মেইন ম্যেনু

সালমান শাহ স্মরণে আবেগাপ্লুত তারকারা

শনিবার দুপুরে রাজধানীর বলাকা সিনেওয়ার্ল্ডে প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়েছে। এসময় প্রয়াত এই নায়কের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেক তারকাই আবেগাপ্লুত হয়ে পরেন।

৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক সালমান শাহের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বলাকা সিনেওয়ার্ল্ডে সপ্তাহব্যাপী চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে ঢুলি কমিউনিকেশনস। শনিবার দুপুরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের শুরুতে সালমান শাহ স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এরপর তাকে নিয়ে নির্মিত পাঁচ মিনিটের একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

তথ্যচিত্রের প্রদর্শন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই নায়ক সম্পর্কে কিছু বলবার জন্যে মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো হয় সালমান শাহ অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র কেয়ামত থেকে কেয়ামত ছবির পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানকে। এ সময় তিনি বলেন, ‘সালমান শাহ মারা গিয়েছেন প্রায় ১৮ বছর। কিন্তু আজ এই প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের উপস্থিতিই বলে দিচ্ছে সালমানের জনপ্রিয়তা কতটুকু। অথচ সালমানের প্রথম ছবির মহরতে এত লোক দেখা যায়নি। সালমান নেই, কিন্তু কেয়ামত থেকে কেয়ামত পর্যন্ত বাংলা চলচ্চিত্রের মাঝে বেঁচে থাকবে সে।’

অন্যদিকে সালমানের প্রথম ছবির নায়িকা মৌসুমী অনেকটা আবেগ আপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘আজকের দিনে সালমান আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছে। এটা তার ভুল সিদ্ধান্ত ছিলো।’

এ সময় তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্য করে আরো বলেন, ‘সালমানকে সম্মান করতে পারার মধ্যেই অনেক কিছু প্রমাণ হয়ে যায়। সালমানের স্মরণে অনেকেই অনেক বড় বড় উদ্যোগের কথা বলেছেন। কিন্তু তা মিডিয়ার সাপোর্ট ছাড়া করা অসম্ভব। তাই আমি বলতে চাই আমাদের চলচ্চিত্রের জন্যে মিডিয়ার সাপোর্ট অনেক বড় কিছু। আপনারা বাংলা চলচ্চিত্রের সঙ্গে থাকুন, সালমানকে ভালোবাসুন।’

অনুষ্ঠানে সালমান শাহকে স্মরণে বক্তব্য দিতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন চিত্রনায়ক ওমর সানি। তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘সালমান আত্মহত্যা করতে পারে না। সে আমাকে বড় ভাই বলে ডাকতো। মৃত্যুর ঘণ্টা খানেক আগেও তার সঙ্গে আমার কথা হয়। কিন্তু এভাবে চলে যাবে তা তখনও ভাবিনি।’

এদিকে ঢাকাই চলচ্চিত্রের বর্তমান সময়ের আলোচিত নায়ক অনন্ত জলিল বলেন, ‘ধন্য সেই বাবা-মা যারা সালমান শাহের মতো একজন সন্তানের জন্মদাতা, ধন্য সোহান ভাই যিনি সালমান শাহের মতো একজন নায়ক তৈরি করতে পেরেছিলেন।’

সালমান শাহের স্মৃতিচারণ করে তিনি আরো বলেন, ‘তার কেয়ামত থেকে কেয়ামত ছবিটি আমি দুইবার হলে গিয়ে দেখেছি। কারণ তখন সালমান বলতে একটা ক্রেজ বুঝাতো। ’

স্মৃতিচারণ পর্বে আরো বক্তব্য দেন অভিনেতা নিরব, নিলয়, ইমন, তানভীর, অভিনেত্রী আইরিন, উপস্থাপক ও পরিচালক দেবাশীষ বিশ্বাসসহ অনেকে।

স্মৃতিচারণ পর্ব শেষে সালমান শাহ অভিনীত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবিটি প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া ৭ সেপ্টেম্বর ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ৮ সেপ্টেম্বর ‘সুজন সখী’, ৯ সেপ্টেম্বর ‘অন্তরে অন্তরে’, ১০ সেপ্টেম্বর ‘তুমি আমার’ এবং ১১ সেপ্টেম্বর সমাপনী দিনে ‘সত্যের মৃত্যু নাই’ ছবিটি প্রদর্শীত হবে।






মন্তব্য চালু নেই