম্বর যাচাই-বাছাই। ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার। ভোটগ্রহণ হবে আগামী ২৩ ডিসেম্বর।

আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩১ হাজার ৩শ ৩৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫৩৯ জন। নারী ভোটার ১ লাখ ৬ হাজার ৭শ ৯৭ জন।

উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় (ঈদুল আজহার দিন) সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের বাড়িতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ ও সলঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য ইসহাক হোসেন তালুকদার। পরে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুতে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। গত ১১ নভেম্বর উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

ইসহাক হোসেন তালুকদার সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। ১৯৮৬, ২০০৭ ও ২০১০ সালে তিন দফায় তিনি রায়গঞ্জ-তাড়াশ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন।






মন্তব্য চালু নেই