মেইন ম্যেনু

উদ্ধারকৃত পঁচা চাল ওসিএলএসডিকে খাওয়ানো হোক!

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় গুদাম থেকে পাচারের সময় চাল আটক

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় সরকারি খাদ্যগুদাম থেকে ৫০ মে.টন চাল পাচারের সময় স্থানীয় জনতা তা আটক করেছে। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে বাসস্ট্যান্ড এলাকার পুরাতন খাদ্যগুদাম থেকে এ ঘটনাটি ঘটে। এসময় খাদ্যগুদামের মধ্য থেকে খাওয়ার অনুপোযোগী আধাভাঙ্গা, লালচে সাদা, ভ্যাপসা ধরা, পঁচা ও ক্ষুদাকৃতির চাল উদ্ধার করে বিক্ষুব্ধ জনতা। কলারোয়া খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা (ওসি,এলএসডি) আলীনুর রহমান এ চাল পাচার করছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খাদ্যগুদাম থেকে একটি ট্রাকযোগে বস্তাভর্তি চাল লোড দেয়ার সময় স্থানীয় জনতার সন্দেহ হয়। পরে জনতা বিষয়টি উপস্থিত কর্মকর্তা, ব্যক্তি ও লেবারদের কাছে জানতে চায়লে তারা কোন সদুত্তর না দিয়ে টালবাহানা করে। একপর্যায়ে জানা যায় ওই চাল গোপনে অন্যত্র সরানো হচ্ছিল। এসময় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু নেতৃত্বে স্থানীয় জনতা ওই চাল আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে তারা খাদ্য গুদামের ভিতর থেকে খাওয়ার অনুপোযোগী আধাভাঙ্গা, লালচে সাদা, ভ্যাপসা ধরা, পঁচা ও ক্ষুদাকৃতির চাল উদ্ধার করে। দুপুরের দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপ কুমার তালুকদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ‘সম্প্রতি ভিজিএফ চাল বিতরণের সময় বেশ কিছু খাওয়ার অযোগ্য চাল বের হয়। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ওই নষ্ট চাল খাদ্য গুদামে সিলগালা করে রাখা হয়।’ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ওই চাল স্থানীয় প্রশাসনকে না জানিয়ে সরকারি খাদ্যগুদাম থেকে দায়িত্বরত কর্মকর্তা (ওসি,এলএসডি) তা সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করছিল। এ সময় স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হলে তা তারা আটক করে প্রশাসনকে খবর দেয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে ওই চাল উদ্ধার করে সিলগালা করে রাখা হয়েছে। কী কারণে প্রশাসনকে না বলে ওই চাল খাদ্য গুদাম থেকে সরানো হচ্ছিলো সে বিষয়টি জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় জনতারা অভিযোগ করেন- ‘চাল পাচারের কারণে আইনানুগ শাস্তির পাশাপাশি ওসিএলএসডিকে পরিবারসহ উদ্ধারকৃত পঁচা চাল কমপক্ষে একমাস খাওয়ানোর শাস্তি দেয়া হোক।’
কলারোয়া খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা আলীনুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, জেলা খাদ্য কর্মকর্তার নির্দেশে গুদাম থেকে ৫০ মে. টন নষ্ট চাল সরিয়ে নেয়া হচ্ছিল। চালগুলো কলারোয়া গুদাম থেকে পাটকেল ঘাটা খাদ্য গুদামে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
জেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো. শাহাজান ভুঁইয়া জানান, নষ্ট চাল সরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা। আমার নির্দেশে নষ্ট চাল সরিয়ে নেয়া হচ্ছিল, এই কথা সঠিক নয়। এ ব্যাপারে তদন্ত করে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান জানান, ‘নষ্ট চাল সরিয়ে নিতে হলে জেলা প্রশাসনকে জানাতে হবে। কিন্তু তার কোনো কিছু না জানিয়ে সেখান থেকে চাল সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই