মেইন ম্যেনু

সারদার টাকা ইসলামী ব্যাংকে!

পশ্চিমবঙ্গের আলোচিত সারদা চিট ফান্ডের আমানতের একটি অংশ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডে জমা হয়েছে কিনা তা অনুসন্ধান করছে ভারতের তদন্ত সংস্থা। জঙ্গি সংগঠন জামায়াত-উল-মুজাহিদীন বাংলাদেশকে (জেএমবি) সারদা অর্থ দিয়েছে এমন খবর প্রকাশের পর ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে এই অর্থ আদান-প্রদান হয়েছে কিনা সেটা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে ভারতের তদন্তকারীরা। গতকাল শুক্রবার ভারতের বহুল প্রচারিত দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
‘সারদা ফান্ডস ডিপোজিটেড ইন বাংলাদেশ’স ইসলামী ব্যাংক?’ শিরোনামে অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ব্যাংকের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ রয়েছে। জিহাদের জন্য তহবিল দেয়ার বিষয়টি বাংলাদেশ সরকার প্রমাণ করছে। এছাড়া মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গেও ব্যাংকটির সম্পৃক্ততা ছিলো। সারদা কেলেঙ্কারির সঙ্গে সম্পৃক্ত কলকাতার কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ কয়েকজন কর্মকর্তার সংযুক্তিরও আভাস পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জঙ্গিদের কাছে কোন্ মাধ্যমে টাকা গেছে তা খুঁজতে গিয়েই ব্যাংকটির নাম বেরিয়ে এসেছে। এই ব্যাংক পরিচালিত কিছু প্রতিষ্ঠানের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থ যোগানের বিষয়টি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন প্রমাণ করে চলেছে। ইসলামী ব্যাংক কীভাবে অর্থ ছাড় করে তাও জানতে চেয়েছে সরকার। এছাড়া সন্দেহ করা হচ্ছে এই ব্যাংকের ‘কাস্টমার বেসে’ এমন সব ব্যক্তিরা রয়েছেন, যারা আন্তর্জাতিক কালোতালিকাভুক্ত।
‘কর্পোরেট জাকাত’ এর আদলে এসব ব্যক্তি ও সন্দেহভাজন প্রতিষ্ঠানের কাছে তহবিল ছাড় করতে পারে ব্যাংকটি। ইসলামী ব্যাংক কোনো কাস্টমারের পক্ষে ‘গালফ’ অঞ্চলে অর্থ বিনিয়োগ করেছে কিনা তা বাংলাদেশকে খুঁজে বের করার জন্য ভারতের তদন্তকারীরা অনুরোধ জানাতে পারে।
রিসার্চ এন্ড এনালাইসিস উইং (‘র’) এর সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সন্ত্রাসীদের মূল শক্তি হচ্ছে অর্থ। ইসলামী ব্যাংকের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা সব সময় সন্দেহের দৃষ্টিতে রাখা হয়েছে। বৈশ্বিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও জঙ্গি অর্থায়নকারীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এমনকি মার্কিন সিনেট কমিটি সন্ত্রাসীদের অর্থায়নের জন্য ইসলামী ব্যাংককে অভিযুক্ত করেছে। এছাড়া আরো অভিযোগ রয়েছে যে, ব্যাংকটির বর্তমান চেয়ারম্যান এক সময় আল-বদর নেতা ছিলেন এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বাংলাদেশে ব্যাংকটির সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যানের বিচার হচ্ছে।
সারদার টাকা ইসলামী ব্যাংকে জমা হয়েছে কিনা তা খুঁজে বের করতে কাজ করছে তদন্তকারীরা। সন্দেহ করা হচ্ছে, সারদার টাকা ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে ‘রিয়েল এস্টেট’ ব্যবসায় বিনিয়োগ হতে পারে।





মন্তব্য চালু নেই