মেইন ম্যেনু

সারিয়াকান্দিতে নকশি কাঁথা তৈরী করে মহিলাদের চলে সংসার

ইমরান হোসাইন রুবেল : বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে চর ও বিল এলাকার মানুষেরা প্রধানত জমি চাষাবাদ করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। কৃষি কাজে পুরুষদের পাশাপাশি মহিলারাও সম্পতি ব্যাপক ভাবে অংশ নিচ্ছেন। কিন্তু বয়সের কারণে অনেক মহিলা কৃষি কাজে অংশ নিতে না পারলেও বাড়িতে বসে কাঁথা সেলায় কাজে ব্যস্ত সময় পার করেন। আর এ কাজ করে মহিলারা উপার্জিত অথ্য দিয়ে সংসারের দুঃখ ঘোঁচাতে সৎক্ষম হচ্ছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ জনপদের গ্রামগুলোতে এখনো তৈরি হচ্ছে নকশি কাঁথা। বিশেষ করে গৃহস্থালী পাশাপাশি মহিলা অবসর পেলেই সুইসুতা হাতে নিয়ে সেলাইয়ে বসেন। তবে কেউ কউে শখের বশে করলেও হতদরিদ্র জনগোষ্টির নারীরা সামান্য মজুরির বিনিময়ে অন্যের কাঁথায় রঙ্গিন সুতায় নকশা এঁকে দেন। এসব কাঁথা তৈরির মূল উপাদান হলো পুরাতন কাপড় ও নানান রঙের সুতা। পুরোনো কাপড় কয়েক ভাঁজ করে চার দিকে সেলাই করে আটকে নেয়া হয়। তারপর সেলাইয়ের সমান দূরত্ব বজায় রেখে প্রথমে বড় বড় ফোঁড় দিয়ে কাপড়ের পরলগুলোকে আটকানো হয়। তারপর নকশি সেলাই শুরু করা হয়। নকশি কাঁথার নকশগুলোর বিভন্ন নাম আছে, রান ফোঁড়, ডবল রান, তেরছা ফোঁড়, কাইত্যা ফোঁড়, এক ফুঁইড়া, বখেরা ফোঁড়, গাট ফোঁড়, লীক ফোঁড়, ক্রসস্টিচ, তারা ফোঁড়, বাঁশপাতা ফোঁড়, বৈকা ফোঁড়সহ আরো অনেক নাম আছে। নিপুন হাতে তৈরী এসব নকশি কাঁথায় কেউ বা আবার সেলায়ের মাধ্যমে ফুটে তোলেন গ্রাম বাঙলার নানা ঐতিহ্য। পাখিলতা, আটপাতা ফুল, খেঁজুর ছড়ি, চোখ, তাবিজ, মাছ, পিঁপড়ার সারি, চাঁদ, নৌকাবিলাস। সুন্দর নকশি কাঁথা তৈরী করে নেয়ার পর নিজেদের ব্যবহারের পাশাপাশি জামাই বাড়ীতে উপহার হিসাবে পাঠিয়ে দিতে পেরে নিজেকে গর্ববোধ করেন।

কথা হয় সারিয়াকান্দির কুতুবপুর ইউনিয়নের বড়কুতুবপুর এলাকার বাঁধবাসী ষাটোর্ধ মঞ্জিলা বেগম, জোলেখা বেগম, সাহেরা বেওয়ার সাথে, তারা আমাদের এ প্রতিনিধিকে জানান, ঢাকা শহরে থাকা তাদের আতœীয়রা কাঁথা সেলাই করার জন্য দিয়ে গেছে। ৬শ’ থেকে ৮শ’ টাকার মজুরির বিনিময়ে তারা সেলাইয়ের কাজ করছেন। মাঝারি একটা কাঁথা সেলাই করতে তাদের সময় লাগে ৩০ থেকে ৪০দিন। অপরদিকে স্পেশাল নকশি কাঁথা সেলাই করতে তিন মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায়। রকম ভেদে এসব নকশি কাঁথার মজুরি ৫শ’ থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত। কেবল এ গ্রাম নয় উপজেলার ১২ ইউনিয়নের বহু বৃদ্ধ মহিলারা নকশি কাঁথা সেলায়ের ব্যস্ত সব সময় পার করেন বছর জুড়ে। তারা আরো জানান, উপার্জিত টাকা দিয়ে নিজেদের ডাল ভাতের পাশাপাশি নাতি-পুতিদের জন্য শখের বায়না পূরনে ভূমিকা অনেক। তবে নকশি কাঁখা তৈরীতে ওই সব মহিলাদের জন্য নেই কোন বিশেষ সুযোগ সুবিধা। প্রয়োজনের তাগিতে আজ ধরে রেখেছেন এই পেশা। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, এলাকার মানুষের অত্যন্ত মহিলা কাঁথা সেলাই করে সংসারের অভাব দূর করছেন। তবে তারা সু-সংগঠিত হতে পারলে অবশ্যই সরকারের দেয়া বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেয়া সম্ভব।






মন্তব্য চালু নেই