মেইন ম্যেনু

সব কথা ধরলে চলে না

‘যে কোনো ঘটনা ঘটলে অনেকে অনেক ধরনের কথা বলে। সব কথা ধরলে চলে না।’ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন।

রাজধানীর শাহজাহানপুরের রেলওয়ে কলোনিতে পাইপের গর্তে শিশু জিহাদ পড়ে যাওয়ার ঘটনাটিকে গুজব বলে মন্তব্য করেছিলেন দায়িত্বশীল অনেকে। মঙ্গলবার বিকেলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরে স্বেচ্ছাসেবীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ মন্তব্যটি করেন।

শিশু জিহাদ পাইপে পড়ে যাওয়ার প্রায় ২২ ঘণ্টা পর সংবাদ সম্মেলন করে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক উদ্ধারকাজ স্থগিত ঘোষণা, দায়িত্বশীলদের ঘটনাটি গুজব বলে মন্তব্য এবং জিহাদের বাবাকে আটকের পর স্বেচ্ছাসেবীরা নাটকীয়ভাবে শিশুটিকে উদ্ধার করে। জিহাদের মৃহদেহ উদ্ধারের পর থেকে সরকারের দায়িত্বশীলদের মন্তব্য এবং ফায়ার সার্ভিসের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে উদ্ধারকর্মীদের সংবর্ধনাটি দেয়া হলো।

ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতি বছরই তারা স্বেচ্ছাসেবীদের সংবর্ধনা ও সনদপত্র দিয়ে থাকেন। এবার ৩০ জনকে এ সম্মাননা দেয়া হলো, যাদের ১৫-২০ জন শিশু জিহাদকে উদ্ধারের চেষ্টা করেছিলেন। সফল হওয়া আট স্বেচ্ছাসেবীও পেয়েছেন এই সংবর্ধনা। অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা বর্ণনার পাশাপাশি নিজেদের উদ্ভাবনী শক্তি জনকল্যাণে ব্যবহারের প্রস্তাবও দেন। স্বেচ্ছাসেবীরা উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ সব কর্তৃপক্ষের সহায়তাও কামনা করেন।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য
অনুষ্ঠান শেষে আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। তাই উদ্ধারের জন্য কী ধরনের যন্ত্রপাতি প্রয়োজন তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। জিহাদকে উদ্ধারে ব্যবহৃত ক্যাচারটি সকলের পরামর্শেই বানানো হয়েছিল।’
ঘটনার সময় জিহাদের বাবাকে আটক এবং নির্যাতনের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘এ সম্পর্কে পুলিশ মহাপরিদর্শক ব্যাখ্যা দিয়েছেন।’

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যে টিউভয়েলের পাইবে জিহাদ পড়েছিল সেটি ওয়াসার নয়, রেলওয়ের। দুঃখের বিষয় একটি সময় পর্যন্ত আমরা রেলের কাউকে পাইনি। যাদের গাফিলতির কারণে জিহাদ মারা গেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। দোষীদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। এ বিষয়ে রেলমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘যে কোনো ঘটনার পরপরই উৎসুক মানুষের ভীড় জমে যায়। প্রচণ্ড ভীড়ের কারণে উদ্ধার কাজে ব্যাঘাত ঘটে। এতে উদ্ধরকর্মীরা ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনাস্থল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে। একটি এলাকায় কর্ডন করে দেয়া হবে। উদ্ধারকাজে সংশ্লিষ্টরা ছাড়া দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশে আর কেউ প্রবেশ করতে পারবে না।’

উদ্ধারকাজের ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের রেসকিউ সিন্টেম দুই ধরনের, এক- জীবিত উদ্ধার, দুই- জীবিত উদ্ধার সম্ভব না হলে মৃতদেহ উদ্ধার। ২৫৭ ফুট গভীরে গিয়ে যখন আমরা কিছু আর দেখলাম না তখন আমরা সবাই মিলে চিন্তা করলাম শিশুটি আর জীবিত নেই। তখন ফায়ারের ডিজিকে বলি, নিচের ময়লাবস্তু সরিয়ে উদ্ধারকাজ চালাতে। এখানে কথায় একটু ভুল বোঝা-বুঝি হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস, তাদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবী, সাধারণ স্বেচ্ছাসেবী মিলেই উদ্ধার কাজ চালিয়েছে।’

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত মোস্তফা বলেন, ‘উদ্ধার কাজে যারা অংশ নিয়েছিল, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাদের সহযোগিতা করেছিল।’ স্বেচ্ছাসেবীরা যে ক্যাচারটি ব্যবহার করে শিশু জিহাদকে পাইপ থেকে তুলেছিল তা তৈরি করা নিয়ে আগের রাতে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন তিনি।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান বলেন, ‘দেশে দুর্ঘটনা ঘটলে উদ্ধারকারীদের দলে স্বেচ্ছাসেবীদের কার্যক্রম ভুয়সী প্রশংসার দাবি রাখে। তাদের এ মানবিক কার্যক্রমকে আমরা সব সময় স্বাগত জানাই। আমাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দুর্যোগ মোকাবেলা কার্যক্রমকে আরো শক্তিশালী করতে চাই। কাঁধে কাঁধ রেখে কাজ করে প্রমাণ করতে চাই বাংলাদেশের মানুষ পারে।’






মন্তব্য চালু নেই