মেইন ম্যেনু

সিগারেটের বহুবিধ ব্যবহার

এমন কোনো দেশ পাওয়া যাবে না যেখানে সিগারেট বিরোধী কোনো বক্তব্য নেই। প্রতিটি দেশেই নিয়ম করে পত্রিকা, টেলিভিশনসহ অন্যান্য মাধ্যমে সিগারেটের অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তর ব্যাখ্যা বয়ান দেয়া হচ্ছে। তবু কমছে না সিগারেটসেবীর সংখ্যা। উল্টো সিগারেট কোম্পানিগুলোর চটকদার বিজ্ঞাপনের প্রলোভনে নতুন করে সিগারেটসেবীর সংখ্যা বাড়ছে। সিগারেট হয়ে গেছে এখন মানুষের নিত্যদিনের বিলাসী প্রয়োজনের অনুষঙ্গ। আর এই অনুষঙ্গ নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন একদল চীনা গবেষক।

চীনা এই গবেষক দলের দাবি, সিগারেট পুড়ে যাওয়ার পর যে ছাই এবং ফিল্টার থাকে সেগুলোকে বিভিন্ন কাজে লাগানো যায়। মোবাইল ফোনে চার্জ দেয়া থেকে শুরু করে শক্তিশালী ইট তৈরির কাজে পর্যন্ত ব্যবহার করা যায় সিগারেটের ফেলে দেয়া ফিল্টার। এছাড়াও সিগারেটের ছাই দিয়ে পানি বিশুদ্ধিকরণও করা সম্ভব।

গবেষকদের দাবি, সিগারেটের ছাই দিয়ে খুব ভালো ভাবে আর্সেনিকযুক্ত পানিকে আর্সেনিকমুক্ত করা সম্ভব। আর্সেনিক প্রাণঘাতী বিষ হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত। সেই বিষকে নষ্ট করে দিয়ে পানিকে বিশুদ্ধ করতে জুরি নেই সিগারেটের ছাইয়ের। এ যেন বিষে বিষক্ষয়।

চীনের অ্যাকাডেমি অব সায়ান্সের জিয়াং লি’র তত্ত্বাবধানে এই গবেষক দল সিগারেটের ছাইয়ের সঙ্গে অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড মিশিয়ে আর্সেনিক বিশুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়াটি পরীক্ষা করে দেখেন। ভূ-গহ্বরের আর্সেনিকযুক্ত পানিকে এই সিগারেটেরও ছাই মিশ্রন দিয়ে ফিল্টার করে দেখা যায় আর্সেনিকযুক্ত পানির প্রায় ৯৬ শতাংশ আর্সেনিকই ধ্বংস হয়ে গেছে।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার একদল গবেষক মনে করেন সিগারেটের ফিল্টারকে প্রক্রিয়াজাত করে কম্পিউটার, ইলেকট্রিক পরিবহন এবং জ্বালানির কাজেও ব্যবহার করা সম্ভব। কারণ সিগারেটের ফিল্টারের মধ্যে যে উপাদান থাকে তা বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত কার্বণ থেকেও উত্তম।

বিশ্বব্যাপী বছরে প্রায় পাঁচ দশমিক ছয় ট্রিলিয়ন সিগারেট সেবন করা হয় যা ওজন দিলে দাড়ায় সাত লাখ ৬৬ হাজার ৫৭১ টন। এই বিপুল পরিমান সিগারেট ফিল্টার ও ছাই এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে বর্জ্য হিসেবেই সাব্যস্ত হয়।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই